বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর তুরাগ নদী ও বৃহত্তর উত্তরা এলাকার খাল-জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা এবং বর্জ্য দূষণ প্রতিরোধে এক বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ২ অক্টোবর সকালে উত্তরা কামারপাড়া ব্রিজের পাশে বাংলাদেশ নদী পরিবেশ রক্ষা অধিকার সোসাইটি (ঢাকা মহানগর উত্তর) এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর পাড় এবং সংলগ্ন খাল থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা পরিষ্কার করেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে নদী ও জলাশয়ে বর্জ্য না ফেলার অনুরোধ জানিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম রবি। তিনি বলেন, "বিগত ১৫ বছর ধরে আমাদের সংগঠন নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করে আসছে। এরই মধ্যে দেশের সাতটি ছোট-বড় নদী পরিষ্কার ও দূষণমুক্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নদীর তীরে প্রায় ২৫ লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। চলতি বছর আমাদের এক কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান।"
নদী ও খাল দূষণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "নদী দূষণের প্রতিক্রিয়া সরাসরি গিয়ে পড়ে আমাদের খাল-বিল ও হাওর-বাঁওড়ে। এর ফলে দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির পথে এবং মানবস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। উন্নয়ন প্রকল্প ও শিল্পকারখানার দূষণ কমাতে সরকারের কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন প্ল্যান (EPP) দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।"
কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মোছাম্মৎ বিলকিস সুলতানা, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান খান, দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান চৌধুরী।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, নদী ও পরিবেশ বাঁচাতে কেবল সরকারের ওপর নির্ভর না করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং স্থানীয় সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়া এখন সময়ের দাবি।
তুরাগ নদী ও উত্তরা সংলগ্ন জলাশয় রক্ষায় ক্লিন-আপ ড্রাইভ: ইপিএপি বাস্তবায়নের আহ্বান