হাত পা বেঁধে ছুরি দেখিয়ে হুমকি, ডাকাতির লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন দোনারুম্মা

হাত পা বেঁধে ছুরি দেখিয়ে হুমকি, ডাকাতির লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন দোনারুম্মা


টাইমস ২৪ ডটনেট: প্যারিসে থাকার সময় নিজের বাড়িতে এক ডাকাতির ঘটনায় জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে আঘাত করা হয়, বেঁধে রাখা হয় এবং ছুরি দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। ফরাসি রাজধানী প্যারিসের এভিনিউ মন্তেনিয়েতে অবস্থিত ফ্ল্যাটে ডাকাতরা ঢুকে পড়েছিল। ওই সময় পিএসজিতে খেলতেন ইতালিয়ান গোলকিপার। ডাকাতরা প্রবেশের পর তার ও তৎকালীন অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকা (বর্তমানে স্ত্রী) আলেসিয়া এলেফান্তের ঘুম ভেঙে যায়। ২০২৩ সালের সেই ডাকাতির ঘটনার লোমহর্ষক তথ্য প্যারিসের একটি ফৌজদারি আদালতে দুই দিনব্যাপী শুনানির সময় সামনে এসেছে। দোন্নারুম্মার সাক্ষ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, নাকল ডাস্টার দিয়ে তার মুখে আঘাত করা হয় এবং ছুরি দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। এই গোলকিপার যখন প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে খেলতেন, তখনকার ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটিতে বেশ কয়েকটি দামি ঘড়ি, গয়না, হ্যান্ডব্যাগ, নগদ অর্থ এবং একটি মার্সিডিজ ও একটি ল্যাম্বরগিনির চাবি চুরি হয়ে যায়। ২৯ বছর বয়সী এলেফান্তে জানান, সেফের পাসকোড দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি জানান যে তিনি কোডটি জানতেন না এবং সেফটি ফাঁকা ছিল। তিনি তদন্তকারীদের বলেন, ‘আমি মিথ্যা বলছি ভেবে তারা রেগে যায়। তারা আমার চুল ধরে টানে এবং তাদের একজন আমার উরুতে আঘাত করে। আমি অন্তঃসত্ত্বা বলার পরও তারা থামেনি।’ দোন্নারুম্মা তাদের পাসকোডটি দিয়েছিলেন, কিন্তু এলেফান্তের কথা মতোই সেটি ফাঁকা ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চার ডাকাত মই ব্যবহার করে ছাদ পর্যন্ত পৌঁছায়। তারপর ব্যালকনিতে নেমে এসে জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে।
পুলিশের ধারণা, জেলখানা থেকেই ইলিয়াস খেরবুশ এবং খিয়ান মামুনি এই ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল। তবে তারা দুজনই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ডাকাতদের দুজন ঘটনার সময় ১৮ বছরের কম বয়সী ছিল এবং শিশু আদালতে তাদের তিন ও চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য এক সন্দেহভাজন ২০২৪ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। তিনি ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও জানিয়েছিলেন যে সহযোগীদের চাপে পড়ে তিনি এ কাজ করেছিলেন। মোক্তার দিওপ অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়নি। মামলাটির বিচারকাজ এখনও চলছে।