মাখদুম সামি কল্লোল, টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের উন্মুক্ত জায়গা নতুন করে দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের বিরুদ্ধে। গত চার মাস ধরে টানা অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা না পেয়ে এবার দখলের সাম্প্রতিক চিত্র ও নথিপত্রসহ পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।
বুধবার ৭ অক্টোবর বিকেলে 'মাঠ, পার্ক, জলাধার দখলমুক্ত আন্দোলন'-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পরিবেশবাদীদের দাবি, পার্ক সংরক্ষণে সরকারের স্পষ্ট নীতি থাকা সত্ত্বেও রাজউক ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নীরবতা রহস্যজনক।
উন্মুক্ত স্থান দখল ও বাণিজ্যিকীকরণ
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের পূর্ববর্তী বেআইনি দখলকে বৈধতা দিতে রাজউক একটি 'ব্যবস্থাপনা চুক্তি' করেছে, যা প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী। এই চুক্তির সুযোগ নিয়ে পার্কের মাঠ ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং সাধারণ নাগরিকদের অবাধ প্রবেশাধিকার সংকুচিত করা হয়েছে। পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, ক্লাবের আয় বাড়াতে পার্কের উন্মুক্ত স্থানে একের পর এক বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলা ও খেলাধুলার জায়গা কমে আসছে।
আইন ও হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য
২০২৪ সালে এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, বিদ্যমান মাঠ ও পার্কে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু 'ব্যবস্থাপনা'র অজুহাতে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে আবারও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিগত সরকারের আমলে ক্লাবটি তৎকালীন মেয়র আতিকুল ইসলাম ও প্রশাসনের প্রভাব খাটিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত মাঠ ব্যবহারের চুক্তি ও দখলের সুযোগ পেয়েছিল। পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে রাজউক পার্কের দায়িত্ব নিজেরা নিয়ে অবৈধ স্থাপনা বন্ধ করলেও, কিছুদিন পর পুনরায় মাঠটি ইয়ুথ ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলেই নতুন করে দখলের মহোৎসব শুরু হয়েছে।
কার্যকর পদক্ষেপের দাবি: পরিবেশবাদীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক কোনো ব্যক্তিস্বার্থ বা ক্লাবের বাণিজ্যিক সম্পদ নয়; এটি নগরবাসীর উন্মুক্ত পাবলিক স্পেস। চার মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা রাজউক ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে অবিলম্বে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পার্কটিকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক: চার মাসে চারবার অভিযোগেও মেলেনি প্রতিকার