বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন মোঃমনজুর মোল্লা : রাজধানীর মেগা আবাসিক ও বাণিজ্যিক জোন ঢাকা-১৮ (উত্তরা, দক্ষিণখান, উত্তরখান, খিলক্ষেত, তুরাগ ও বিমানবন্দর) এলাকা বর্তমানে অপরাধ চক্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের জমি জোরপূর্বক লিখে নেওয়া, প্লট বেচাকেনায় কোটি টাকার চাঁদা দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের মহড়া এবং পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার—এ যেন এক ছায়াশাসনের চালচিত্র।
আমাদের টানা অনুসন্ধানের তৃতীয় পর্বে উন্মোচিত হচ্ছে ঢাকা-১৮ আসনের বিভিন্ন থানায় গ্রেপ্তার হওয়া অপরাধীদের তালিকা, মামলার তথ্য এবং চক্রগুলোর গোপন অপরাধের কৌশল।
১. জমি দখল ও বেচাকেনায় জোরজুলুম: উত্তরা ও দক্ষিণখান
দক্ষিণখান ও উত্তরখান এলাকায় জমি বেচাকেনা অথবা নতুন বাড়ি নির্মাণের খবর পেলেই হানা দেয় ভূঁইফোড় ‘রিয়েল এস্টেট সিন্ডিকেট’। শত শত বিঘা জমি ও খাস জমি ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে দখলের অভিযোগ উঠেছে এদের বিরুদ্ধে।
* অভিযোগের ধরন: জমি রেজিস্ট্রেশন বা বাড়ি বানাতে গেলে স্কয়ার ফিট মেপে নগদ টাকা দাবি, না দিলে রাতের আঁধারে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে জমি দখল।
২. কিশোর গ্যাং ও মাদক সিন্ডিকেটের হাতবদল
তুরাগ, খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপব্যবহার সবচেয়ে বেশি। রাত বাড়লেই উত্তরা ১১ থেকে ১৪ নম্বর সেক্টরের অলিগলি, তুরাগের সুইচ গেট ও খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় বসে মাদকের হাট (ইয়াবা, আইস ও ফেনসিডিল)। উঠতি বয়সের কিশোরদের কম দামে মাদক খাইয়ে পরবর্তীতে তাদের দিয়ে ছিনতাই, অস্ত্রের মহড়া এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধ করানো হচ্ছে।
থানাভিত্তিক গ্রেপ্তারের তালিকা ও মামলার খতিয়ান (সাম্প্রতিক তথ্য)
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অভিযানের পর একাধিক থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধীকে। নিচে আমাদের অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| থানা | গ্রেপ্তারকৃতদের নাম / পরিচয় | অপরাধের ধরন | মামলা/নথি তথ্য |
|---|---|---|---|
| তুরাগ থানা | • ফারুক (চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী)
• সহ কয়েকজন সক্রিয় ক্যাডার | চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টা | তুরাগ ও উত্তরা পশ্চিম থানা মামলা (নথিভুক্ত) |
| উত্তরখান থানা | • মাজাহারুল ইসলাম রায়হান (৪৫নং ওয়ার্ডের পদধারী)
• মো. রাকিব, মো. তানভীর খান, আব্দুর রহমান
• মো. সিফাত, মাহফুজুর রহমান, মো. আশিক, বকুল | অবৈধ বৈঠক, বিশৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজি চক্রান্ত | উত্তরখান থানা বিশেষ মামলা (ডিএমপি) |
| উত্তরা পশ্চিম থানা | • সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের ৩ সদস্য | ফুটপাত ও পরিবহন চাঁদাবাজি | উত্তরা পশ্চিম থানা মামলা |
| দক্ষিণখান থানা | • সাবেক এমপির ভাই রফিকুল ও সহযোগী ক্যাডাররা | জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও রাজনৈতিক প্রভাব | দক্ষিণখান থানা মামলা ও আটক রেকর্ড |
> অনুসন্ধানী নোট: গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে Penal Code (দণ্ডবিধি) এর ৩৮৫/৩৮৬ (চাঁদাবাজি), ৪৪৭/৪৪৭এ (জোরপূর্বক জমি দখল) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় মামলাসমূহ চলমান রয়েছে।
>
প্রশাসনের শক্ত বার্তা
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, "ঢাকা-১৮ এলাকা থেকে কিশোর গ্যাং, মাদকের ডিলার এবং জমি দখলদারদের মূল উৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান থামবে না। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে আদালতে চালান করা হয়েছে এবং পেছনের মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।"
(ঢাকা-১৮ আসনকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত রাখতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চূড়ান্ত অ্যাকশন ও নেপথ্যের কলকাঠি নাড়ানিদের মুখোশ খুলতে চোখ রাখুন আমাদের পরবর্তী চোখা অনুসন্ধানে...)
‘ঢাকা-১৮ আসনে চোখ রাখুন’ : জমি দখল, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের নেপথ্যে কার শক্তি?