১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপে জীবিত বৃদ্ধা

১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপে জীবিত বৃদ্ধা

টাইমস২৪ ডটনেট : নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃত ভেবে পরিবারের সদস্যরা শোকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি সরু ফাঁকা জায়গা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৬৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে।

চণ্ডিকা কুমারী শ্রেষ্ঠ নামের ওই নারী এতদিন পানি ও কাদার মধ্যে থাকা সামান্য বাতাসের জায়গায় বেঁচে ছিলেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, নেপালের নুওয়াকোট জেলার বেত্রাওয়াতি গ্রামের একটি ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে চণ্ডিকা কুমারীকে উদ্ধার করেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

উদ্ধারের পর তাকে সেনাবাহিনীর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনালের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, বন্যার পানির প্রবল স্রোতে চারতলা বাড়িটি ভেসে গিয়ে কাদামাটির মধ্যে আটকে যায়।

ধ্বংসস্তূপের আশপাশে তল্লাশি চালানোর সময় উদ্ধারকারীরা হঠাৎ ভেতর থেকে ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুনতে পান।

এরপর প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে উদ্ধারকারীরা বাড়িটির ধ্বংসস্তূপের ভেতরের একটি সংকীর্ণ জায়গায় চণ্ডিকা কুমারীকে খুঁজে পান।

সেখানে পানি ও কাদার মধ্যে সামান্য বাতাসের জায়গায় এতদিন বেঁচে ছিলেন তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনাল বলেন, তিনি চণ্ডিকার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরিবার তার মৃত্যুর আশঙ্কায় ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু করেছিল।

বেত্রাওয়াতি নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সেখানে কয়েকতলা ভবনসহ অধিকাংশ আবাসিক স্থাপনা ও বাজার কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। উদ্ধারকারীরা এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালজুড়ে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এখনো প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে, বন্যার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ ও সুড়ঙ্গ থেকে একাধিক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। ত্রিশূলী নদীর কাছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে একজন চীনা নাগরিককেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ওই এলাকায় প্রায় ৯০০ জন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।