সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ৩০ সদস্যের কমিটির কার্যকারিতা স্থগিত: শ্রম অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত নেতাদের

সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ৩০ সদস্যের কমিটির কার্যকারিতা স্থগিত: শ্রম অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত নেতাদের

টাইমস ২৪ ডটনেট: বাংলাদেশ জাতীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের (রেজি. নং-বি-১৮৬৪) নতুন গঠিত ৩০ সদস্যের কার্যকরী সংসদের কার্যকারিতা স্থগিত করেছে শ্রম অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন ফেডারেশনের সভাপতি শাহ মো. আবু জাফর ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন লিটু। শনিবার ২৪ অক্টোবর গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি সংগঠনের নেতৃত্ব ও কার্যকরী সংসদের বৈধতা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ অক্টোবর শ্রম অধিদপ্তর স্মারক (নং ৩৪০) জারি করেছিল। পরবর্তীতে এই আদেশের বিরুদ্ধে গত ৩ সেপ্টেম্বর শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন লিটু। পরে ৬ অক্টোবর সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনের পাশাপাশি হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ অক্টোবর শ্রম অধিদপ্তর ১টি স্মারক নম্বর ৩৬৩-এর মাধ্যমে আগের জারি করা আদেশটির (স্মারক ৩৪০) কার্যকারিতা স্থগিত ঘোষণা করে। এর ফলে মো. নাজিম উদ্দীন আলমকে সভাপতি ও মো. রেজাউল ইসলাম রাজুকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত ৩০ সদস্যের বিতর্কিত কার্যকরী সংসদের কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে যায়।
শ্রম অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে যৌথ বিবৃতিতে ফেডারেশনের সভাপতি শাহ মো. আবু জাফর ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন লিটু প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, “একটি বৈধ শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণে শ্রম আইন, বিধিবিধান ও সংগঠনের
গঠনতন্ত্র অনুসরণ করা অপরিহার্য। সংগঠন কখনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ চরিতার্থ করার মাধ্যম হতে পারে না। শ্রম অধিদপ্তরের আইনসম্মত এই সিদ্ধান্ত সংগঠনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক হবে।”
নেতারা আরও উল্লেখ করেন, ১৯৮৮ সালের ১২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন শ্রমিকদের স্বার্থ ও কল্যাণ রক্ষায় কাজ করে আসছে। দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে পরিবহন খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তারা বলেন, যেকোনো অভ্যন্তরীণ বিরোধ আইনসম্মত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া প্রয়োজন, যাতে শ্রমিকদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি না হয় এবং পরিবহন খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। একই সাথে, ভবিষ্যতে কোনো ট্রেড ইউনিয়নের কমিটি বা নেতৃত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সকল নথিপত্র, গঠনতন্ত্র ও শ্রমিকদের সদস্যপদ সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করার জন্য শ্রম অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।