চীনকে দীর্ঘদিন ধরে ‘বিশ্বের কারখানা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বিপুল শ্রমশক্তি, সস্তা উৎপাদন ব্যয় এবং রফতানিনির্ভর শিল্পের ওপর ভর করে দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে টাইমস ২৪ ডটনেট এর ফাতেমা নাসরিন।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে পূর্ব চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের ঘটনা দেশজুড়ে, এমনকি আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
চীনের অন্যতম বড় গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চ্যাংঝো শিংইউ অটোমোটিভ লাইটিং এ বছর ৪৪০ জন নতুন স্নাতককে নিয়োগ দিয়েছিল।
কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের মধ্যে ১০৭ জনকে ছাঁটাই করা হয়। কোনওি আগাম সতর্কতা ছাড়াই তাদের সামনে দুটি বিকল্প দেওয়া হয়, সামান্য ক্ষতিপূরণ নিয়ে চাকরি ছেড়ে দেওয়া, অথবা কারখানার উৎপাদন বিভাগে পাঠানো।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো হস্তক্ষেপ করে। পরে প্রতিষ্ঠানটি ‘ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা ও সহানুভূতির ঘাটতি’র কথা স্বীকার করে এবং নিজেদের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে।
কিন্তু এর কয়েক দিন পরই প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বছরের প্রথমার্ধে তাদের আয় প্রায় ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ৫ কোটি ৬৬ লাখ ইউয়ান লভ্যাংশ দেওয়ার অনুমোদনও দেওয়া হয়। অর্থাৎ চাকরি হারানো তরুণ স্নাতকের হাতে গেল ক্ষতিপূরণের চেক, আর শেয়ারহোল্ডাররা পেলেন লভ্যাংশ।
ঘটনাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমনীতি নিয়ে বিতর্ক ছিল না; অনেকের কাছে এটি দেশের বর্তমান চাকরির বাজারের গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল।