ই-সিগারেট বৈধতার উদ্যোগে উদ্বেগ, তরুণদের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

টাইমস ২৪ ডটনেট : ই-সিগারেট নিষিদ্ধ সংক্রান্ত ধারা বাতিলের প্রস্তাবকে ঘিরে জনস্বাস্থ্য ও তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর নেতারা। তাদের মতে, ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ধারা ২(গ) সংশোধনের মাধ্যমে ই-সিগারেটকে বৈধতা দেওয়া হলে দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়তে পারে এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। তামাকবিরোধী ১৮টি সংগঠন যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক। তিনি বলেন, ই-সিগারেটের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান নারী-পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং নবজাতকদের মধ্যেও ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। তিনি ই-সিগারেট নিষিদ্ধ রাখার ওপর জোর দেন।
বিশেষজ্ঞ আলোচনায় অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, ই-সিগারেট কম ক্ষতিকর—এমন দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশে যেখানে এই পণ্যের ব্যবহার খুবই সীমিত, সেখানে কেন এটিকে বাজারে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
একাত্তর টেলিভিশনের প্ল্যানিং এডিটর ও তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক সুশান্ত সিনহা বলেন, বিশ্বব্যাপী ই-সিগারেটকে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও দেশে তা সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধের ধারাও বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
সিএলপিএ’র হেড অব প্রোগ্রাম আমিনুল ইসলাম বকুল বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কার্যকর অবস্থান নিতে পারছে না। তিনি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান বহাল রাখার আহ্বান জানান।
পাবলিক হেলথ ল’ ইয়ার্স নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারকে ধাপে ধাপে তামাকের ব্যবহার কমাতে হবে এবং নতুন তামাকজাত পণ্য অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
তামাক বিরোধী জোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদ বলেন, ই-সিগারেটের ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। তাই তাদের সুরক্ষায় নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা জরুরি।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান বলেন, বর্তমানে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এটি বৈধতা পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ ফারহানা জামান লিজা এবং সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ইব্রাহীম খলিল।
আয়োজক সংগঠনগুলো জানায়, বিশ্বের ৪১টি দেশ ইতোমধ্যে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশেও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা জরুরি বলে তারা মনে করেন।



