topআন্তর্জাতিক

জ্বলছে তেহরান

ইরানে তেলের ডিপোসহ ৫ জ্বালানি স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলা

টাইমস ২৪ ডটনেট: যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ইরানের তেল পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। গত শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানী তেহরানের একটি বিশাল তেল সংরক্ষণাগারে (অয়েল স্টোরেজ) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ৫টি ‘জ্বালানি মজুত কেন্দ্রে’ সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে। এতে রাজধানী তেহরানজুড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেলের ডিপো থেকে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি তেহরানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কিছু অংশে মিশে গেছে। এর ফলে ইরানের রাজধানীর সব রাস্তা যেন ‘আগুনের নদীতে’ পরিণত হয়েছে। পুরো রাজধানী শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত রাস্তার পাশের সব ড্রেন বর্তমানে দাউ দাউ করে জ্বলছে।
বার্তা সংস্থা এপি কর্তৃক প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তেহরানের রাতের আকাশ আগুনের তীব্র আভায় লাল হয়ে আছে এবং বহুদূর থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই হামলার জন্য সরাসরি ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের’ যৌথ হামলাকে দায়ী করেছে। এই ডিপোটি তেহরানসহ উত্তরের প্রদেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আইডিএফ জানিয়েছে, আক্রান্ত এই কেন্দ্রগুলো সাধারণ জ্বালানি সরবরাহের জন্য নয়, বরং ইরানি সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে জ্বালানি বিতরণের কাজে ব্যবহৃত হতো। তাদের দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পঙ্গু করে দিতেই এই কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু বেছে নেয়া হয়েছে।
ইরানের সংস্কৃতি ও শিল্পবিষয়ক সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্ট ‘লিভিং ইন তেহরানের’ পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের একটি রাস্তার পাশে আগুন জ্বলছে। পুরো রাস্তার পাশ ঘেঁষে আগুনের লেলিহান শিখা দাউদাউ করে জ্বলছে। এর আগে, ইরানের তেল মন্ত্রণালয় তেহরানের পশ্চিমের আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ তিনটি এলাকায় জ্বালানি ডিপোতে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।


ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, ইরানের তেল স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলা যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়েছে এবং আমরা আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তেজনার মুখোমুখি হবো। ইসরায়েলের রেডিও ১০৩ ব্রডকাস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহেন বলেন, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর ক্ষতি করতে সাহায্য করবে; এমন সব লক্ষ্যবস্তুই আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। যুদ্ধের পরিকল্পিত সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা জানি, যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছি তা অর্জনের জন্য আমাদের কতটুকু সময় প্রয়োজন। যুদ্ধের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটছে। আমরা এমন পরিস্থিতিতে পড়তে চাই না যে, আরও এক বা দুই বছর পর আমাদের নতুন কোনও ধাপে যেতে হয়। জবাবে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি বলেছেন, ইরানে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেজন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আন্তর্জাতিক ভুল হিসাব-নিকাশ’ এবং এজন্য তাকে মাশুল গুনতেই হবে। তার আগ পর্যন্ত ইরান পিছু হটবে না। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লারিজানি বলেন, এখন ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যা হচ্ছে— তা আসলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভুল আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশের ফলাফল। তিনি ভেবেছিলেন, ভেনেজুয়েলায় তিনি যা করেছিলেন, এখানেও সেই একই মডেল প্রয়োগ করবেন এবং তা করতে গিয়ে তিনি নিজেই পড়েছেন ঝামেলায়। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত অচলাবস্থা তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন এখন নিজেদের ভুল হিসাবের কাদাজলে আটকা পড়েছে। তবে আমরা ট্রাম্পকে ছাড়ব না। যে ভুল তিনি করেছেন, সেজন্য তাকে মাশুল গুনতেই হবে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৭ জন। হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর, ৪২ জনের অবস্থা মাঝারি এবং ৭০ জন সামান্য আহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ইসরায়েলিদের বড় অংশ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় আহত হয়েছেন।


গত শনিবার রাতে ইরানের তেল স্থাপনায় প্রথমবারের মতো হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে, ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, তেল স্থাপনায় ইসরাইলের হামলার পর তেহরানে অ্যাসিড বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়েছে,তেলের গুদামে বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন, সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ও মেঘের মধ্যে প্রবেশ করে। ফলে বৃষ্টি হলে সেই বৃষ্টি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয় এবং তাতে অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। রোববার ভোরে এক বিজ্ঞপ্তিতে, মানবিক গোষ্ঠীটি তেহরানের বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছে, গত রাতের বোমা হামলার পর তাদের দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুস এবং ত্বকের রোগের ঝুঁকি রয়েছে।


এদিকে, প্রায় দশ ঘণ্টা পার হয়ে সকাল হওয়ার পরও এখনও আগুনে জ্বলছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ফার্সি বিভাগ। এনজিওটি তেহরানের বাসিন্দাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বৃষ্টি থামার পরেও তারা যেন তাদের ঘর থেকে বের না হয় কারণ গরম মাটি বা পৃষ্ঠ থেকে অ্যাসিডের ফোঁটা বাষ্পীভবনের ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের বাতাসে বিষাক্ত পদার্থের ঘনত্ব কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, তাদের খাবার যেন পরিষ্কার করা হয়, এমনকি যদি তা সিল করা থাকে, কারণ কন্টেইনারের দেয়ালে থাকা অণুবীক্ষণিক অ্যাসিডিক কণা খোলা হলে তা দূষিত করতে পারে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নাগরিকদের সম্ভব হলে তাদের জল পরিশোধন ব্যবস্থা প্রতিস্থাপন করতে বলেছে, কারণ বিষাক্ত জল পুরানো ফিল্টারগুলিকে ধ্বংস করতে পারে। ভয়াবহ ফুটেজে দেখা গেছে যে উত্তর-পশ্চিম তেহরানের শাহরান তেল ডিপো থেকে একটি বিশাল আগুনের কুণ্ডলী জ্বলছে যা রাতের আকাশকে গ্রাস করে ফেলছে। শনিবার দিবাগত রাতে প্রথমবারের মতো ইরানের তেলের ডিপোগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। অন্তত ৩০টি তেলের ডিপো ধ্বংস হয়েছে। এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। হামলা হয়েছে একটি পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টেও।


ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ন্ত্রণে নিতে দেশটিতে ‘স্পেশাল ফোর্স’ পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই বিশেষ অভিযানে শুধু মার্কিন বা ইসরাইলি বাহিনী অংশ নেবে, নাকি এটি একটি যৌথ অভিযান হবে সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মিশনটি সম্ভবত হামলার ‘পরবর্তী ধাপে’ বাস্তবায়িত হবে। দুই দেশ যখন নিশ্চিত হবে যে ইরানের সামরিক বাহিনী আর কোনো জোরালো প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার সক্ষমতা রাখে না, তখনই এই কমান্ডো অভিযান চালানো হতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদন মতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজিরও বেশি (৮৮২ পাউন্ড) ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। তবে এই বিশাল মজুতের বর্তমান অবস্থা বা অবস্থান নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকরা সর্বশেষ গত ১০ জুন এই ইউরেনিয়াম পরিদর্শন করেন। এরপর থেকে এর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ইরানের এই পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করতেই এখন বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।


ইসরাইল ও যুক্তরষ্ট্রের যৌথ হামলার পর তেল আবিবের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। সংঘাতের নবম দিনে তেহরানের হামলায় চারজন নিহতের খবর দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের মোট চারজন নাগরিক নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের নির্লজ্জ আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে’ সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৩৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১ হাজার ৪২২টি ড্রোন এবং আটটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছে।


মন্ত্রণালয় আরও জানায়, রোববার ১৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১৭টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১৩টি ড্রোনকে বাধা দেয়া হয়েছে। আর একটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি ড্রোন সমুদ্রে পড়েছে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রায় নয়দিন পর ইরান নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করেছে। এদিন ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টের সদস্য আহমাদ আলামোলহোদা জানিয়েছেন, নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তিনি নাম প্রকাশ করেননি। আহমাদ আলামোলহোদার বরাতে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য ঐক্যমত্যে পৌঁছেছেন, কিন্তু এখনো কিছু প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। এখন বাকি প্রক্রিয়া নির্ভর করছে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট সচিবালয়ের প্রধান হোসেইনি বুশেহরির, যিনি এই বিষয়ে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।


ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান চায় সৌদি আরব। তবে ইরান যদি তাদের ভূখণ্ড ও জ্বালানি খাতের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে তাহলে রিয়াদও পাল্টা জবাব দেবে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত চারটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানকে রিয়াদ এই বার্তাটি পাঠায় শনিবারের আগে। পরবর্তীতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে হামলা না হলে, আর পাল্টা হামলা না করার আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে তেহরানের চালানো হামলার জন্য ক্ষমা চান।
রয়টার্স জানিয়েছে, এর দুই দিন আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে কথা বলেন। সূত্রগুলো বলছে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানায় যা উত্তেজনা কমাতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সৌদি আরব বা অন্য কোনো উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর বিমান হামলা চালানোর জন্য তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়নি। প্রিন্স ফয়সাল সতর্ক করে আরও বলেন, যদি সৌদি ভূখণ্ড বা জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিতে বাধ্য হতে পারে। একইসঙ্গে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চলতে থাকলে রিয়াদও পাল্টা হামলা চালাতে পারে।


সূত্রগুলো আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরব তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো জবাব দেয়নি।


ইরানের ১৬টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। রোববার এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলো ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কুদস বাহিনীর। শনিবার রাতে ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী (আইএএফ)। সেই অভিযানেই বিমনগুলো ধ্বংস হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এ প্রসঙ্গে ইরান কিংবা আইআরজিসির পক্ষ থেকে এখনও কোনো দাপ্তরিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।


কুদস বাহিনী বা কুদস ব্রিগেড আইআরজিসির বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিগেড। নিয়মিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা দায়িত্বের পাশপাাশি হিজবুল্লাহ, হামাস-সহ মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করাও কুদস ফোর্সের বিশেষ দায়িত্ব। মেহরাবাদ বিমানবন্দরটিও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি কেবল কুদস ব্রিগেডের ব্যবহারের জন্য এবং এই বিমানবন্দর দিয়েই সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও রসদ সহায়তা প্রদান করে কুদস ফোর্স।
এদিকে ইরান যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো ধরনের সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন তিনি।


রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনায় আগ্রহী নন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুদ্ধ তখনই শেষ হতে পারে, যখন তেহরানের আর কার্যকর কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না বা ক্ষমতায় কোনো নেতৃত্ব অবশিষ্ট থাকবে না। সংঘাতের অষ্টম দিন শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদেরকে ট্রাম্প বলেন, যদি ইরানের সম্ভাব্য সব নেতা নিহত হন এবং দেশটির সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে আলোচনার প্রশ্নই আর থাকবে না। ট্রাম্প বলেন, একসময় এমনও হতে পারে যে ‘আমরা আত্মসমর্পণ করছি’ এটা বলার মতো কেউই আর বেঁচে থাকবে না।


তবে এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের তথা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টের সদস্য আহমাদ আলামুলহোদা বলেছেন, নতুন নেতাকে নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রোববার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আহমাদ আলামুলহোদা জানান, এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বিষয়টি নির্ভর করছে বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রধান হোসেইনি বুশেহরির ওপর। তিনিই শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে ঘোষণা করবেন। এর আগে গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন। এরপর দেশটিতে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব বিশেষজ্ঞ পরিষদের ওপর ন্যস্ত। গত ১ মার্চ ইরানের সংবাদমাধ্যমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনেও বলা হয়. ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’। দুটি মার্কিন সূত্র ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ভোরে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা চালানোর সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।


ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় খামেনি ও তার শীর্ষ সহযোগীরা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলি শামখানি ও ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর। ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হামলার ঠিক আগে শামখানি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলি লারিজানির সঙ্গে খামেনি একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন

 

Related Articles

Back to top button