গাজীপুরের গাছা থানা এলাকায় চাঁদা না দেয়ায় ব্যবসায়ীর পা কেটে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: গাজীপুরের গাছা থানা এলাকায় চাঁদা না দেয়ায় এক ব্যবসায়ীর পা কেটে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ওই নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ীর নাম মো. ওয়াসিম। স্থানীয় ছাত্র নেতা পরিচয়ধারীর দাবি করা চাঁদা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তারই নির্দেশে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যবাসায়ীর পায়ে ধারালো অস্ত্র ও লোহার পাইপ দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার পর জীবন বাঁচাতে একটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলিনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী মো. ওয়াসিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী মুন্নী আক্তার, মা-বাবা ও দুই সন্তান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. ওয়াসিম অভিযোগ করে জানান, চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য নাজমুল, অপু, ইকবাল, ফরমান আসিফ, রনি, গোলাম রব্বানী, হামজা, কিং নাসির, হামীম ও ইমনসহ আরও আট-দশ জন সন্ত্রাসী ব্যবসায়ী ওয়াসিমের উপর ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ ও লাঠি-সোটা নিয়ে হামলা চালায়। এর আগে হামলার নেপথ্যের কারিগর গাজীপুর মহানগর ছাত্র দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম মোমিনুর রহমান তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেছিলেন।
তিনি আরও জানান, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে অঙ্গহানির করার পর হামলার নেপথ্যের হুকুমদাতা গজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম মোমিনুর রহমান ফেসবুকে হামলাকারীদের বিচার দাবি করেন। তবে অন্তরালে তিনি ব্যবসায়ীর উপর হামলার ঘটনায় কোনো মামলা না নিতে থানা পুলিশকে প্ররোচিত করেন। তিনি আহত অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় থাকায় তার স্ত্রী বার বার থানায় গিয়েও পুলিশের কোনো সহমর্মীতা পাননি। তারা কোনোক্রমেই মামলা নেয়নি। উপায়ন্তর না পেয়ে গত ৮ এপ্রিল আদালতে একটি মামলা করেন। মামলা হওয়ার পরও আসামীরা গ্রেপ্তার হওয়ার পরিবর্তে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তার পরিবারকে নানা ধরণের হুমকি দিচ্ছে। গাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী এসএম মোমিনুর রহমান পূর্বে নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা করতে হলে তাকে চাঁদা দিতে হবে বলে জানিয়েছিলেন।
ব্যবাসায়ীর স্ত্রী মুন্নি আক্তার বলেন, তার পরিবারে বৃদ্ধ শাশুড়ি, শারীরিক প্রতিবন্ধী স্বামী-স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বর্তমানে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাই তারা আর্থিক ও মানুষিক সংকটে পড়েছেন। এসএম মোমিনুল রহমান গাজীপুর মহানগরের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি হয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। যার কারণে ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। তার বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানান তিনি।



