বাংলাদেশ

মুন্সীগঞ্জে নির্যাতনে নিহত পিতার হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সন্তানদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের চর-বাংলাবাজারে পূর্ব শত্রুতার জেরে নির্যাতন চালিয়ে মনির মোল্লাকে হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারে তদন্ত কর্মকর্তা উদ্যোগ গ্রহণ না করায় ন্যায্য বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে আসামীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী, স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন নিহতের সন্তানরা।
গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬ ইং) বেলা ১২টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান নিহতের তিন সন্তান, মো. তমিজ মোল্লা, মো. তাইজুল মোল্লা, মো. শ্যামল মোল্লা ও নাতনি আনজুম আরা।
লিখিত বক্তব্যে মো. শ্যামলা মোল্লা জানান, তার পিতা মনির মোল্লা পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তিনি বাড়িতে থেকে গরুর দুধ বিক্রি ও সামান্য জমি চাষাবাদ করতেন। গত ৪ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমার বাবা ও মায়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। প্রতিবেশী নিজাম মিজি ঝগড়া মিটিয়ে দেয়ার কথা বলে তার বাড়িতে বাবা-মাকে ডেকে নেয়। নিজাম মিজির সাথে পূর্বের বিরোধ ও শত্রুতা ছিল, যা মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বাড়িতে ডেকে নিয়ে নিজাম মিজি বাবার সাথে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে কাঠের ডাসা দিয়ে বেদম পোটাতে থাকে। বাবা তা প্রতিহত করতে গেলে সেখানে উপস্থিত খোরশেদ আলম ওরফে খুইশ্যা মাঝি (৪০), বিলকিস বেগম (৫০), নিশি বেগম (২৫), ও ইতি আক্তার (২৩) এলোপাথারী কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দিয়ে তাকে হত্যা করতে নিজাম মিজি অন্ডকোষে জোরে আঘাত করে অজ্ঞান করে ফেলে। আমার মা বাবাকে উদ্ধার করতে গেলে বিলকিস বেগম মায়ের চুল ধরে চর থাপ্পর মারতে থাকে ও টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। খোরশেদ আলম ওরফে খুইশ্যা মাঝির লাঠির আঘাতে বাবা রক্তাক্ত ও জখম হন। বাবার আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন ও চিকিৎসার জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অন্ডকোষে আঘাত করায় তার প্রসাবের রাস্তা দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে এবং ধীরে ধীরে তার শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তখন ওই হাসপাতালের ডাক্তাররা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে আনা হলেও তার অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে। পরে গত ৫ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ছোট ভাই তাইজুল মোল্লার ঢাকার ডেমরা থানা এলাকার বাসায় তার মৃত্যু হয়। ডেমরা থানা পুলিশ ডিজিমূলে (জিডি নং-৩২২, তাং-০৫/০৩/২০২৬ ইং) বাবার মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ও ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করে।
তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতরা পূর্ব শত্রুতা ও মতবিরোধের জেরে পরস্পর যোগশাজসে বাবাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং- ১৮, তারিখ: ০৭/০৩/২০২৬ ইং)। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরুল নামের আসামী পক্ষের এক নারীর প্ররোচনায় আসামীদের গ্রেপ্তার করছে না। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানান তিনি।

Related Articles

Back to top button