ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র!

ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র!


টাইমস ২৪ ডটনেট: যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ইরানের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ও জ্বালানি খাতে নতুন করে হামলার বিকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে অতিরিক্ত সামরিক অভিযানের বিকল্প প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বা পরে এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দায়িত্বাধীন অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগেই এসব হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 
পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের গভীরে অবস্থিত একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা। ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের ধারণা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু সরঞ্জাম সেখানে রাখা হয়েছে। তবে ভূগর্ভস্থ শক্ত গ্রানাইট পাথরের গভীরে অবস্থিত স্থাপনা ধ্বংস করতে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি বৃহৎ অ-পারমাণবিক বোমা। জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত এই বোমাটি মূলত বিশাল এলাকাজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণ ও ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টির জন্য তৈরি করা হয়েছে। বোমাটির বিস্ফোরণে বিস্তৃত এলাকায় স্থাপনা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তবে এটি গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ভেদ করে ধ্বংস করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি নয়। ফলে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের মতো গভীর ও শক্ত পাথরে সুরক্ষিত স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সামরিক পরিকল্পনায় এই বোমা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় আসার পেছনে ব্যাপক ধ্বংসক্ষমতার পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি এবং বিস্তৃত এলাকায় লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের বিষয়টিও ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা কিংবা বেসামরিক স্থাপনার কাছাকাছি ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহার করা হলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের হামলায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পরিকল্পনাটি এখনো সামরিক বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে কি না, নাকি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার কার্যকারিতা, বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।