মতামত

হৃদয়ের বোবা কান্না

সৈয়দা রাশিদা বারী

কারো ভালোবাসার জিনিস, প্রিয় শ্রদ্ধার জিনিস কেউ অসম্মান অশ্রদ্ধা অবহেলা করতে হয় না। হয়তো জড় পদার্থ জিনিসরা কথা বলতে পারে না কিন্তু এর রিঅ্যাকশন থাকে। মহান আল্লাহর তরফ থেকে থাকে। আমার বহুভাষায় শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতি এবং শিক্ষায় পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব, শিল্পপতির পুত্র শিল্পপতি দাদার, নেশা ছিলো গ্রন্থ পড়ার এবং কেনার। বহু সম্পত্তিও তিনি তার সন্তান ও প্রজন্মদের জন্য করে রেখে গিয়েছিলেন। সেই দাদার আটচালা এক টিনের ঘরে নির্মিত, তার আন্তর্জাতিক প্রিয় লাইব্রেরি ছিলো! তার মৃত্যুর পরে গ্রন্থ গুলো মহিষের গাড়িযোগে, কিছু তারই নির্মিত জলাশয় জুলাই মানে জলে ঢেলেছিলো! আর কিছু তারই কবরের পাশে বড় বড় কবর খুজে কবর দিয়েছিলো!! এটা কি ঠিক করেছিলো এবং সমচিন ছিলো ওই কর্মকান্ড করা!!?? যার বাগান জোড়া ছিলো টিনের মাচা, লন্ডন থেকে আনা বিশ ফুটে টিন! দুই চার গ্রাম ব্যাপী পূজা ঈদ বিয়ে মুসলমানি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য এমনিই নিয়ে যেত, সেই সমস্ত টিন এবং বিশাল বিশাল অগণিত শাল কাঠের খুঁটি!! অনেকগুলো নানান রকম ঘর এবং আরো কয়েকটি আটচালা টিনের ঘরের বিশাল আঙ্গিনায জঙ্গল ছাড়াও, বড় বড় কাঠের গাছ ছাড়াও ২/৪ বিঘা জমি নিয়েছিল বাঁশের ঝাড়!! মাঠের জমা জমি চাষ করে ২/৪ গ্রামবাসী মানুষরাই করে খেত! আত্মসাৎও করেছিল‌। এখনো কিছু আত্মসাৎ করা আছে। সেই পরিবারে অভাবের গুষ্টিও ছিলো না। এখন কেউ যদি ঘরে চাউল ডাউল ব্যাংক এ টাকা করি থাকতেও রান্না করে না খায়, তার কথা আলাদা। গ্রন্থগুলো ফেলেছিল মানে মূলত সেটাই করেছিলো। আমি তাদের হতভাগা অধম বিধম হুক্কতা মূর্খ বলব না‌। কি বলা যায় সে ভাষা আমার জানা নাই! বিশাল আঙিনা ঘেরা বাড়ি। বিশাল জায়গার সমারোহ। অন্তত ওই রকম বড় বাংলো বাড়ি বা জায়গার বাড়ি সাধারণত কোথাও কারো নাই! তারপরও তিনি নাকি বলতেন আমি মারা গেলে, তোমরা আমার লাশ যা খুশি করিও। জায়গা না দিলে ফেলে দিও। কিন্তু আমার গ্রন্থগুলো ফেলিও না। গ্রন্থগুলো ফেলে ঘরটি ফাঁকা করিও না। ওদের জায়গা কেও নিও না। আমার প্রিয় গ্রন্থগুলোর, ওদের জায়গা ওদেবই রেখো। তবুও বলুন এই কাজ করার কি দরকার ছিলো?? কি প্রয়োজন ছিলো তার প্রিয় গ্রন্থগুলো তারই কবরের পাশে কবর দেওয়ার??!! রক্ষণাবেক্ষণে হয়তো পর্দায়ক্রমে আরো খরচ হতো খরচ লাগতো। কিন্তু সেটা করাতে তো সমস্যা ছিলো না অভাব তো ছিলো না। ঐতিহ্য রক্ষা করার ক্যাপাসিটি ওই পরিবারের ছিলো। যা তারই নিজস্ব জিনিস সম্পদ সম্পত্তি। যার একটা অংশ ওই লাইব্রেরী ওই দুর্লভ গ্রন্থ গুলোর গ্রন্থাগারের পিছনে দিলেই সমস্যা ছিলো না। কারোরই কোন ক্ষতি হতো না। এতকিছু করেও মারা গেলে কি তার নিজস্ব ইচ্ছার কোন মূল্য, প্রাপ্তি কিছু থাকে না? পরিবারের পক্ষ থেকে কি সেই প্রাপ্তি দেবেনা? আমি জানিনা! এই অন্যায় কাজের জন্যই নাকি কেন হলো, এরপর থেকে তার পরবর্তী প্রজনন ফ্যামিলির কেউ না কেউ ….! থাক বলতে চাই না বলবোও না। কেন না বললে, উল্টো বুঝাবুঝি হবে। যা প্রটেকশন দেবার সময় হাতে নাই। এনার্জিও নাই। বিস্মৃত ব্যথা, মনের কষ্ট, মনেই রয়ে যাক। নিরবে নিভৃতে, নিভৃতচারী অসহায় হয়ে, হৃদয়ের বোবা কান্না হৃদয়েই আটকিয়ে মরুক। চিরকাল আটকা থাক‌।।

২৭.৬.২০২৬ ইং, সকাল ১১টা, শনিবার।

Related Articles

Back to top button