বাংলাদেশ

অনুমোদন অমান্য করে নির্মিত ১১ তলা ‘রোজ ভ্যালি’ ভবন, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

রানা মিয়া, উত্তরা প্রতিনিধি: রাজধানীর খিলখেত উত্তরপাড়া এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদিত নকশা ও বিল্ডিং কোড অমান্য করে ১১ তলা পর্যন্ত বহুতল ভবন নির্মাণ এবং সেখানে বসবাস শুরু হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ, ইউনিট সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সেটব্যাক লঙ্ঘনের কারণে ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ভবনটির দাগ নম্বর ৩১৫৮ ও ৩২০৯। অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনটির জন্য রাজউক থেকে ১০ তলা পর্যন্ত অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে ১১ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে ফ্লোর প্ল্যানে পরিবর্তন এনে অতিরিক্ত ইউনিট নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতি ফ্লোরে অনুমোদিত ৪টি ইউনিটের পরিবর্তে ৬ থেকে ৭টি ইউনিট নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ভবনের অভ্যন্তরীণ নকশায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং অনুমোদিত পরিকল্পনার বাইরে অতিরিক্ত ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া ভবন নির্মাণে নির্ধারিত খোলা জায়গা (সেটব্যাক) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নকশা বহির্ভূতভাবে ভবনের কাঠামো সম্প্রসারণের ফলে চারপাশের প্রয়োজনীয় খোলা স্থান সংকুচিত হয়েছে।

অভিযোগে ভবনটির মালিক হিসেবে আব্দুর রশিদ গং, ইমদাদ, আব্দুল মালেক ও শাহ আলমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভবনের মালিকপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “ভবনটি সম্পূর্ণ নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সেখানে মানুষ বসবাস শুরু করেছে। কিন্তু অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব নির্মাণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে বলে আমরা মনে করি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালে একাধিকবার আপত্তি উঠলেও তা আমলে না নিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে ভবনটিতে একাধিক পরিবার বসবাস করছে।

এলাকাবাসীর মতে, অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ, ইউনিট সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সেটব্যাক লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুত হয়ে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ, ইউনিট সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সেটব্যাক লঙ্ঘন গুরুতর বিল্ডিং কোড লঙ্ঘনের শামিল। এ ধরনের অনিয়ম কাঠামোগত নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

Related Articles

Back to top button