টাইমস২৪ ডটনেট: ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীদের দমনে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান ‘ডন অব ইয়েমেন’ (ইয়েমেনের ভোর) পরিচালনা করছে দেশটির সেনাবাহিনী। সেই অভিযানের আওতায় মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৪৪০ জন হুথি যোদ্ধা ও কমান্ডার ‘নিষ্ক্রিয়’ (নিহত বা আহত) হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল নুজাইলি। এক্সবার্তায় তিনি বলেছেন, ২৪ ঘণ্টায় হুথি বিদ্রোহী এবং তাদের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ১ হাজার ২৯৮টি আঘাত হেনেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। সেসব আঘাতেই নিহত হয়েছেন এই হুথি যোদ্ধা ও কমান্ডাররা। যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও কামান ব্যবহারের মাধ্যমে হুথি যোদ্ধা ও কমান্ডারদের ‘নিষ্ক্রিয়’ করার পাশপাশি তাদের অবস্থান ও জমায়েত কেন্দ্র, শক্তিশালীকরণ ইউনিট, সামরিক যান এবং একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপন কেন্দ্রকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ অভিযানে হুতিদের ১৩২টি সামরিক যান, সাঁজোয়া যান এবং ভারী অস্ত্র ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও এক্সবার্তায় লিখেছেন কর্নেল নুজাইলি। স্থানীয় প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সহায়তায় সরকারি বাহিনী তাইজ প্রদেশের সানামাত এলাকাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে উল্লেখ করে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, “সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট হুতিদের গতিবিধি ও নতুন করে আসা শক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ফ্রন্টে হুতিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টাও ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে, আর অন্যান্য এলাকায় লড়াই এখনো চলছে।”
“আল-জউফ প্রদেশে সামরিক প্রকৌশল ইউনিটগুলো পুনরুদ্ধার করা এলাকাগুলো থেকে স্থলমাইন ও পেতে রাখা বিস্ফোরক (বুবি ট্র্যাপ) অপসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে এলাকাগুলোকে নিরাপদ করা যায় এবং মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।”
মুখপাত্র আরও জানান, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রন্টেও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে; সেখানে সরকারি বাহিনী হুতিদের বিভিন্ন অবস্থান, যানবাহন ও গোলাবর্ষণের কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি বাহিনী তাদের অভিযান পরিচালনার সময় বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করছে।
২০১৪ সালে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল এবং রাজধানী সানা দখল করে হুথি বাহিনী। পরের বছর থেকে সৌদি আরবের সহযোগিতায় দখলকৃত অঞ্চল উদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
তারপর দীর্ঘদিন ধীর লয়ে এগিয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরাকর প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের অধীন সেনাবাহিনী।
তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর হুথি-ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সংঘাতও নতুন করে উসকে ওঠে। তার ধারাবাহিকতাতেই গত ৫ অক্টোবর থেকে ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি।