বিআইডব্লিউটিসির বহরে যুক্ত হলো বিলাসবহুল জাহাজ ‘এমভি রূপসা’ ও ‘এমভি সুগন্ধা’

মাখদুম সামি কল্লোল: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে আধুনিক ও আরামদায়ক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) বহরে যুক্ত হয়েছে দুটি নতুন বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ— এমভি রূপসা ও এমভি সুগন্ধা।
সোমবার ১৬ মার্চ রাজধানীর লালকুঠি ঘাটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাহাজ দুটি উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান, এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী (এনডিসি)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মোঃ সলিম উল্লাহ (অতিরিক্ত সচিব)।
একই অনুষ্ঠানে ইতোপূর্বে চার্টারে দেয়া এমভি মধুমতি জাহাজটিকেও আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা–বেতুয়া রুটে যাত্রী পরিবহনের জন্য নিয়োজিত করা হয়। মধুমতি ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবে রাত ৯টায়, বেতুয়া থেকে ছেড়ে আসবে বিকাল ৫টায়।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, সংস্থার চেয়ারম্যান মোঃ সলিম উল্লাহ ২০২৫ সালের ৬ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কর্পোরেশনকে আধুনিক, কার্যকর ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন। এর অংশ হিসেবে নতুন জাহাজ সংযোজনের পাশাপাশি পুরোনো জাহাজগুলোর সংস্কার কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে ‘বঙ্গতরী’ ও ‘বঙ্গমাতা’ নামে দুটি জাহাজ ২০১৭ সালে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে তা দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। পরবর্তীতে সেগুলো পুনঃনামকরণ করে রূপসা ও সুগন্ধা নামে যাত্রীসেবায় যুক্ত করা হয়।
জাহাজ দুটি চার্টারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এর মধ্যে এমভি রূপসা পরিচালনা করবে মেসার্স এ চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ, যার মাসিক চার্টার ভাড়া ১৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে এমভি সুগন্ধা পরিচালনা করবে এভারমার্ক লিমিটেড, যার মাসিক চার্টার ভাড়া ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
নতুন জাহাজ দুটি ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট থেকে হাতিয়া রুটে চলাচল করবে। এমভি সুগন্ধা প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সদরঘাট থেকে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং নলছেঁড়া, হাতিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। অন্যদিকে এমভি রূপসা প্রতিদিন দুটি ট্রিপ পরিচালনা করবে—সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সদরঘাট থেকে হাতিয়া এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় হাতিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে।
জাহাজ দুটি নির্মাণ করেছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা RINA কর্তৃক শ্রেণিবদ্ধ। প্রতিটি জাহাজে সর্বোচ্চ ৭৬৪ জন যাত্রী এবং ৪৪ জন ক্রু বহনের সক্ষমতা রয়েছে। জাহাজগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৪.২২ মিটার এবং প্রস্থ ১২.৫ মিটার। সর্বোচ্চ গতি প্রায় ১২ নট।
প্রতিটি জাহাজে ইয়ানমার নির্মিত 6N21A-SW মডেলের দুটি প্রধান ইঞ্জিন রয়েছে, যার প্রতিটির ক্ষমতা ১২০০ হর্সপাওয়ার। এছাড়া প্রপালশন সিস্টেমে টেইনব্রিজ নির্মিত ফিক্সড প্রপেলার এবং জাপানের কানজাকি কোম্পানির গিয়ারবক্স ব্যবহার করা হয়েছে।
জাহাজ দুটি দেশীয় নকশা অনুসরণে নির্মিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশীয় শিপইয়ার্ডে এমন জাহাজ নির্মাণ সম্ভব হওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানি করার প্রয়োজন পড়েনি এবং এতে নির্মাণ ব্যয়ও সাশ্রয় হয়েছে।
নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য জাহাজ দুটিতে আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাডার, জিপিএস, ইকো সাউন্ডার, স্পিড লগ, চার্ট প্লটার এবং ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা।
বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নতুন এই জাহাজ দুটি অভ্যন্তরীণ নৌপথে নিরাপদ, আধুনিক ও আরামদায়ক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করবে পাশাপাশি পর্যটনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



