তদন্তে সত্যতা মিললেও প্রতিকার পাননি অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী, খোকসার ইউএনওর বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

তদন্তে সত্যতা মিললেও প্রতিকার পাননি অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী, খোকসার ইউএনওর বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গোপগ্রাম ও বরোইচাড়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকার এবং নামজারি নিয়ে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী মোহাম্মদ পারভেজ মাসুম। তবে পারিবারিক বিরোধ ছাপিয়ে এবার খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খালিদ বিন মনসুরের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়ে অসহযোগিতা ও হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

উত্তরাধিকার থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ:

প্রবাসী পারভেজ মাসুমের অভিযোগ, তাঁর বাবা মরহুম এ কে এম ফজলুল হকের গোপগ্রাম, খোকসা উপজেলার পৈতৃক সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় ২০১৩ সালে চার উত্তরাধিকারীর মধ্যে তাকে ওয়ারিশ ফাঁকি দিয়ে  চাচা নুরুক হক আলম ও নুরুল হকের চাচাতো ভাই খোন্দকার আনিসুর রহমান ওয়ারেশ তথ্য গোপন করিয়া ষড়যন্ত্র ভাবে পারভেজ মাসুমের অংশের জমি বাকি তিনজনের (মা এবং বড় ভাই পারভেজ আনোয়ার এবং ছোট ভাই পারভেজ শফিকুল আজম) নামে ২/৯/২০১৩ তারিখে ২০৫ নং দলিল সম্পাদন ও রেজি: করিয়া সম্পত্তি বিক্রি করা হয়।  

প্রবাসী ১৪/৭/২০২৬ সালে সর্বশেষ দেশে এসে
 ৯/৮/২০২৬ তারিখে নাম খারিজের জন্য খোকসা উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করেন।

পরবর্তীতে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার ১৯/৮/২০২৬ তারিখের সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনে উত্তরাধিকারী হিসেবে পারভেজ মাসুমের নাম ওয়ারিশ গোপন করার বিষয়টি এবং নামজারি প্রক্রিয়ায় অসংগতির সত্যতা উঠে আসে।

প্রতিকার না পেয়ে আইনি জটিলতা:

তদন্ত প্রতিবেদনে শুনানির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও, ইউএনও খালিদ বিন মনসুর আবেদনটি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জমির দলিল আদালতের মাধ্যমে বাতিল করে আনার নির্দেশ দেন। প্রবাসীর দাবি, এতে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হওয়ার বদলে তাঁকে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

এ ছাড়া, আদেশের লিখিত অনুলিপি পাওয়ার জন্য তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কুষ্টিয়া ডি সি অফিসের রেকর্ড রুমে আবেদন করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি সেই আদেশের অনুলিপি হাতে পাননি।

নামজারি ও অন্যান্য জটিলতা:

বড়াইচাড়া এলাকার পৈতৃক সম্পত্তির নামজারি নিয়েও একই ধরনের বিরোধ চলছে। পারভেজ মাসুমের অভিযোগ, বণ্টন দলিল না থাকার অজুহাতে তাঁর নামজারির আবেদন বাতিল করা হয়েছে ইউএনও খালিদ বিন মনসুর দ্বারা অথচ সব শরিকের যৌথ নামজারির ক্ষেত্রে বণ্টন দলিল বাধ্যতামূলক নয়।

পাশাপাশি, তাঁর মেঝ চাচার সঙ্গে যৌথভাবে পাওয়া পৈতৃক সম্পত্তিতে কাজ করতে বাধা দেওয়া এবং রাজবাড়ী কিন্ডারগার্টেনের ভবনকে আবাসিক দেখিয়ে প্রয়াত দাদির নামে পৌরকর পরিশোধের মতো বিষয় নিয়েও প্রশাসনিক আচরণ ও সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি তার মেঝ চাচা নুরুল হক আলমের বিরুদ্ধে যিনি রাজবাড়ী কিন্ডারগর্টেনের প্রতিষ্ঠাতা।

পরিবারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ:

প্রবাসীর দাবি, ২০১৩ ও ২০২৩ সালে তাঁর মা আনোয়ারা হক, দুই ভাই এবং চাচা নুরুল হক আলম যোগসাজশ করে তাঁকে উত্তরাধিকার শরিকের তালিকা থেকে বাদ দিয়েই কুষ্টিয়ার খোকসা ও পাবনার চর ভবানীপুর এলাকার সম্পত্তি হস্তান্তর করেন। বিদেশে থেকেও পৈতৃক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

প্রবাসী পারভেজ মাসুমের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবারের বক্তব্য জানতে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে তাঁর ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী নিজেই।