আবু আফজাল সালেহ
তেপান্তরের নকশা এঁকে এলো শরৎকাল
নদীর ঢেউয়ে গাঁয়ের ছবি রঙিন নতুন পাল
শিউলি ফুলে মুখ লুকিয়ে দোয়েল বাজায় শিস
ধানের শীষে বাতাস মাখা মাতিয়ে ফিসফিস
নিশির শিশির পাতা শাখায় তৈরি করে গয়না
তাই না দেখে ছোট্ট বাবু ধরে আবার বায়না।
নীল আকাশটা হয়েছে যে আরও বড্ড নীল
বাতাস খেলায় মেঘের ওপর ওড়ে দুটো চিল
সোনারোদে করে ঝিলমিল,
কাশ বাগানে দুলে দুলে খেলছে কয়েক শালিক
কিশোর কিংবা কিশোরীরা স্বপ্ন বোনে অলীক
ফটিক জলে মাছের কিলবিল।
ঘাসের মাথায় শিশির মাখায় এলো শরৎকাল
বিশ্বজগৎ গড়ে ওঠে পেয়ে নতুন পাল
শীতের আগের রূপের রানি দেখায় জমকালো
দৃশ্য দেখে বিশ্ব বোনে অবাক চমকানো।
সৃষ্টি দেখে দিচ্ছে এঁকে বিরাট আল্পনা
সাঝের বেলায় রঙের খেলায় বড় জল্পনা
সবুজ ঘাসে শিশির ভিজে কড়া চিকিমিকি
সোনা রোদে সূর্যের আলো করে ঝিকিমিকি।
শিউলি ফুলে নকশা তুলে আঁকে নীল আকাশ
কাশের বনে ঢেউ তুলে বাঁকে ধীর বাতাস
ধানের শীষে গয়না পরে সৃষ্টি তেপান্তর
মনের কোণে ছবি ভাসে দৃষ্টি মতান্তর।
মেঘের ভেলা নীল আঙিনায়
বকের সারি বিল সীমানায়
আঁকাবাঁকা নদী,
রোদের আঁকায় চিকিমিকি
বাতাস হাঁকায় ঝিকিমিকি
শরৎ আসে যদি।
শরৎ হাসে নীল আকাশে
সাদা সাদা ঢেউ
কাশবাগানে শালিক-দোয়েল
লুকিয়ে থাকে কেউ।
শরৎ আসে শ্রাবণ শেষে
বাতাস তাড়ায় মেঘ
মন আনন্দে মেঘপরিরা
বাড়ায় গতি বেগ।
শরৎ এলে হৃদয় দোলে
খলখলিয়ে নদী হাসে
নীল আকাশে পাখি ভাসে
মেঘপরিদের ভেলায়,
চিকিমিকি চোখের কোলে
ঝিকিমিকি হৃদয় দোলে
ফুলপরিদের খেলায়।