সৈয়দা রাশিদা বারী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সকল নারীর পক্ষ থেকেও অভিনন্দন আমার প্রতিষ্ঠিত সবগুলো প্রতিষ্ঠান তথা সংগঠনসহ, সাধুবাদ এবং দোয়া রইলো! এদেশের মানুষের সকল সমস্যার সমাধান যেন তাকেই করার মহান আল্লাহ তৌফিক দেন। কারণ এদেশের প্রকৃত অভিভাবক শুভাকাঙ্ক্ষী দরদিজন যেহেতু এখন তো আর সবাই বেঁচে নেই। যে মহলটা কলিজার ধন তাদের এই দেশের জন্য আত্মত্যাগ নিবেদন করেছিলেন! অন্তত তাদের মধ্যের একজন দরদী পরায়ন অভিভাবকের প্রজন্ম তবু অভিভাবকহীন অসহায় দুঃখি দরিদ্র দেশটার হাল ধরেছেন! এটাই তো এদেশের মানুষদের অনেক বড় পাওয়া! শুধু আমার কথা নয় এই কথা রাস্তাঘাটে পথে পথে প্রান্তে তৃণমূল পর্যায় থেকে উদ্ধতন ব্যক্তিত্ববান ব্যক্তি সবাই বলে! সুইপার রিক্সাওয়ালা থেকে কবি সাহিত্যিক শিল্পী চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার সবার এই একই বক্তব্য! যাইহোক শুধু কন্যা হয়েছে, সেইসব বাবা-মায়ের পক্ষ থেকেও তারা কৃষ্ণ কমল কৃতজ্ঞতা এবং উষ্ণ অভিনন্দন পেশ করেছেন। ধরা যায় অন্তর থেকে ফুলেল শুভেচ্ছার ডালি প্রধানমন্ত্রীকে গিফট দিয়েছেন। তাদের তাকে প্রশংসা করার ভাষা নাই। ওই পর্যায়েও আরো কথা বলবো তবে প্রথমেই এই পরিসরেই যেটা বলছি, বলার জন্য নয়। কাউকে কষ্ট দিতে বা ছোট করার জন্যও নয়। মূলত সংশোধনের জন্য। জানার জন্য বোঝার জন্য ভালো হওয়ার রাস্তাঘাট খুঁজে বরং শেখার জন্য। ভালো হতে কিন্তু পয়সা লাগে না। পরিশ্রম এনার্জি সময় দিতে হয় না। লাগে না ধন সম্পত্তি। লাগে শুধু একনিষ্ঠ আন্তরিকতা ও পরিপূর্ণ দরদ। জন্মদাত্রী মায়ের মতন প্রেম ভালবাসা! অন্য কিছু কিছু পুরুষ উপলক্ষে বলার আছে কিছু কিছু। অবশ্যই সব পুরুষকে নয়। হুম সুযোগ পেলে পুরুষরা বোকাচোকা নারীদের বশ করে অথবা বিরুদ্ধে জোর জুলুম করে যেকোনো জায়গায় চটকায়। শরীরে গতরে চটকানোই শুধু চটকানো নয়। মন-মানসিকতাই চটকানোও চটকানো। শুধু হাত দিয়েই মারা যায় তা নয়, যেমন হাতানি দিয়েও মারা যায়। আর যে কোন জায়গা বলতে, যে কোন পরিস্থিতি ও অবস্থানে। তাই সুযোগ পেলে আমিও লেখালেখিতে ছাড়বো কেন? আমিও মজা নেব না কেন? পুরুষ সুযোগ নেয় হাতেনাতে। আমি সুযোগ নেই লেখালেখিতে। আমি প্রতিবাদ করি প্রতিশোধ নিই কলম দিয়ে। কলম দিয়েই ... মারবো এবং চটকাবো। তাই বলছি কাজকাম পাচ্ছে না এখন এইসব করছে! দেশে অরাজকতা সৃষ্টি! গ্যাস বিদ্যুৎ ইত্যাদি সহ প্রাইসেস! হঠাৎ ক্রাইসিস! ওদিকে আরো কত কি!যেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অযোগ্য তার প্রমাণ হয়! আবোল তাবোল দুর্নাম ঘটে ইত্যাদি। কিভাবে কোন ধান্দায় কার কাছ থেকে কি হাতিয়ে নেওয়া যায়? সব নারীর সাথে এসব করতে করতে বিদিশারও পিছু নিয়ে ঘোড় ছুট পর্যায়ে নাম ডাক হীন নারীদেরও ছাড়ছে না! মনে হচ্ছে বাহারামের বাহাদুরি! যেহেতু বিদিশা নারী। যেহেতু হিন্দু হোক বৌদ্ধ হোক তারাও নারী! অচেনা অজানা শিশু সেও নারী! মূলত নারী বলে কথা কিন্তু বিদিশা পূর্ব থেকেই পরনির্ভরশীল নয় আত্মনির্ভরশীল ছিলো। আর আমিও নারীর আত্মনির্ভরশীলতায় বিশ্বাসী এবং সে মরহুম কবি আবু বক্কর সিদ্দিকীর মেয়ে। আমি রাজনৈতিক হিসেবে নয়, রাজনীতি করিও না বুঝিও না। কিন্তু গুল্লা ছুট দেওয়া শয়তানি বুদ্ধি বুঝি! এই ক্ষেত্রে আমি শিশু না, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শিশু থাকলেও। আর রাজনীতি করি না তার মানে এই নয় আমি আমার দেশের উপরে অন্যায় দেখেও চুপ থাকবো। আবু বক্কর সিদ্দিকী কবি, এরশাদও কবি, আমিও কবি। তবে তাদের মত দেশের উপরে রাজনীতি না করার ফলে বড় কবি মহাকবি হয়েও হইনি লেখক কিংবা কবি। কারণ বেশ তো গণতান্ত্রিক নয়, মাননীয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেটা করতে চেয়েছিলেন ১০০ ভাগ প্রতিষ্ঠিত। তার তো সেটা করার ভাগ্য হলো না মৃত্যু তাকে গ্রাস করলো! হতভাগা দেশ তাকেও হারালো! এখনো এই বাংলাদেশ আসলে রাজনীতি তান্ত্রিক! দলনীতি তান্ত্রিক! আজ রাজনীতি না করার দোষে, তাদের মত না হলেও, মানুষ বলে আমিই আসল প্রকৃত লেখক কবি ও সাহিত্যিক। তবে এটা মানুষের বিষয় আমি মানুষের বলা ওটাও চাই না। রাজনৈতিক প্রভাবিত কবি না হলেও কবি তো? যেটার কারণে আমি কবি একজন লেখক কবি আবু বক্কর সিদ্দিকীর কন্যা বিদিশা, অথবা পুরুষতন্ত্রের একজন নির্যাতিত নিপীড়িত স্ত্রীকে কেন্দ্র করে বলছি বিদিশা প্রসঙ্গ। অবশ্যই রাজনীতিকে কেন্দ্র করে বলছি না। বিদিশা নিঃসন্দেহে একজন অতি পরিশ্রমী ও অতি কর্মঠ স্টাবলিশ তথা ধনী মেয়ে ছিলো। মাননীয় সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাথে তার বিয়ের পূর্ব থেকেই সে প্রতিষ্ঠিত। মহামান্য রাষ্ট্রপতি এরশাদও তার থেকে টাকা ধার নিতেন এটাও শুনেছি। তাই বরং মান্যবর এরশাদই উনার উপরে নির্ভরশীল হয়েছিলেন উনার কাছ থেকে অর্থ সম্পদ নিয়েছিলেন। তবে নিজের যতই থাক, স্ত্রী হিসেবেও প্রাপ্তি থাকে। তাই কখনো কোন কিছু বিদিশা নিয়ে থাকলেও ওটা বিদিশার অন্যায় অবৈধ নয় বরং বৈধ প্রাপ্ততা ও অধিকারের ফলাফল। সেটা কেউ কেড়ে নেওয়ার ধান্দা অথবা তাকে হেনস্থা করা ও অস্বস্তিকর পরিবেশে ফেলানো সম্পূর্ণ অন্যায়। স্বামীর সাথে তার সম্পর্কের ফাটল, অবনতি, ধজ, বিচ্ছিন্ন বা গোলমাল হতেই পারে। পুরুষের তো ইচ্ছা হলেই যাকে তাকে বিয়ে করা এবং নামিদামি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার রেওয়াজ বৈধ। আমাদের সম্মানিত বিশিষ্ট কবি খোশনুর আলমগীর বর্তমান নাম খোশনুর অনুকে নায়ক আলমগীর যেমন তালাক দিয়েছিলেন! অন্যায় ভাবে হলেও বৈধ তালাক!!
মাননীয় এরশাদও তিনি একজন পুরুষ ছিলেন! তাই যা ইচ্ছা হয়েছে করেছেন! কান কথা শোনা লোকও তিনি ছিলেন যে কারণে লোকে যা বলেছে শুনেছেন হয়তোবা দল বাঁচাতে। আর সাধারণত এই ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিবেশ ঘটতেই পারে কারণ চিরদিনই মানুষের ভালো মানুষ দেখতে পারেনা। বিশেষ করে তৃতীয় পক্ষ! আর মানুষ বাধ্য রাখার সুযোগ খোঁজে। সুযোগ পেলেও বাধ্য করে। সুযোগে সদ্ব্যবহার করা এটাও মানুষের স্বভাব। সুবিধাবাদী পুরুষেরই বেশি স্বভাব। তাই এরশাদ বিদিশার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করাবার জন্য টিটিপক্ষীর অভাব ছিলো না। এই যে আমি এখন এটা বলতেছি এখন আমার পাছেও না লাগে। একশ্রেণীর মানুষ আছে কাজ কাম করে না এটাই করে! অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডাখানা! গা ঘামিয়ে কাজ করে খেলে এটা করতে পারে না! এখানে আরেকটা জিনিস বলা দরকার, সেটা হলো ইয়াং জীবনের পিছে লাগা এক, আবার বয়স কালে পাছে লাগা আর এক। যাদের খেয়ে দেয়ে কাম নাই তারাই শুধু মানুষের পাছে লেগে বেলায়। পাছে লাগার সুযোগ খুঁজে বেড়াই। বুঝতেই পারছেন আমি সবাইকে বলছি না। আর নিশ্চয়ই সব পুরুষ খারাপ নয়। নারীর পাকড়াও সব পুরুষ করে না। তবে যা বললাম ওই শ্রেণীর মানুষ তো সমাজে ভরি ভরি আছেই বটে এটাও সত্যি। তারা কারও শান্তিতে থাকা দেখলেই এইসব করে। কিভাবে শান্তি নষ্ট করা যায় তাই নিয়ে মাথা ঘামাই। বিশেষ করে কোন কোন চরিত্রহীন, সুযোগ খোঁজে এবং চরিত্রের উপর থাবা মেরে, হামলা করে, হেরে গেলে, শিয়াল যেমন আঙ্গুর ফল না পেলে বলে, আঙ্গুর ফল টক! তেমন ওই মানুষগুলোও এইসব করে! আমি বলছি না উনার হামলা মামলা করছে তারা চরিত্রহীন, যার ফলে এসব করছে। তবে চরিত্রহীনরাই সাধারণত এইসব করে এটা মিথ্যা নয়। ভালো পুরুষ, অর্থবৃত্তে সচ্ছল পুরুষ অর্থাৎ পরিশ্রমী কর্মঠ পুরুষ নিজের কাজ করেই সময় পাইনা, তা আবার পরের পাছে লাগবে কি? নিজের বউ ছেলে মেয়ের দায়িত্ব পালন করেই সুন্দর পায় না! তা আবার অন্যের বউ অন্যের কন্যার কাছে লাগবে কি?! শিশু ধর্ষণ বলাৎকারি নিয়ে মেতে উঠবে কি?!নারী নিয়ে গবেষণা করেছি তো, নারী-পুরুষ নিয়ে বলা যায় জীবন ধরে গবেষণা করেছি। শিশু এবং বৃদ্ধ-বৃদ্ধা নিয়েও করেছি গবেষণা এবং বিশ্লেষণ! সাধারণত সেইসব ক্ষেত্রে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ব্যাখ্যা প্রবণ হয়ে গবেষণার নিমিত্তে দেখেছি কাদের মাধ্যমে ... এটাই ঘটে। উনার পোড় খাওয়া অসহায় দুঃখি জীবনে অন্যের হস্তক্ষেপ, অন্যরা মাথা ঘামানো, এইগুলো ভালো কাজ নয়। কোন না কোন স্বার্থে, ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করার উদ্দেশ্যে, এগুলো করা শুধু দুঃখজনকই নয়। লজ্জরও। বিদিশা- এরশাদ প্রজন্ম বলতে তাদের সন্তানটার বোধশক্তি তেমন থাকলে কি আর, সুযোগ-সন্ধানীরা এইভাবে সুযোগ দিতে পারতো! সন্তানই টেকাপ দিতো। সুযোগে সদ্ব্যবহার করাও প্রথম শ্রেণীর মন্দ এবং ঘৃণার কাজ বলে, ঊর্ধ্বতন থেকে তৃণমূল পর্যায়ের অনেকেরই ধারণা। আমি বিষয়টা আমার থেকে লিখলাম না। জনসাধারণের মতামত জেনে শুনে বুঝে অভিজ্ঞতার আলোকে, জনসাধারণের পক্ষ থেকেই লিখলাম। আরো আগে লিখা দরকার ছিল। মানুষের খোঁচাখুশি আর রাখতে পারলাম না তাই কিন্তু সময়ের কারণে তখন হয়নি, আমার স্বপ্নের দেশের ২০ বছর পূর্তির বিশেষ সংখ্যার কাজে একশভাগ লিপ্ত জড়িয়ে থাকায় পারি নাই যেটা এখন সেটা করছি। লিখতেছি পিছনে পড়া কাহিনী বিলাপ! বরং কখন না লিখতে পারলেও অনেকগুলো বিষয় এবং নানান জাতীয় ধারণার থেকে বহু বিশ্লেষণের সুযোগ হয়েছে! যা দেরিতে হলেও আজ লিখলাম। লিখতে চাই নাই তবুও লিখলাম, সাধারণত নারীদের জ্ঞান ফেরার প্রশ্নে। যেহেতু নারীদের দিয়ে পুরুষরা যখন তখন যাতা করাতে মানে বলাতে পারে! ফেসবুকে চোখ রাখলেও সেটা মিলবে! আমাদের দেশের নারীরা সার্টিফিকেটের শিক্ষায় এগিয়েছে বটে কিন্তু প্রকৃত শিক্ষিত হতে পারে নাই এখনো। তাই এখনো নারীরাই নারীর বিরুদ্ধে থাকে! নারীরায় নারীর পিছে লাগে, যেটা আর কি পুরুষ নারীকে ঘায়েল করার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে! নইলে নারীদের উপরে পুরুষ কর্তৃক অশ্লীল হামলার লাঘব হতো। নারী যদি নিজেরাই কোন পুরুষের স্ত্রী থাকতেও দ্বিতীয় স্ত্রীর স্থান না দিত, পুরুষ কি একাধিক বিয়ে করতে,, স্ত্রীর উপরে স্ত্রী আনতে পারতো?? কক্ষনো না। অবশ্য জোর জুলুম করে প্রতিবেশী ও ফ্যামিলি থেকে গার্জেন পক্ষ অবশ্যই সমাজের পুরুষগণ মেয়ের অল্প বয়সেই সতিন মেনে সালাম নির্দেশ দিয়ে এসব ঘটায় সেটাও কথা। তারপরও নারী বুদ্ধি বুদ্ধিমান হলে সেটা ত্যাগ করলে পুরুষ এইসব পদক্ষেপ নিতে, হস্তক্ষেপ করতে পারতো না। ভয় পেতো। এখনো উত্তম মাধ্যম না বুঝে শুনে নারীরা নারীদের বিপক্ষে এবং পুরুষদের পক্ষে থেকে তাদের সাথে তাল দেয়! নারীর ক্ষতি নারীই করে! পূর্বে নিরক্ষর অশিক্ষিত যুগেও এমন তাল দিয়েছে! নারীরা পুরুষের সাথে তাল দেয় বলেই, যুগে যুগে কিছু কিছু পুরুষ, নারীদের বিপক্ষে এইগুলো করতে সাহস পেয়েছে! দুঃখের বিষয় যে, পুরুষের সাথে পুরুষের অন্যায়ে নারীর তাল দেওয়ার জন্যই, এটা পূর্বেও হয়েছে এখনো হয় অর্থাৎ পুরুষ নারীর উপরে অন্যায় করার সাহস পায়। পুরুষ যেমন পুরুষের স্বার্থ বোঝে, নারী তেমন নারীর স্বার্থ বোঝে না! এই ঘাপলার কারণেই সমাজে পুরুষরা নারীর উপর বৈষম্য রেখেছে। বৈষম্য রেখে আসছে সৃষ্টি থেকেই! ওই যে কন্যা শিশু ভূমিষ্ঠ হলেই মাটিতে পুঁতে দেওয়া হতো! পুত্র শিশুর দেওয়া হতো না মাটিতে পুঁতে! স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে চিতাই দেওয়া হতো! স্ত্রী মারা গেলে স্বামীকে চিতায় দেওয়া হতো না! পুত্র না হলে কন্যার সম্পদ অন্য শরিকের পুত্র সন্তান পাই। কন্যা না হলেও তো পুত্রের সম্পদ অন্য শরীকের কন্যা সন্তান পাবে। তা কেন করে নাই?! এমন ইত্যাদি ভাবে কন্যাকে ছোট করার রেওয়াজ। মূলত নারীকে ছোট করা, নারীর উপরে করা পারিবারিক ও সামাজিক বৈষম্য, পুরুষের অন্যায় ধর্মে পরিণত, এমনকি অশ্লীলতাও শ্রীলতায় রূপান্তরিত হয়েছে! নারী মায়ের জাতি, নারী মমতাময়ী, নারী পুরুষের উপর ভরসা রাখে, পুরুষ নির্ভরশীল আস্থাশীল থাকে,, আত্মবিশ্বাসী হয় এবং ভালো জানে। নারী পুরুষের সম্মান করে! কিন্তু এই সুযোগটাই পুরুষ নিয়েছে তাই মর্যাদা দেওয়ায় উল্টো সম্মান না করে, পুরুষ বুফে সুযোগ নেয় অমর্যাদা করার! এবং বুফে অন্যায় করেছে এখনো করে! পুরুষ নারীকে নারী ভাবে, মানুষ ভাবে না। নারীকে শুধু ব্যবহার করার সামগ্রী হিসেবে দেখে, সম্পদ সম্পত্তি হিসেবে দেখেনা।ঘরের আসবাবপত্রের মতন জড় পদার্থ মনে করে। সম্মানিত মনে করে না। তাই সব সুযোগ-সুবিধা প্রাধান্যতা নেতৃত্ব কর্তৃত্ব সম্মান মর্যাদা পুরুষ নিজের উপর সাব্যস্ত রাখে! নারী এর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলেই কলঙ্কিত করে! বিধর্মী বলে। পারলে নাস্তিকও বলে ইত্যাদি! মমতাময়ী নারীরা পুরুষকে শুধু ভালোই বাসে না! মহান আল্লাহকেও ভালোবাসে আশীর্বাদ মনে করে। অধিকাংশ নারী প্রকৃতভাবে প্রচন্ড ধর্মভিরু ধর্মের প্রতি দুর্বল। দুর্বলতা আল্লাহ এবং ধর্মের প্রতি নারীর অসীম। এই সুযোগটাই পুরুষ হাতিয়ে নিয়েছে এবং আজো নেয়! পুরুষের অন্যায়ের প্রতিবাদ করা মানে পুরুষ বলে, সেটা নারীর জন্য ধর্মের বিপক্ষে যাওয়া! যুগে যুগে এই ভয় ভীতি দেখিয়েই নারীকে কাবূ করে রাখার পায়তারা যা বড় কায়দা হয়েছে। নারীরা আল্লাহর বিপক্ষে যাবে না মূলত ওই ভয়েই পুরুষের অন্যায় মেনে নিয়েছে! প্রতিবাদ করলেই যখন বিধর্মী নাস্তিক হতে হয় তখন মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন! এটা কি নারীদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার জুলুম নয়!? সুযোগ নেওয়া নয়?? এই কথাও আমার নয় সচেতন মহলের, এমনকি তৃণমূল পর্যায়ের মানুষেরও আলোচিত বাণী। কিছুদিন আগেও দেখা গিয়েছে, ঢাকা ইউনিভার্সিটির দেওয়ালে টানানো বেগম রোকেয়ার ছবিতে নারীরাই ... ছিঃ এটাই বুঝি শিক্ষা? বড় বড় শিক্ষার সার্টিফিকেট পেলেই শিক্ষিত হয় না! যার জন্য শিক্ষা জ্ঞান পেয়ে নিরক্ষতা দূর হয়ে ইউনিভার্সিটিতে এসেছে তার উপরেই ... ! অনেক দুঃখ ব্যথা ঘৃণা লাগে এদেরকে ভাবলে! বেগম রোকেয়ার ভাষায় বলতে হয়, পুরুষ নারীকে দাসীর মতন ব্যবহার করে। সকল নারী, শিক্ষা দীক্ষা জ্ঞানে গুনে স্বয়ংসম্পন্ন হলে, পুরুষ কখনো এটা করতে পারত না। তবে পূর্বের থেকে নারীর নির্যাতন অবশ্যই কমেছে। নারীবান্ধব বেগম খালেদা জিয়া মাননীয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী যেটা ঘুচাতে চেষ্টা করেছেন, সম্পূর্ণ সক্ষম হতেন যদি তিনি বেঁচে থাকতেন। ইউনিভার্সিটিতে কন্যা অর্থাৎ নারীর নির্বিঘ্নে পদার্পণ, এটা বেগম রোকেয়ার সাথে, বেগম খালেদা জিয়ারও প্রাপ্তি! নিঃসন্দেহে সকল নারীর গর্ব অহংকার অর্জন।আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ দিলে, বাবা মায়ের ঘরেও সহায় সম্পত্তিতে সম অধিকার পুত্র কন্যার মাঝে বন্টন হবে। এ অধিকার প্রতিষ্ঠা পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়ন হবে। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া যে, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সুদৃষ্টি ফেলেছেন এইদিকে! অবশ্যই একবার এসব হয় না। সতীদাহ প্রথাও একবারে বন্ধ হয়নি। বিধবা বিবাহ নির্বিঘ্নে একবারে চালু হয়নি। তাই এটাও ধৈর্য ধরতে হবে, ইনশাল্লাহ তবেই হবে! দিনে দিনে হবে! শরৎচন্দ্র বিধবা বিবাহ দিয়েছে তার গ্রন্থে প্রথম! ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও তার পুত্রকে বিধবা মেয়ের সাথে বিবাহ দিয়েছে! এভাবে জ্ঞানীগুণীদের মাধ্যমেই তো চালু হবে ইনশাল্লাহ! আর একশত বছর লাগবে সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠা পেতে! কাজী নজরুল সাম্যবাদী গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত নারী কবিতায়, নারীদের সেই কালেই, বিশ্বের মহান মহীয়ান সব কিছুতে নারীর অবদানের স্বীকৃতি সমান দিয়েছেন! সেটা ছিল ১৯২৫ সাল! ১০১ বছরের মাথায় ২০২৬ আজ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পালা নারীকে সমান মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা দেওয়া। অধিকার দেয়ার দায়িত্ব। এবং এটাই আসল সময় সরকার ঘোষিত নজরুল বর্ষ পালনের আসল উদ্দেশ্য! কেউ কি সেটা লক্ষ্য এবং বিচার করে বুঝেছে!!! ইলিশ ধরো ইলিশ খাও এটা নয় এটা কাজ! জগন্নাথ ভার্সিটির সামনে গরু মারবো গরু খাও এটা নয়। এটা কাজ! কাজ করো জোয়ান হও আগুয়ান। হও পালোয়ান! অধম বিধম কেন হবে? মানুষ হও! তারেক জিয়া বাবা মায়ের ঘরে, পুরুষ নারীর সম মর্যাদাবান অধিকার দিয়েছেন। একটা মানুষের কাজ। বলা যায় ভালো মানুষ রুপে তাকে পাওয়া, নারীর উপরে তার মায়ের সুদৃষ্টি রাখার ফল। বেগম জিয়া তিনিই প্রথম বেগম রোকেয়ার মূল্যায়নে, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় কর্তৃক নারীর স্বনির্ভরশীলতায় বিশ্বাসী হয়ে, নারীদের অর্থায়নে শক্তিশালী করতে, মর্যাদা করা শুরু করেন। বেগম রোকেয়ার ইচ্ছা অনুসারে নারীকে শিক্ষার বাতি জ্বালানোর সুযোগ, তিনিই দিয়েছেন। পাড়া মহল্লায় ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাওয়া তারই অবদান। তিনিই বেগম রোকেয়া পদক দেওয়া শুরু করেছেন। নারীর ব্যবসা বাণিজ্য উচ্চপর্যায়ে শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া, এটা তো বেগম খালেদা জিয়ারই আন্তরিক পদক্ষেপ। এই থেকেই নারীরা শিক্ষার সুযোগ পেয়ে, চাকুরী ক্ষেত্রে উত্তীর্ণ হয়ে, স্বাবলম্বীর হাত ধরে, পুরুষ নির্যাতন কমাতে সক্ষম হয়েছেন ইনশাল্লাহ। পূর্বেও নারীরা শিক্ষিত এবং ব্যবসায়ী স্বাবলম্বী ছিলেন তবে খুবই কম। যেমন বিদিশা। বিদিশাই জানে জীবনে নারী হয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে কত ধানে কত চাল। তার উপরে কত ধরনের গজব অন্যায় নিকৃষ্ট অত্যাচার চলেছে সেটা বিদিশাই জানেন! পরিবার সংসার ও সমাজের কত ধরনের জুলুম তাকে মেনে নিতে, সইতে হয়েছে! তার নিজের শিক্ষিত বাবা কবি সাহিত্যিক লেখক বাবা সে পর্যন্ত অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে সাধারণ পুত্রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। আর অসাধারণ মেধা দীপ্ত কন্যাকেউ দমিয়ে রাখতে পদক্ষেপ নিতে ছাড়ে না। তাই সাধারণ পুত্রের প্রশংসা করেছে, অসাধারণ কন্যার প্রশংসা করি নাই! আমি নিজেই এই ব্যাপারে একদিন তাকে বেশ বলেছিলাম! প্রতিবাদী কন্ঠে। কি করবো, বলতে বাধ্য হয়েছিলাম! নারীদের পুরুষরা মানে কন্যাকে বাবা পুরুষ এভাবে ছোট, ছেলেকে বড় কেন করে? এটা আমি সইতে চাই না! একজন বাবা পুত্র কন্যার সমান মর্যাদায় যার যেটা প্রাপ্তি যোগ্যতা পারদর্শিতা প্রশংসনীয়, সেভাবেই তাকে উপস্থাপন করবে, তুলে ধরবে। প্রশংসা শুধু পুত্রকে করলে আর কন্যাকে ঢেকে দিলে, গোপন রাখনে, হয় নাকি? পরবর্তীতে তিনি পুনরায় মঞ্চে ফিরে বক্তব্যে অনুতপ্ত বিনয় হয়ে ভুল স্বীকার করেছেন বটে! যেটা আমি মোটেই চাইনি। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন! ভুল করার ভুলেসুযোগ পেয়ে ঝেরেছিলাম!
যেহেতু তিনি ছিলেন প্রধান অতিথি আমি ছিলাম বিশেষ অতিথি। এটা সিরাজগঞ্জ শহরের একটা আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের সেমিনারে। এই ধরনের নারীকে পুরুষ কতৃক খাটো করা হয় বলে, নিচু চোখে দেখা হয় বলে, সাধারণত আমি সেমিনারগুলোতে খুব একটা এটেন্ড করি না। যতটা পারি এভয়েড করি, এড়িয়ে চলি, কাটিয়ে নেয়। বেশিরভাগ সময়েই মাফ চেয়ে, হাজীর না থেকে, দূরে থাকি। আসলেই নারীর অবমূল্যায়ন করা হয় তার যোগ্যতা অনুসারে। নারীর যোগ্যতার স্বীকৃতি পুরুষ আসলে সহজে দিতে চায় না! নারীকে এই খাটো করা অযৌক্তিক। সমাজের পুরুষের এটা হবি। সচেতন নারীর ক্ষেত্রে এটা সয়ে নেওয়া মুশকিল। মেনে নেওয়া কষ্ট হয় বলে আমি সাধারণত কোন সেমিনারে উপস্থিত হই না। তবু একটা শান্ত না নারী সমাজ, সচেতন জ্ঞানীগুণী নারীরা পাচ্ছে যে, মাননীয় বেগম খালেদা জিয়ার মতন, তার পুত্রও অনেক ভালো এবং অন্যায়কারী নয়। জুলুমবাজি অত্যাচারী নয়। নারী বান্ধব বাবা মায়ের যোগ্য সন্তান, সুসন্তান সুপুত্র, তাদের উপযুক্ত মর্যাদা উপযুক্ত সম্মান দেখেছেন। যে কারণে বাবা মায়ের ঘরে পুত্র কন্যার সম অধিকার দিয়েছেন! এতে তৃণমূল পর্যায় থেকে ঊর্ধ্বতন সকল পর্যায়ের মানুষ খুশি, তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বহুদিন যাবত যে ভোগান্তিতে শুধুমাত্র কন্যা হওয়ার দায়, কন্যার বাবা-মা ছিলেন, সেই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়ে তারাও কৃতজ্ঞ। সুনির্মল নিশ্বাস তারাও নিতে পারছেন। তাদের সহায় সম্পত্তি জীবদ্দশায় কন্যাকে আর লিখে দিতে হবে না, অন্যেরা দখল বসাবে কন্যাদের উপর, তাদের মৃত্যুর পরে! সেই ভয় থেকে তারা মুক্তি পেয়েছে। ভয়ে কাতর তাদের আর থাকতে হচ্ছে না। নিশ্বাস নিতে পারছে বিশ্বাস রেখে, সুকমল সুনির্মল। মহান আল্লাহর প্রতি হাজার শুকরিয়া আদায় করছেন। আর দোয়া করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার জন্মদাতা বাবা রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ও জন্মদাত্রী মা সাবেক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মহোদয়কে জান্নাতবাসী হন তারা। মহান আল্লাহ যেন উনাদের বেহেস্ত নসিব কবুল করেন। তাদের যোগ্য পুত্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে তারা যে প্রাণবন্ত ফিরে পেয়েছেন, সেটা দেখে বুঝে জেনে আমিও সত্যিই মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার তারেক রহমানের প্রতী সন্তুষ্ট। উনি একটি অমর যুগ শ্রেষ্ঠ কাজ করলেন। এখন থেকে আর কোন কন্যার বাবাকে অন্যায় কাজ করতে হবে না। জীবদ্দশায় ভাইয়ের সন্তানরা মারা গেলে পাবে বলে, গোপনে লুকিয়ে লিখে দিতে হবে না। যা করলে অন্যায় করেছে পাপ করেছে বলে লোকে চিহ্নিত করতো। ঘৃণা করতো। সেই কলঙ্কে কলঙ্কিত আর কোন কন্যার বাবা মা হবে না। আল্লাহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের, মানবিক কল্যাণে পথ চলা সহজ করে দিন। আহত সমাজ এবং মানুষের পাশে থাকার ব্যাপারে পথ চলা, তার দেশ প্রেমিক মানব প্রেমিক ভাষা সংগ্রামী বাবা, ও সহযোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা-মায়ের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের মানুষের পাশে বন্ধুর মত থাকা স্থায়িত্বভাবে সহজ করে দিন। আমিন।
লেখক: কবি, কথাসাহিত্যিক, গবেষক, গীতিকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
নারীর যোগ্যতার স্বীকৃতি পুরুষ সহজে দিতে চায়না