মতামত

গুণী নারীর সমস্যা গুণী পুরুষ হতে শতগুণ বেশি,তবে নারী লেখকের সমস্যা আকাশ সমান!

সৈয়দা রাশিদা বারী: সমাজে নারী লেখকের সমস্যা আকাশ সমান, সাধারণ নারী হতে শতগুণে বেশি। পুরুষ অপেক্ষা তো বটেই। মানুষের জীবনে সাধারণত সমস্যার অনেক ধাপ, অনেক সিঁড়ি, প্রতিসিঁড়ি। পারিবারিক সমস্যা, পারিপার্শ্বিক সমস্যা, শারীরিক সমস্যা, মানুষিক সমস্যা, অর্থনৈতিক সমস্যা প্রভৃতি। এ সমস্ত সমস্যা সবারই থাকে খুব কমন বিষয়। ধনীদেরও আছে। গরিবের তো থাকবেই। প্রেম করে যারা বিয়ে করে, তাদেরও আছে। উচ্চ বৃত্ত ও উচ্চ শিক্ষিতর আছে, অধম মূর্খ নিরক্ষর এর আছে। বহুতল প্রাসাদ অট্টালিকা বাসির আছে, রাস্তায় বসবাস বা বস্তিবাসীর আছে। আর এই সমস্ত মোকাবেলা দেওয়ার নামই জীবন। জীবন মানেই বেঁচে থাকা। কাজেই কোন বিপদেই ভেঙে পড়তে হয় না। মহান স্রষ্টা, আল্লাহ বিধাতা, ভগবান ঈশ্বর তার বান্দাদের নিয়ে খেলেন। কিন্তু সেটা বান্দাদের কষ্ট বিপদে পরিনত হয়। অথচ এটা দিয়ে তিনি তার চাহিদা মতো, বলা যায় সুখ—আনন্দ—রহস্য কৌতুহলে মজে খেলা করেন এবং উদ্ধার করার জন্য পাশেই থাকেন। তবে সবার চলার পথ অর্থাৎ জীবন সমান করবেন না। কেননা তিনি তো তার চাহিদা মতো, তার দুনিয়ায় রেখে, আনন্দ মিটাবার জন্যই মানুষ সৃষ্টি করেছেন। এবং মানুষকেই করেছেন তার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। গুণ ও মেধাই স্বয়ং সম্পন্ন করে, কথা বলার— মনের ভাব প্রকাশ করার শক্তি দিয়ে, মানুষ জাতিকে দুনিয়াতে এনেছেন তার চাহিদার জন্য। আর জ্ঞানে ধ্যানে যোগ্য হওয়ার শক্তি দিয়েছেন বলেই মানুষ জাতির বিচার করবেন। পৃথিবীর কোন জীব বা প্রাণীর বিচার করবেন না। আল্লাহ মানুষের ভালো থাকার সুব্যবস্থায় দুনিয়ার যাবতীয় কিছু সৃষ্টি করেছেন। আবার এই মানুষকে নিয়ে যেমন ইচ্ছা ভাগ্য নির্নয় করে, নির্ধারণ করে, খেলা করে আনন্দ উপভোগ মজা লুটবেন এটায় তো বিধাতার লীলা খেলা। এখানে সবার জীবন সমান হলে মজা আনন্দ করা হবে না। আমাদেরও হাতের পাঁচ আঙ্গুল সমান নয়। সমান হলে কাজ কিন্তু ভালো করা যেত না। একই পেটের সন্তানও সবাই যেমন এক রকম চেহারা আকৃতি ও রং ঢং কর্মকান্ডে যোগ্যতা হয় না। আমাদের সংসারেও সবই যদি একই জিনিসপত্র মিটার হয়, আমাদের প্রয়োজন সংসারে মিটবে, বা ঘুচবে না। আর দুনিয়ার যাবতীয় এবং নানা শ্রেণীর মানুষ, নানা প্রাণী এটা তো মহান স্রষ্টার সংসার। স্রষ্টা তার সংসারের চাহিদা মতই যার যেমন প্রয়োজন মনে করেন, তেমনি বলবদ্ধ রাখেন। আমাদের হাতে থাকে না তার এই বিচার ব্যবস্থা। তবে কিছুটা থাকে সেটা হল যার যার সাধনা তাকওয়া চাওয়া এবং কর্ম যোগ্যতার মধ্যেই তিনি তার বান্দাদের কাজের দায়ীত্বে¡ রাখেন। তারই সংসারের আয়ত্ত্বে প্রয়োজনের জায়গায় সেটেল করেন। তাই জন্যই তো চেষ্টা তথা সাধনা করতে হয় এবং সেটার অনুমতি তিনি দিয়েছেন। পদবী, ডেজিনেশন, জ্ঞান—বিদ্যা, অর্জন মতো। তিনি তার থেকে চেয়ে নিতে বলেছেন। চাওয়া মানেই কিন্তু নত হওয়া, নত স্বীকার এটাও বুঝতে হবে। কেঁদে নত হয়ে তার কাছে নিজের রুচি শপে বা বিসর্জন দিয়ে, আত্মসমর্পণ করে চেয়ে নিতে হয়। আমাদের কিন্তু শিখতে হবে তার কাছে চাওয়া। সেটাও তো অধ্যাবসাই অর্থাৎ স্টাডির বিষয়। মনে রাখতে হবে আল্লাহ পাক কান্নাকে অতিশয় পছন্দ করেন। তাইতো কষ্ট দিয়ে কাদান এবং কান্নার মূল্যও দেন। আর বুঝ থাকতে হবে, আমরাও কিন্তু জীবন পথে, মানুষ দিয়ে কাজ করাই। সহযোগিতা নেই, যার যে যোগ্যতা সেই অনুপাতে তার থেকে। বিধাতা পুরুষও তেমনি ভাবে তার বান্দাদের খুঁজে বেছে, তার দুনিয়ার সংসারের প্রয়োজনে কাজে লাগিয়ে চাহিদা মেটান। এখন সবাই যদি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হয়, ঝাড়ুদার সুইপার হবে কে? রিক্সাওয়ালা হবে কে? খাদ্য দ্রব্য রান্না করে খাই, কে হবে বিক্রেতা বা উৎপাদনকারী? আসলে দুনিয়াতে সব শ্রেণীর মানুষেরই তো দরকার তাই না? আমাদেরই জীবন চলার পথে— আমাদেরই দরকার। তাই আমাদের বেঁচে থাকা এবং সেবার জন্যই তিনি আমাদেরকে নিয়োগ দেন। শুধু যোগ্যতা অর্জন হিসেবে তার কাছে পরীক্ষায় পাস করে আদায় করে নিতে হয়। এবং তিনিও সেভাবেই দেন, তার সংসার ঠেকানোর প্রতি লক্ষ্য রেখে। যে কারণে তার প্রতিও মুখ করা, অসন্তুষ্ট থাকা যাবে না। তিনি অতি মহান যা কিছু দিয়েছেন, যা কিছু করেছেন, বল্লামই তো মানুষেরই ভালো থাকার, ভালো রাখার জন্য। সবাই যদি প্রভাবশালী হয়, সবাই যদি মহল্লা বাসী হয়, ভাড়াটিয়া হবে কে? দান খয়রাত কাকে করবে? মানুষেরও সংসারে সব একই জিনিস হলে সংসার হয় না, নানা রকম জিনিস লাগে। তাই আল্লাহর দুনিয়ার আল্লাহর সংসারে মানুষ জাতিকে সৃষ্টি করেছেন বহুরূপী, বহু ধরনের করে। মানুষেরও প্রয়োজন মতো তার থেকে চেয়ে উদ্ধার হয়ে, প্রয়োজন মেটাতে হবে। ভেঙে না পড়ে, নিরাশ না হয়ে।সবশেষে বলবো, মানুষের এই যে, এত সমস্যা, যার কোন অন্ত মিল সীমানা নেই। এটাকেই যদি একটু আলাদা নারী বা বৃদ্ধা নারীর সমস্যায় সনাক্ত করি, তাহলে দেখা যাবে পুরুষ অপেক্ষা ২গুণে বেশি পরিবারে বা সমাজে নারী ও বৃদ্ধা নারীর সমস্যা। তবুও নারী দিশেহারা হন না। তারা হাসি খুশি থেকে পথ চলে। কিন্তু এর থেকেও যখন নারী লেখক আলাদা করে দেখা যায়, তখন জানা যায় যে, সমাজে তাদের শতভাগ সমস্যা। সবার থেকে বেশি— যা আকাশ সমান অর্থাৎ ধরা ছোঁয়ার মতো নয়। এবং ব্যাখ্যাও বিশদ! দুঃখ দূর্দশাও আকাশচুম্বি!!সাধারণত নারীর পায়ের তলার মাটির বিশ্বাস নাই, মাথার উপরে ছাদের বিশ্বাস নাই, চ্যালেঞ্জ নাই, তাদের স্বামীর সংসারের, স্বামীর উপরের ভরসার বিশ্বাস নাই। যে কোন মূহুর্তে সম্পর্ক ফসকে গেলেই কিন্তু কচুর পাতায় পানির মতো স্থান অবস্থান হয়! জীবনের অর্ধেক সময় পার করা ৩০/৩৫ বছরের স্বামী সংসার সন্তানও কিন্তু ফেল হয় ফসকে বা হারিয়ে যায়। লেখক হুমায়ূন আহমেদ— কবি গুলকেতীন, নায়ক আলমগীর— গীতিকার খোশনূর, আরো প্রভৃতি প্রতিষ্ঠিত সংসার ভাঙার ইতিহাস যার জ্বলন্ত প্রমাণ। এছাড়া কোটি কোটি সাধারণ মানুষের সংসার ভাঙার স্বাদৃশ্য তো ডালভাতের মতো আছেই। আর তৃণমুল পর্যায়েগুলোর অস্তিত্বের হদীস থাকে না। তাইতো বলা যায় ঠোঁটের উপর যান থাকার মতোই মানুষকে যেমন প্রস্তুত থাকতে হয় যখন তখন মৃত্যুর। নারীকেও প্রস্তুত থাকতে হয় যখন তখন স্বামী বের করে দিলে, খালি হাতে পায়ে চলে যাওয়ার। এই চলে যাওয়ারও তো তার স্থান থাকে না। কারণ বাবা মায়ের ঘরেও পুত্রের অর্ধেক কন্যার, তাও এটা মুখে— প্রকৃত অর্থে দেয় না। বসবাস করলে বা কেউ নিলে তাকে পরিচয় দেয় না। তাচ্ছিল্য করে, নিচু চোখে দেখে, খারাপ বলে ইত্যাদি। তাই মেয়েরা প্রিয় বাবার বাড়ির সম্পর্ক ঠিক রাখতে— স্বামীর বাড়িই কামড়ে ধরে পড়ে থাকতে চাই,— শাশুড়িকে হটিয়ে দিয়ে। যেহেতু মেয়েদের বাইরে স্বাধীনতা নেই ইচ্ছারও দাম নেই। তাই পরের ঘরেই যে কয়দিন সম্ভব টিকার, সেই কয়দিনই যব্দ আকারে স্বাধীনতা এবং ইচ্ছা পূরণে সচেষ্ট থাকে। কাজেই প্রতিপক্ষ প্রতিদদ্বী চাই না। পুত্ররা সাধারণত মায়ের ভালোবাসায় দুর্বল। মাও পুত্রকেই জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। তাই স্ত্রীও স্বামীর মাকেই শত্রু অর্থাৎ প্রতিপক্ষ প্রতিদন্দী ভাবে। কারণ সে চাই না তার থেকে আর কেউ বেশি ভালোবাসুক তার স্বামীকে এবং স্বামীও তাকে। ওদিকে— স্বামী যদি স্ত্রীর হতে বেশি কারো ভালোবাসে, তবে সে তার মাকেই ভালোবাসে। এরজন্যই স্ত্রী স্বামীর মাকেই পরাস্থ করতে চাই। শাশুড়িকে দূরে সরিয়ে দেয়, সরিয়ে রাখে। এই জন্যইতো ইয়াং পুত্রবধূর দেওয়া মানসিক অত্যাচারে বৃদ্ধ শাশুড়ির ভাগ্য অণে¦ষণ ঘটে। শরীর স্বাস্থ্য যা কিছুর অবণতি পুত্রবধু ঘরে আসার পরে বেশি হয়। এখানে একেতো শাশুড়ির প্রতিদ্বিন্দী ভাবে তার উপরে আবার কাচা বয়সে তারা বাবার বাড়ির আশা ভরসা ছাড়ার ফলেই শাশুড়িকে পথের কাটা প্রতিদ্বন্দি বেশি মনে করে। আর শাশুড়ির কাছে পুত্রবধূ— সংসারে উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো লাগে। কেননা পুত্রকে তো তিল তিল করে ভালোবেসে বড় করেছেন— যার ফলে সে পুত্রবধূর বাড়াবাড়ি হজম করতে অপারগ হন। আমি মনে করি এবং এটায় সত্যি। বাবার বাড়ির অধিকার পিছুটান ও সম্পর্ক স্থীর থাকলে মেয়েরা এতটা শাশুড়ির প্রতি অমানবিক, অত্যাচারী, নির্দয় নিষ্ঠুর হতো না। মাও পুত্রের উপরে নির্ভরশীল আশ্রয় নেওয়ার জন্য এতটা দূর্বল হতেন না। তবে আমি এটা তো শুধু নারীর সমস্যা বলেছি। সমাজে নারী মানেই ‘যাহা রাত, তাহা কাত।’আইলাম আর গেলাম, পাইলাম আর খাইলাম, ভবে দেখলাম শুনলাম কিছুই বুঝলাম না।’ তবে যে নারী— নারী ছাড়াও একটু মানুষ হতে চেষ্টা করে বা চাই। পুরুষের পাশাপাশি নিজের অস্তিত্ত প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তাদেরই কিন্তু কপালে সিতের দুঃখের শেষ থাকে না। আসলে বয়স হলে সংসারে মানুষ মূল্যহীন হয়ে পড়ে। তাই তার ইচ্ছার আর কোন দাম থাকে না। সেখানে অবোলা অসহায় নারীর হদীস, অস্তিত্ব থাকার এবং রাখার তো প্রশ্নই নাই। শাহবাগের মরিয়ম বিবির মাজারও কিন্তু একটা দৃষ্টান্ত। বেগম পত্রিকার পাটুয়াটুলির অফিসটা আর একটা দৃষ্টান্ত। এভাবে নারীর কিছুরই গ্যারান্টি নাই। ফুল থাকেত পেটেই কেবল ধ্বংস করা হয় না। ঝরে যেতে পারে পাষন্ড কারো অত্যাচারে যে কোন সময়। শিশু হতে না বালিকা বেলায়। কিশোরী বয়সে সাবালিকা কালে, ঐ যে অল্প বযসে তৃষা তো ঝরে নাই, ঝরে গেলেও ঝড়ে যেতে পারতো বয়ষ্ক মোস্তাকের পাষণ্ডতায়। কিন্তু মোস্তাক দয়া করে বাঁচিয়ে রেখে বিয়ে করেছে। নারীর জীবনের জীবন মরণ বিপদ এবং সমস্যার শেষ নাই। কত ফুল ফুটে তো ঝরে গেছে বেয়ারা পাষণ্ডতায়। বিবাহিত জীবনে ঝরে যায়। সন্তানাদি হওয়ার পর এবং সন্তান বড় হওয়ার পরও— মাঝ জীবনে ঝরে যায়। মাঝ জীবন কাটিয়ে বয়োজৈাষ্ঠ বেলায়, বৃদ্ধাকালে তাও ঝরে। আবার অন্যভাবে সমাজ ব্যবস্থায় পুরুষ খ্যাপারা নারীকে ঐতিহ্যবাহী হতে দেয় না, শত বাধাক্রম করে। যেমন— ধরে ধরে টপাটা গিলে ফেলে বিড়ালে ঈদুর খাওয়ার মতো। বাঘে মানুষ খাওয়ার মতো। মানে গোপনে ও প্রকাশ্যে হত্যা করে। কত প্রতিষ্ঠিত নারী তো গুমও হয়। মৃত্যুর কারণ না জানা অবস্থায় লাশও পাওয়া যায়, ইত্যাদি। তারপরও এই যে যেমন: আইয়্যামে এ জাহেলীয়াতের যুগ। এটা ১শত বছর বলবদ থাকা, কন্যা শিশু হত্যার অন্ধকারের যুগ। আল্লাহ তার বন্ধু রাসূল (সাঃ) কে পাঠিয়ে যেটা বন্ধ করিয়েছিলেন! আলহামদুলিল্লাহ। আবার এখন সরিয়া আইন চালুর নামে ব্যভিচারী নারী হত্যার হুমকি নানা মিডিয়াগুলো গরম করে তুলছে যেটা লক্ষণীয়। সূরা নূরে আল্লাহরও নির্দেশনা যেখানে স্পষ্ট, এই ব্যক্তিদ্বয় যেহেতু নারী পুরুষ সংশ্লিষ্টতায়, কাজেই উভয়ের পালিশম্যান্ট বা শাস্তি (১শত বেতেঘাত) প্রদানের কথা। সেখানে শুধু নারী হত্যা, নারী ধ্বংশের আদৌ কি যুক্তি আছে? মদ তৈরি বা আবিষ্কারালয় কারখানার প্রতি যত্নশীল হয়ে, সিকিউরিটি দিয়ে, খরিদ্দার এবং ক্রেতার অন্যায় স্বাব্যস্ত পালিশম্যান্ট, দোকান ভাঙা, আসক্তকে কাড়াগাড়ে নিক্ষেপ, অহেতুক এইসব করা নয় কি?! বর্বর যুগ কাটিয়েও এখন আপডেট শিক্ষিত যুগে এটা হওয়ার কি যুক্তি? যুক্তি একটায় নারীকে এখনও মানুষ বলে স্বাীকার না করা। মানুষের অধিকার না দেওয়া। এই যে নারীকে ছোট তাচ্ছিল্য করা, এটা কোন স্বাস্ত্র জ্ঞানের আইনে করা হয়? নারী গবেষকরা জানতে চাইছেন। ইলেকট্রিক যুগের সাধারাণ এবং তৃণমূলের নারীরাও জানতে চাই। দেখছি তো পুরুষরাও জানতে চাই। কিন্তু নেতা লাদেনের টুইন টাওয়ার ধ্বংস করে দেওয়ার মতোন দুধ্বর্ষ তালেবানরা নাকি কারো আমলে নেয় না। একদম তাদের প্রয়াত নেতা লাদেনের উত্তরসূরি সেজে। আমি ভাবছি তাদের ওতো মা বোন স্ত্রী কন্যা আছেন। কেন সেই নারীরা মুখে টেপ এটে রেখেছেন? নাকি মা আছিয়ার মতোন অবস্থা হওয়ার আসংখ্যায় তারা নিজেরই মুখে টেপ মেরে সরে যাচ্ছেন? বর্বর যুগ এখনও বহমান। শুধু নারীর ক্ষেত্রে পুরা পৃথিবী জুড়ে ঘিরে রয়েছে এবং গ্রাস করে নিচ্ছে অন্যায় ব্যবস্থায়। তবে লিগ্যাল কথা বলে, বিবি আছিয়ার মতো হলেও ক্ষতি ছিল না ঐ মা বোনদের। জন্ম হলে মৃত্যু আছে। আর মানুষ একবারই জন্ম নেয়। হঁ্যা তাইতো বলি শত বছরের ঐতিহ্য মাজার শরীফ পর্যন্ত গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিতে কেন?। ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা ও পত্রিকার নিজস্ব ভবন, অফিস, ঘর পর্যন্ত … হয়তো একদিন গল্প বা কিচ্ছার মতো হয়ে যাবে। দাঁত থাকেত তো দাঁতের মর্যাদা কেউ বোঝে না তাই। তখন তাই চাইলেও আর কেউ ফেরানো সম্ভব হবার নয়। আরো কতো এমনই আছে। হাল ধরার কেউ থাকে না, রক্ষার কেউ নাই। কেন গো কেন? পৃথিবী ব্যাপী এত উন্নয়ন উন্নতি? নারীর উন্নয়ন কোথায়? শুধু মুখে নয়। গবেষণায় এবং কাজে কর্মেও তথ্য অনুসন্ধানে রাখুন। নারীর পুরানো ঐতিহ্যর মূল্যায়ণ করে। কেননা নারীর ঐতিহ্য তো পৃথিবী বা দেশে বেশি নাই। মায়ের পেটের ধ্বংস, শিশু কিশোর নানান বয়সের লোলুপ মৃত্যুর মোকাবেলা করে যে মহিয়সী নারীরা টিকে ছিল, টিকে আছে, — তাদের আগে প্রাধান্যতায় বাঁচাতে হবে। রক্ষা করতে হবে। তাই আসুন সমাজে নারীকেও মানুষ ভাবী। তাদের কর্মগুণ মেধা ঐতিহ্য অস্তিত্ত ইত্যাদি, পুরুষের মেধা কর্ম ঐতিহ্য ইত্যাদির মতোই রক্ষণাবেক্ষেণে সমঅধিকারে ভাবতে শিখি। সমঅধিকারে মূল্যায়ণ এবং মর্যাদা করি। যিনারা এখনও কাজে অগ্রগতি আছেন তিনাদেরও পুরুষের সমান অধিকারে বাঁচতে দিই। সকলেই সমান অধিকারে ভালো কাজ করে ভালো থাকলে দেশ এবং পৃথিবী মহিমান্বিত হবে। মহান রমজানের তাকওয়া সংযম স্বার্থক হবে। রচনাকাল: ২৫.০৩.২৪ হতে ০৫.০৪.২০২৪ইং, সকাল ১০.৩০, শুক্রবার।
ঈদুল ফিতর— ২০২৪ এর অলি আল্লাহ, পীর পয়গম্বর, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।সৈয়দা রাশিদা বারীদুনিয়ার নানা বৈষম্যে এবং ব্যস্ততায় মানুষ কেউ কারো কেয়ার নেয় না। মর্যাদাও বোঝে না। তবে যখন কারো হারাই, তখন বোঝে তার প্রয়োজন। বোঝে সে না থাকার জ্বালা। তেমনি শরীরের অঙ্গ—প্রত্যঙ্গর ব্যাপারেও হয়। জিনিসটা না থাকলে, হারিয়ে গেলে বা নষ্ট অসুস্থ অকেজো হলে, তখনই বোঝে সেটার গুরুত্ব। অথচ তখন জিনিসটার টেম্পার শেষ হয়ে সমস্যা ঘনিয়া আসে। আর তখনই বুঝতে জানতে অনুভব করতে পারে প্রয়োজন মানে কি? প্রয়োজন কারে কয়। জিনিসটাকে যখন আর ফিরিয়ে আনার কোন সুযোগ থাকে না! দাঁত কান চোখ ঠোট নাক হাত পা ইত্যাদি এক একটা কি যে প্রয়োজনীয়, না হারালে বোঝা যাবে না। যারা হারিয়েছে সেই সব মানুষ জানে। শুধু কি মানুষ ভিত্তিক, দেহ ভিত্তিকই যত গুরুত্ব? এবং হারাবার জালা? না, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্ত চাহিদায়, মানুষের প্রয়োজনীয়। সে সব জিনিসের ব্যাঘাত ঘটলেই, সমস্যা হলেই বুঝতে পারে মর্যাদা, যে সেটা কত প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ খুবই দরকারী। ৯ রমজানের দিন মাত্র ১১ঘন্টা (বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা) গ্যাস ছিল না, অন্তত ২০০০ ঘরে বা ফ্লাটে।ঢাকার মত একটা ব্যস্ত জনবহুল মহল্লায়, এলাকায়, একটা পাড়ায়। রাস্তা মেরামতের কাজ করতে লেবারদের কোন ভুলে বা দুর্ঘটনায় হঠাৎ করে গ্যাসের লাইন ছুটে গিয়ে এটা হয়েছিলো। এই এক্সিডেন্টে ক্ষয় ক্ষতি কারো হয়নি। তবে রান্নায় দুর্ভোগ পোহায়েছে পুরা মহল্লাবাসী। একে তো রোজা রমজানের দিন। প্রায় দুপুরের পর বিকাল শুরু না হওয়া থেকেই যেখানে ইফতারির আয়োজন হয়, আর চুলাতেই সেখানে মেন ভূমিকায় থাকে। কি যে অবস্থা, সমস্যার আর কি বলবো! গ্যাস না থাকার যে যন্ত্রণা, এলাকার সবাই তা জানলো। সাশ্রয় বলতে কি বুঝায়, সে প্রশ্নও এখানেই এলো এবং আবছে জবাব মিললো। অভাবে যে শুধু স্বভাব নষ্ট হয় না, সুবুদ্ধি এবং ভালো কিছুও অর্জন বা লাভ হয়, এটা তার চাক্ষুস একটা প্রমাণ। আল্লাহ কেন সাশ্রয় পছন্দ করেন সেটাও বুঝলো। আর এই শিক্ষা অভাব ছাড়া অর্জন হয় না, ভুক্তভোগী ছাড়া সম্ভব না মূল জ্ঞান হওয়া। ধরা যেতে পারে এটাও একটা ইন্টার্নি জীবনে চলার পথের। তাই ঈদের মার্কেট শপিং বাজার ঘাট করা, যায় বলি না কেন? অপচয় করা যাবে না। এর আগে গত ৫মার্চ, পৃথিবীব্যাপী নেট নিষ্ক্রিয় হয়, আন্তর্জাতিক কোন প্রবলেমে। যার ফলে ফেসবুক মেসেঞ্জারও বন্ধ হয়। সেটা স্থায়ী ছিল রাত ৯ টা হতে সাড়ে ১০টা। কারো কারো বেশি সময়ের জন্যও বন্ধ হয়। আমার হয়েছিলো ২৪ঘন্টা বন্ধ। এই ব্রেক হওয়ার ফলে আমার লেখালেখির কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হয় ২৪ ঘন্টা। কেউবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রবলেমে আটকাই। সেটাও এমনই অবস্থার শিকার হয়ে মানুষ তখনো বুঝেছিল প্রয়োজন এবং সমস্যা সম্পর্কে। এই ধরনের সমস্যার সময় পার হতে চাই না। মানে ১ ঘন্টা যেন একদিন। তাহলে যার ২৪ ঘন্টার প্রয়োজন আটকায়। তার ২৪ঘন্টা মানে কি হতে পারে? ভুক্তভোগীই মাত্র জানে। সেই কবি কৃষ্ণ চন্দ্র মজুমদারের লেখা কবিতা প্রবাদের মত, অল্প বয়সে ভাব সম্প্রসারণ তখন করেছি বটে কিন্তু মর্ম বুঝি নাই, এখন বয়সের সীমানা পার হতে, জীবন চলার পথে, ধাপে ধাপে যেমন বুঝতে পারি। যে জন দিবসে, মনের হরষে, জ্বালায় মোমের বাতি,আশু গৃহে তার দেখিবে না আর নিশীথে প্রদীপ ভাতি।চিরসুখী জন, ভ্রমে কি কখন, ব্যথিত বেদন, বুঝিতে পারে?কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কীসে, কভু অশী বিষে দংশেনি যারে?যতদিন ভবে, না হবে না হবে, তামার অবস্থা আমার সম।ঈষৎ হাসিবে, শুনে না শুনিবে, বুঝে না বুঝিবে, যাতনা মম।কিংবা রজনীকান্ত সেন এর—বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই,“কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই,আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরেতুমি কত কষ্ট পাও রোধ, বৃষ্টির, ঝড়ে।”বাবুই হাসিয়া কহে, “সন্দেহ কি তাই?কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়।পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।”এইগুলো আমার বাবার কাছ থেকে শেখা, শিক্ষা জীবনে নানান ধাপে, ক্লাসে তো আছেই। কিন্তু তিনি আমার একদম শিশু কালে, যখন আমি তার পেটের উপর বুকের উপর চরে কাঁদতাম। অথবা বাবা তার পায়ের উপর বসিয়ে ঘুঘু সই পুতুল কই খেলাতেন। তখনই এইরকম আরো অনেক প্রবাদবাক্য এবং ছড়া আমায় শুনিয়ে শুনিয়ে শিখিয়েছিলেন। যার ফলে জিনিসগুলো আমার কঠিন ভাবে মুখস্ত আছে। যেগুলো সেইরকম পরিস্থিতিতেই মনে পড়ে। যেমন তিনি পদ্ম আকারে শিখিয়েছিলেন:‘ধন ধন ধন, বিদ্যা মহা ধন।এই ধন কেহ নাহি নিতে পারে কেড়ে।যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।’ঠিকই কত কিছুই হারিয়ে গেছে, জোর জুলুম পলিটিক্স করে নিয়েছে। মানুষই চুরি করে নিয়েছে, বিদ্যা ধন, এই জ্ঞানটুকু আজও দিয়ে তবু লেখালেখি করে খেয়ে বাঁচি। তিনি শিখিয়েছেন, 1. না বলিয়া অন্যের জিনিস লইলে চুরি করা হয়।’ ২. মিথ্যা কথা বলিবো না। মিথ্যা বলা মহাপাপ।’’ইত্যাদি… আজ বাবা নাই কিন্তু খেলার ছলে তার দেওয়া, এই ধরনের বহু বহু জ্ঞান বিদ্যা আমার প্রভাবিত করে। ভালো পথ দেখায়। বাঁচতে শেখায়। মা বলতেন তুমি এতোটুকু বাচ্চার এগুলো শুনাও কেন? মুখস্ত করাও কেন? ও এর কি বোঝে? শুধু শুধু মুখ নষ্ট করছো। ভাদো পচাল পারছো। কিন্তু বাবা মায়ের কোন কথা আমলে না নিয়ে একই রূপ বলতেন। আমায় শিখাতেন। তার বলার সাথে আমি বলে লেখার উপরে পেন্সিল দিয়ে হাত ঘুরিয়ে লেখা শেখার মতো— বলা শিখতাম। তাই তার সাথে আমারও বলতে হতো। অথবা সে থামলে বলতে হতো।যাহোক আসুন ঈদের বাজারঘাট করা বা সব কিছুতেই প্রত্যেকে সাশ্রয় করি। সাশ্রয়ী হই। এই যে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া খাদ্যদ্রব্য ছাড়াও অন্যান্য ফেলে দিতে হয়। বিলাসিতা সাজুগুজুর দ্রব্যাদিও দেখা যায় ময়লার ঝুড়িতে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে। ফেস পাউডার লিবিস্টিক লসুন ক্রিম স্নো ইত্যাদি কসমেটিক্স । কেন বাবা ঘরে থাকতেও কেন কিনতে হবে, সময় এবং পয়সা নষ্ট করে? আর শপিং করতে মানুষের সামনে গিয়ে, ভীড় জামানো, ঢলাঢলি ঠেলাঠেলিতে শামিল হওয়া। এটা কি রুচির বৈরী অভদ্রতা নয়? জরুরী কাজে বা চাকুরিতে যাওয়া সেটা আলাদা। শুধু ধর্ম বা ইসলাম টানবো কেন? আমাদের বিবেচনা কি বলে? কাপড়—চোপড়ের ক্ষেত্রেও সেরকম। এভেলেবেল নিত্যনতুন দামি খাষা পোশাক, একদম অব্যবহৃত ঘরে থাকতে, ওয়ারড্রব আলমারি ভরা থাকতে, দোকানে কেনার জন্য ভিড় করা এবং মানুষের সাথে পাল্লাপাল্লি কনটেস্টে লড়া, ঈদের মার্কেটিং বলে, এটা কতটুকু সমাচীন? ঈদ বলেই যে কিনা লাগবে, এরকমটা কেন করতে হবে? পোশাকের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় না কিন্তু পোশাক আশাক চিরস্থায়ীভাবে শরীরে সেটেল তো থাকে না। শিশুরা গায়ে গতরে বাড়তে থাকে। ছয় মাস বা বছর পরেই আর গায়ে হয় না। বয়স্কদের ক্ষেত্রে শরীর যদি ভারী হয়ে পড়ে, পোশাক সালোয়ার কামিজ কষা হয়ে যায়। ডিজাইনেরও ব্যাপার আছে। ২/৪ বছর গেলেই তো ব্যাকডেটেড হয়ে পড়ে। তখন আর গায়ে দেওয়া হয় না। মানুষ কি ভাববে মুখ লজ্জায়, নাক লজ্জায় বা চক্ষু লজ্জায়। এই জন্যও ঘর ভর্তি হয়ে থাকে। ওয়ারড্রব আলমারি বোঝাই হয়ে যায় ইত্যাদি। জিনিসপত্রে র্যাক সেলফ ভর্তি, কাজেই সাশ্রয়ী হলে ক্ষতি তো নাই বরং এটাও কিন্তু ইবাদত এবং ধর্ম পালনের মধ্যেই পড়ে। কেননা নবী রসূল যেটা করেন নাই, সেটা যদি শিরক বেদাত হয়ে থাকে। মানুষের যদি তখনকার আল্লাহর বান্দাদের। ফলো করতে হয়, পুরুষ ছাড়াও নারীদের ক্ষেত্রে, নারীরা ফলো করবে। তাহলে মা ফাতেমাই কি নিত্য নতুন পোশাক পড়তেন? এই ব্যাপারে নিজের জন্য বিলাসিতা অপচয় করতেন? এই যে হুজুররা এত বয়ান করেন, তালিম দেন, এটা তো বলেন না? কেন এত দরিদ্র এবং অসুস্থ চিকিৎসা বিহীন জরাজীর্ণ মানুষ, রাস্তায় বেড়োনো যায় না।অথচ সমাজে চলছে কত রকম ফোটানি। হোটেল ভাড়া করে নিয়ে প্রতিবছর বিয়ে দিবস, জন্ম দিবস, খাতনা দেওয়া, মুসলমানি আয়োজন পরীক্ষায় পাস ইত্যাদি বোমাবাজি ফুটিয়ে যা করা হচ্ছে। এরকম সব ফুটানি বিরত রাখাই শ্রেয়। কারণ আল্লাহর প্রিয় বান্দারা তো এভাবে রং তামাশা ঢং দেখাতে ব্যস্ত ছিলেন না। শুকনা খাবারের পুটলা সুরাই করে পানি বয়ে ইসলাম ধর্ম প্রচারে লিপ্ত থেকেই জীবন কাটিয়েছেন। আর যাযাবরের জীবনে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তাইতো অলি আল্লাহদের মাজার শরীফও বিশ্বের সবখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তারা যথন যেখানে অবস্থান করেছেন সেগুলোই মসজিদের রূপ ধারণ করেছে। এমনি তো আর আধ্যাত্মিক নজরুল লিখেন নাই ‘একটা মন ভাঙা আর মসজিদ ভাঙা সমান কথা।’ এর বাইরে জাগতিক জীবনের জন্য তারা দালান গড়েন নাই। গাড়ি কিনেন নাই। মিটকেস, মিকচেপ এ খাবার ভরেন নাই। এবং নষ্ট হলে দুর্গন্ধ হতে বাঁচতে ফেলে দেন নাই। এত পোশাক খাবার কসমেটিক্স লসুন সাবান ক্যাপসুল তেল ইত্যাদি কিনে আবার তা ডাস্টবিনে ছুঁড়ে না ফেলে ঐ অর্থে ইসলাম ধর্ম প্রচার করেছেন। আর করেছেন প্রয়োজনের মূল্যায়ণ। তারা ১টা রুটি অনেকে মিলে ভাগ করে খেয়েছেন। মা ফাতেমা ৭তালি দিয়ে কাপড় পড়েছেন। এইসব শিক্ষায় আসুন মহান রমজানের আদর্শ করি। হঁ্যা আসুন প্রয়োজনের মূল্যায়ন করি, এই রমজানে বৃথা অপচয় ছাড়ি। তিনারা ২টা খেজুর খেয়ে ইফতারি করেছেন বটে। তবে সেখানকার সহজলব্ধ ফল হিসেবে, দামী জিনিসে বিনোদন মূলকভাবে খেজুর রাখেন নাই ইফতারিতে। পিয়াজু বড়া বেগুনি জুস সেভেন আপ বার্গার মোরগ পোলাও ইত্যাদি দিয়ে ইফতারি করতে হবে, এইসব কোথায় লেখা আছে— দলিল দেখাতে পারবে? পারবেনা। তাহলে দলিল ছাড়াই— কি হচ্ছে না কোন কাজ!? যত দলিল জব্দ করে আকড়ে ধরা হয়, নারীর জব্দ করা ষড়যন্ত্র, পুত্রের অর্ধেক কন্যার হবে, সেটার ব্যাপারে। এখানেও যে সমস্যা এবং প্রয়োজন বলে কিছু আছে, তা কিন্তু আমলে নাই। হুজুররা সেটা দেখেনা। ঈদ বলেই যে অপচয় করতে হবে, প্রয়োজন ছাড়াও কেনাকাটা করে, হাওয়াই বাজি বা জোনাকি বোম ফুটিয়ে, এগুলো কোথায় কোরআনে লিখা আছে? দলিল কেন লাগে না এগুলো করতে? বরং এই ব্যয় অর্থটা আত্মীয় প্রতিবেশী অসহায় গরিব মিসকিন এতিমদের দেওয়া যায়। শিক্ষা জ্ঞান সংস্কৃতি চর্চায় বা অবদান রাখতে, কারো বই কিনতে, স্কুলের বেতন দিতে, শীতের পোশাক, গরমের পোশাক, ফ্যান, টেবিল চেয়ার এমনই দরকারি প্রয়োজনীয় আসবাব খরচ, কন্যাদায় বিয়ে এবং খাতনায, ঘর মেরামত ইত্যাদি ব্যাপারে সহযোগিতা করা যায়। পারলে তাদের একটু খাওয়ার ভালো ব্যবস্থা, ভালো কাপড়ের ব্যবস্থা, ভালো বাসস্থান চলার ব্যবস্থা করা উত্তম। ওই যে লোক দেখিয়ে হাইলাইটস হয়ে, কুমা লুঙ্গি শাড়ি কিনে বিলানোর পক্ষপাতী আমি নই। কম বেশি যাই হোক অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করলে, তারা তাদের বেশি প্রয়োজন বুঝে সেখানে খরচা করলো। এইতো ভালো। সহযোগিতা করতে হবে তাদের স্বাধীনতা রেখে। নারীর জীবনের মত স্বাধীনতা বেধে নয়। কেননা ৫/১০ স্থান থেকে ৫/১০খানা শাড়ি পেল, দেখা যাচ্ছে ২/৩ হাজার টাকা শাড়ির দাম। তারা অর্থনৈতিক সংকটে ২টি শাড়ি রেখে, বাকি শাড়ি বিক্রি করে। মূল দামের থেকে অর্ধেক দাম কমে। নানান কিছু ঢাকার জন্য বা লেপের কভার বানানোর জন্য, ধনীরায় আবার তাদের থেকে লাভ করে কেনে। এটা কি ভালো?? কেননা অত শাড়ি কাপড় বা লুঙ্গি তার লাগবে না। লাগবে দৈনন্দিন ক্ষুধা নিবারনের পেটের ভাত। ভাতের সাথেও তো তরকারি লাগে। তরকারি রানতে দরকার আরো অনেক কিছু। কাঁচা বাজার মসলার যে আগুন দাম! দরকার সাবান তেল ঔষধ বিছানার চাদর প্রভৃতি। কাজেই উপায় নাই মিথ্যাও বলতে হবে। এই মিথ্যা বলাও কিন্তু এরাই শেখাচ্ছে। বিক্রি তো করতেই হবে বাচার স্বার্থে। কাজেই দুই—ই অন্যায়। এই জন্যই দান করতে হয়, কিন্তু খরচের স্বাধীনতা গ্রহীতা ক্যান্ডিডেটের থাকবে। এখন লুঙ্গি কাপড় দেওয়া হয় বলেই, লুঙ্গি কাপড়ই চেয়ে নেয় লগবে বলে। লাগবে না বললে তো কেউ দেয় না। কাজেই মিথ্যে বলে গ্রহণ করে, তারপরে বিক্রি করে অন্যান্য চাহিদা মিটাই। অর্থাৎ যা বেশি প্রয়োজন এবং আগে প্রয়োজন তাই করে। যার ফলে স্বাধীনতা দিয়ে সহযোগিতা করলে, আমি মনে করি সেটাই উত্তম সেবা দান। গ্রহীতাও মিথ্যা বলবে না, দাতারও হবে দান করা। যা হোক আসুন আমরা মানুষ দেখানো, ফুর্তি মারা, ডাট করা ডামপাই দেওয়া ছাড়ি। এইসব অপচয় না করে, প্রয়োজনের মূল্যায়ন করি। দুই দিনের দুনিয়ায় সবাই সবার, সমস্যা ও প্রয়োজনের মোকাবেলা করি, শরিক হই। মরে গেলে সব অন্যের হয়ে যায়, তখন আর কেউ কারো মনে রাখেনা। আর দুনিয়ার উপরে যাদের রেখে যাওয়া হবে, তারাও মৃতদের নামে দান ধ্যান ফিতরা যাকাত দিতে পারবেনা। আদায় তারা নিজেদের নামে করবে। কারণ এটা নতুন এ যুগের হুজুরদের ফরমাইস। আবার কবরে কিছু নিয়েও যাওয়া যায় না। একমাত্র কর্ম গুন বেঁচে থাকে এবং নিজের হাতে যা সেবা দান আল্লাহ রসূলের রাস্তায় অর্থাৎ যা ইবাদত বন্দেগী করা হয়, সেটাই সাথে যাই। সেটাই নিজের হয়। কাজেই আসুন যার আছে অপচয় না করে যার নাই তার কাজে লাগাই, জনগণের জন্য কিছু করে। সেটাতে নিজেদের পাশাপাশি আত্মীয়—স্বজন প্রতিবেশী সবার মধ্যে, সবার হক ভাগ করে, সুখ শান্তি নেওয়া হবে। আমার মনে হয় বা আমি মনে করি, এটাই একনিষ্ঠ সেবা দান। প্রকৃত বিনোদন। অন্তরালে যেখানে থাকে মানব সেবা, মনের শান্তি, আর হয় মানুষের জন্য কিছু করা। অলি আল্লাহ পীর পয়গম্বর বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রতি মুসলিম ঘরে ২০২৪ এর ঈদ উৎসব। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পবিত্র আনন্দ।২১.০৩.২০২৪ইং, দুপুর ২টা, বৃহস্পতিবার।

 

 

 

Related Articles

Back to top button