উত্তাল দিল্লির রাজপথ 

উত্তাল দিল্লির রাজপথ 


টাইমস ২৪ ডটনেট: ভোটার তালিকা কারচুপির অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) ডাকা বিক্ষোভের আগে দিল্লিতে তীব্র পুলিশি পদক্ষেপ ও অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরইমধ্যে দিল্লিজুড়ে চলছে পুলিশি তাণ্ডব। এতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিল্লির রাজপথ। দিল্লিতে চলমান এই ধরপাকড়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন-অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন এবং মানিক সরকার। এ ছাড়াও বিক্ষোভের দায়িত্বে থাকা দিপসহ আরও অনেককে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিক্ষোভের দায়িত্ব নিয়েছেন অজিঙ্কা শিন্ডে।
জানা গেছে, দিল্লিতে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজপথ উত্তাল হয়ে উঠেছে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা ও ধরপাকড় চলছে। নির্বাচন কমিশন ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক (এসআইআর) এবং বিরোধী জোটের আন্দোলনের ডাককে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ রূপ ধারণ করেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যন্তর-মন্তরের মতো এলাকাগুলোতে প্রায় ২৩ হাজার সশস্ত্র পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে দিল্লিতে বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি রয়েছে, যার ফলে যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ বা জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কনট প্লেস সহ দিল্লির প্রধান প্রধান সড়কে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের আটক করতে পুলিশের ধাওয়া এবং লাঠিচার্জের পাশাপাশি পুলিশের ওপরও হামলার পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নেই এমনটি বুঝতে পারায় ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে ক্ষমতাসীন বিজেপি আতঙ্কিত বলে দাবি করেছেন ভারতীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সঞ্জয় কাপুর। হার্ড নিউজের এডিটর সঞ্জয় বলেছেন, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি কী করতে পারে এমন অজানা আতঙ্কে আতঙ্কিত বিজেপি। তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই অবাক করার যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার খুবই আতঙ্কিত যে বিক্ষোভকারীরা আসলে কী করতে পারে। তারা ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছে, বাস বন্ধ করে দিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভস্থল যন্তরমন্তরে আসতে পারে এমন যে কোনো বাহন তারা বন্ধ করে দিয়েছে। সত্যিটা হলো বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার খুবই আতঙ্কিত যে এই আন্দোলন কোথায় গড়াবে। এ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেছেন, যারা বিক্ষোভে আসছেন তাদের কেউই চায় না মোদির বিজেপি আর সরকার চালাক। তিনি বলেন, মোদি সরকার এ মুহূর্তে তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারানো শুরু করেছে। বিজেপি ভীত যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে নেই এবং ক্ষমতায় ফিরে আসা তাদের জন্য অনেক কঠিন হবে।
অভিজিৎ দিপকে জানতেন কী হতে যাচ্ছে। দিল্লিতে অপেক্ষায় থাকা পরিস্থিতি আঁচ করেই কক্ষরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা দিপকে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন অজিঙ্কা শিন্ডের হাতে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আটক থাকায় অন্য নেতারা মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত সিজেপির সংগঠন-প্রধান শিন্ডেই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন বলে শনিবার একটি আগে ধারণ করা ভিডিওতে জানান দিপকে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। বিমান থেকে দিপকের আটক হওয়ার পরপরই সিজেপির এক্স হ্যান্ডলে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এতে শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে শিন্ডের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে দেখা যায় দিপকেকে। এবার দিল্লির বিমানবন্দরে আটক ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দিপকেএবার দিল্লির বিমানবন্দরে আটক ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দিপকে। ভিডিওতে দিপকে বলেন, আপনারা যদি এই ভিডিও দেখে থাকেন, তার মানে আমি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা গ্রেফতার হয়েছি। আমাদের অনুপস্থিতিতে অজিঙ্ক বিক্ষোভ ও সিজেপি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন। অনুগ্রহ করে তাকে অনুসরণ করুন। শিন্ডে বলেন, সরকার আমাদের ঐক্যকে ভয় পাচ্ছে। অনুগ্রহ করে যন্তর মন্তরে আসুন। পুলিশ আপনাদের থামালে সেই জায়গাটাকেই যন্তর মন্তর বানিয়ে ফেলুন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিতে মুম্বই থেকে দিল্লিতে অবতরণ করার পর দিপকে এবং সিজেপির সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমানের ভেতরে ঢুকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। মহারাষ্ট্রের অজিঙ্ক শিন্ডে বছরের পর বছর ধরে অভিজিৎ দিপকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এর আগে তিনি আম আদমি পার্টির (আপ) মহারাষ্ট্র দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সমন্বয়কারী ছিলেন। জানা যায়, ২০১৬ সালে গোয়ায় প্রথম দিপকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। করপোরেট চাকরি ছেড়ে তিনি পুরো সময়ের জন্য আপের হয়ে কাজ করেন। দলে যোগ দেওয়ার পর গোয়া নির্বাচনের জন্য এক বছর সময় দিয়েছিলেন। গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে দলটি কোনও আসন জিততে পারেনি। তবু অজিঙ্ক দলের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকেন এবং আপের মহারাষ্ট্র দলের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। খবর অনুযায়ী, তিনি মহারাষ্ট্রের প্রতিটি জেলা ঘুরেছেন। অজিঙ্ক রাজ্যের উপকূলীয় শহর আলিবাগের বাসিন্দা। দিপকে, দাস ও রাঙ্কা ছাড়াও শনিবার সকাল থেকে সিজেপির আরও বেশ কয়েকজন নেতা ও বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ সিজেপিকে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। তাদের ভাষ্য, যথেষ্ট আগে অনুমতি চাওয়া হয়নি। শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ গুরুগ্রামে নিজের বাসা থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও আটক করে। নরেন্দ্র মোদি সরকারের পরিচিত সমালোচক রাঠি এ সপ্তাহের শুরুতে জার্মানি থেকে ভারতে এসেছিলেন এবং ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে সিজেপির বিক্ষোভে যোগ দেন। যন্তর মন্তরের আশপাশে নাটকীয় দৃশ্য দেখা গেছে। বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করা বিক্ষোভকারীদের ঘিরে ধরে পুলিশ। আটক বিক্ষোভকারীদের পুলিশের বাসে তুলে রাজধানীর ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাতভর অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৪০০ বিক্ষোভকারীকেও আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বামপন্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে অন্তত হাজার খানেক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছনো মাত্রই আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বকে। আটক হয়েছেন বামপন্থী ছাত্র নেত্রী নেহা বোরা ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ও। এদিন বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসকে বিমান থেকেই আটক করেছে পুলিশ। এর আগে সকালেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে তার বাড়ি থেকেই আটক করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে একাধিক জায়গায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়েছে। বিক্ষোভের ঘোষিত এলাকা হিসেবে যন্তর মন্তরকে একরকম দুর্গ বানিয়ে ফেলা হলেও দুপুরে হঠাই বামপন্থী ছাত্র-নেত্রী নেহা বোরা রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে দূরে দিল্লি হাট এলাকায় জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।
নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক লিদিয়া পলগ্রিন বলেছেন, দিল্লির রাস্তাজুড়ে পুলিশি তাণ্ডব চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, পুলিশ রাস্তায় যাকে পাচ্ছে, সেই সব তরুণ-তরুণীকে ধরে বাস ও পুলিশের ভ্যানে তুলে নিচ্ছে। এ ছাড়া দিল্লি থেকে বিবিসি সংবাদদাতা জানান, মধ্য দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। যন্তর মন্তরে যাওয়ার সমস্ত রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। অনেক রাস্তায় কাঁটাও বিছিয়ে দেয়া হয়েছে। কাউকেই ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কেউ স্লোগান তুললেই তাকে আটক করে বাসে তুলে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেছেন, যন্তর মন্তর থেকে চার কিলোমিটার দূরেও বহু গাড়ি আটকে দেয়া হচ্ছে। শুধু আন্দোলনকারীরাই নন, অনেক জায়গায় সাংবাদিকদেরও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মধ্য দিল্লির সমস্ত দোকানপাট বন্ধ। ভারতের দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করা হয়েছে। বেআইনিভাবে জমায়েতের অভিযোগে মমতাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিভি-৯। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এদিন দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েনরা। দিল্লি পুলিশ এসে তাদের সরতে বলেন। ধর্না প্রৎয়াহার করতে বলেন। কিন্তু তারপরও ধর্নায় বসে থাকেন মমতা ও তৃণমূলের বাকি সদস্যরা। এরপরই আটক করা হয় তাদের। তাদের প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা এখনও জানা যায়নি। একদিনেই দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। এর আগে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করেছে পুলিশ। তাকে সরাসরি কোনও থানায় না নিয়ে গিয়ে, দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় ঘোরানো হয়। একইভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কালীঘাট তৃণমূলের বাকি সাংসদ সদস্যদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা জানা যায়নি। এবার আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করেছে পুলিশ। এনডিটিভির লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া একইসময়ে সঞ্জয় সিং, সৌরভ ভরদ্বাজ, দুর্গেশ পাঠকসহ এএপি দলের অন্যান্য নেতাদের আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এরই মধ্যে শনিবার সকাল থেকে অন্তত হাজার খানেক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। এর আগে বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছনো মাত্রই আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বকে। আটক হয়েছেন বামপন্থী ছাত্র নেত্রী নেহা বোরা ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ও। বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসকে বিমান থেকেই আটক করেছে পুলিশ। এর আগে সকালেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে তার বাড়ি থেকেই আটক করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে একাধিক জায়গায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়েছে। বিক্ষোভের ঘোষিত এলাকা হিসেবে যন্তর মন্তরকে একরকম দুর্গ বানিয়ে ফেলা হলেও দুপুরে হঠাই বামপন্থী ছাত্র-নেত্রী নেহা বোরা রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে দূরে দিল্লি হাট এলাকায় জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এবার নকশালপন্থি দল সিপিআইএমএলের (লিবারেশন) ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা আইসার সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করেছে পুলিশ। জাতীয় রাজধানীর আইএনএ এলাকার কাছে নির্বিচারে বিক্ষোভকারীদের আটক করছে দিল্লি পুলিশ। আইসা নেত্রী নেহা বোরা এবং সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবের নেতৃত্বে ‘দিল্লি হাট’ অভিমুখে একটি পদযাত্রা শুরুর ঠিক পরেই এই আটক শুরু হয়েছে। আইসা-র সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশি ধরপাকড়ের মুখে পড়ে নেহা বোরা আগেই বিক্ষোভ কর্মসূচিটি ‘দিল্লি হাট’-এ সরিয়ে নেওয়ার ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘দিল্লি হাটই এখন আমাদের যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে। গতকাল শনিবার যন্তর মন্তরে সিজেপির ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণেরা দিল্লিতে জড়ো হন। নির্বাচন কমিশনের কথিত অনিয়মের প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। কর্মসূচি শুরুর আগেই দিল্লি পুলিশ ধ্রুব রাঠি, তুষার গান্ধী, অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে সিজেপি। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে আজ শনিবার বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর পুলিশ তাঁকে আটক করে। তাঁকে আটক করার দিনে মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলায় তাঁদের পৈতৃক গ্রামে তাঁর দাদি সাবিত্রীবাঈ শঙ্কর মারা গেছেন। দাদির বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। দিপকের দাদির মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর বাবা ভগবান এবং মা অনিতা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। দিপকেকে মুক্তি দেওয়া হবে কি না বা শেষকৃত্যের জন্য মহারাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, কিংবা তাঁকে মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়েছে কি না—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিন সকালে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই বিমানের ভেতর থেকে দিপকেকে আটক করে পুলিশ। তিনি সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে মুম্বাই থেকে দিল্লি এসেছিলেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিতে।