ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে জামায়াত কর্মীদের যা ঘটেছিল

টাইমস ২৪ ডটনেট: কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর মিছিল শেষে দলটির নেতাকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন কয়েকজন সাংবাদিক।
মারধরের শিকার একজন সাংবাদিক এবং ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত আরেকজন সাংবাদিকের মুখে উঠে এসেছে সেই ঘটনার বর্ণনা।যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার রাব্বী সিদ্দিকী ও দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ ছাড়া এটিএন বাংলার রিপোর্টার সাইফুল্লাহ আল হেলাল মারধরের শিকার হয়েছেন বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।তাদের ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে মারধর করা হয়েছে।মারধরে আহত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির বলেন, মিছিল শেষে জামায়াতের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছিল।
তখন গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয় যিনি মূল বক্তব্য দিবেন তাকে যেন বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়। কারণ, সকলের বক্তব্য এই মুহূর্তে আমরা ব্যবহার করতে পারব না।এরকম একটি অনুরোধ গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে বলা হয়। তখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন হাজারীবাগ থানা আমীর, মাহফুজুর রহমান। এই মাহফুজুর রহমান বক্তব্য দিয়ে বের হওয়ার সময় বলছিলেন- যার প্রয়োজন সে বক্তব্য নিবেন, যার প্রয়োজন নাই সে নিবে না। মনে চাইলে থাকেন না মনে চাইলে চলে যান। আমাদের প্রয়োজন নাই আপনাদের।
শিশির বলেন, হাজারীবাগ থানা আমীর এটা বলার পরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি গণমাধ্যমকর্মীদের এই ধরনের কোনো কথা বলতে পারেন কি না? গণমাধ্যমকর্মীরা তো আপনাদের নেতা করে দিছে। তখন একজন আমার পরিচয় জানতে চাইল। আমার আইডি কার্ডটা তাকে দেখাই। আইডি কার্ড ফিতাসহ যখন তাকে দেখাই তখন সে আমার আইডি কার্ডটা হাত থেকে টান দিয়ে নিয়ে যায়। এর পরে মূলত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়।
সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির বলেন, এই সময় জামায়াতের একজন নেতা টিশার্টের কলার ধরে টান দেন। টান দিয়ে ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে তার শার্টের কলার ছিড়ে ফেলে এবং তাকে মারধর করা হয়। প্রথমবার আক্রমণ করার পর তিনি সেখান থেকে সরে এসে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন। অনেকগুলো বেসরকারি গণমাধ্যম ছিল। দ্বিতীয় দফায় সেখানেও তাকে মারধর করা হয়। এই হামলায় দুই হাতের বেশ কয়েকটা জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নাক ফেটে গেছে বলে জানান সাংবাদিক শিশির। তিনি বলেন, আহত হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিক ভাবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হাসপাতালে যান এবং সেখানে চিকিৎসা নেন।ধানমন্ডি-৩২ এ সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনা নিয়ে আরেকজন গণমাধ্যমকর্মী বলেন, মিছিল শেষে সেখানে স্থানীয় থানা শাখার জামায়াতের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় একজন সাংবাদিক বলেন এত বক্তব্য না দিয়ে সংক্ষেপে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ করেন।সেই সময় হাজারীবাগ থানার জামায়াত নেতা মাহফুজ বলেন, যার দরকার নেন। না হলে চলে যান। তখন সাংবাদিক শিশির বলেছিল, আপনারা এভাবে কথা বলতে পারেন না। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক শিশিরকে মারধর করা হয়। এরপর অন্য সাংবাদিকরা ভুক্তভোগী সাংবাদিকের বক্তব্য নেওয়ার সময় আবারও তাকে মারধর করা হয়। সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে জামায়াত ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দলটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ধানমন্ডি জোনের বিক্ষোভ কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর সেখানে উপস্থিত কিছু অতি-উৎসাহী ব্যক্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত বহিরাগতদের উসকানিতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বা কোনো উগ্র আচরণকে জামায়াতে ইসলামী কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনার পেছনে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত এবং কীভাবে এই ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত হলো, তা খতিয়ে দেখতে দলের পক্ষ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করা হবে। যদি আমাদের কোনো স্তরের কর্মীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলায় আহত মাহফুজুর রহমান শিশিরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং তার প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানান।ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জামায়াতে ইসলামী আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।



