topস্বাস্থ্য

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক কোম্পানির সাথে আপোষ নয়: ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধের দাবি

মাখদুম সামি কল্লোল: তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের তুলনায় তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয় এবং পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক কোম্পানির কোনো প্রকার প্রলোভন বা স্বার্থের কাছে আপোষ না করার আহ্বান জানিয়েছে দেশের শতাধিক তামাকবিরোধী সংগঠন। আজ ১২ মে ২০২৬, রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘৬ষ্ঠ জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মশালা’য় এই দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির বেসরকারি সদস্যরা অংশ নেন।
সংশোধিত আইন ও নতুন ঝুঁকি:
কর্মশালায় বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ২০২৫ সালে পাস হওয়া অধ্যাদেশে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস নিষিদ্ধের বিধান থাকলেও ২০২৬ সালের সংশোধিত আইন থেকে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তামাক কোম্পানিগুলো তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে এই ক্ষতিকর পণ্যগুলোর বাজারজাতকরণের সুযোগ পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে ই-সিগারেটকে ‘কম ক্ষতিকর’ হিসেবে প্রচার করে তরুণদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলে তারা সতর্ক করেন।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত:
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে ই-সিগারেট ও ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মো. আখতারউজ-জামান তৃণমূল পর্যায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় করার ওপর জোর দেন। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করেছে এবং দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
কর্মশালার সুপারিশসমূহ:
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় ২৫ জন বিশেষজ্ঞের আলোচনা ও ১০টি প্রবন্ধ উপস্থাপনার মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়:
১. ই-সিগারেট, ভেপিং ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধে দ্রুত পৃথক আইন প্রণয়ন।
২. আমদানি আদেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান পুনর্বহাল।
৩. স্কুল-কলেজের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি ও বিজ্ঞাপন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
৪. তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে এফসিটিসি’র অনুচ্ছেদ ৫.৩ বাস্তবায়ন।
৫. তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বেসরকারি সংগঠনগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
আইনি প্রেক্ষাপট:
বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১৬ সালে উচ্চ আদালতের এক রায়ে তামাকের ব্যবহার ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা এবং নতুন কোনো তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এই আইনি নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে পালনের দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের হেলাল আহমেদ, ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের মো. শফিকুল ইসলাম এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সৈয়দা অনন্যা রহমানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

Related Articles

Back to top button