বাংলাদেশ

শ্যামপুর-কদমতলীতে সরকারি মেডিকেল কলেজ করার ঘোষণা এমপি জয়নুল আবেদীনের

মোঃ মিলন, ঢাকা : ​‘মাদকের সাথে কোনো আপস নয়, বেকারত্ব দূরীকরণে তৈরি হচ্ছে বিশেষ রোডম্যাপ’(শ্যামপুর-কদমতলী) আসনের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। একই সাথে এলাকাকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে এবং বেকারত্ব দূরীকরণে একটি সমন্বিত ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ’ প্রকাশ করেছেন তিনি।

​শনিবার (৯ মে) রাতে নিজ কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
​মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’
​এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতা ও যুবসমাজ রক্ষা প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন:
​”মাদক একটি পরিবার ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের মূলে। ঢাকা-৪ আসনে মাদক ব্যবসায়ী বা তাদের মদদদাতাদের কোনো ঠাঁই হবে না। আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী সামাজিক কমিটি গঠন করা হবে এবং পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় এলাকাকে চিরতরে মাদকমুক্ত করা হবে।”
​স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত
​বর্তমানে এই নির্বাচনী এলাকায় কোনো বিশেষায়িত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান না থাকায় সাধারণ মানুষকে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ প্রসঙ্গে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, “ঢাকা-৪ এর কয়েক লক্ষ মানুষ যাতে ঘরের কাছেই উন্নত এবং সুলভ চিকিৎসা পায়, সেজন্য আমি একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এটি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতে এক বিশাল বিপ্লব ঘটবে।”
​কর্মসংস্থান ও কারিগরি শিক্ষা
​এলাকার বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সংসদ সদস্য তাঁর রোডম্যাপে তিনটি বিশেষ দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করেন:
শিল্প সমন্বয়: স্থানীয় শিল্প কলকারখানার সাথে সমন্বয় করে স্থানীয় দক্ষ যুবকদের কর্মসংস্থানের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।
আইটি প্রশিক্ষণ: আধুনিক বিশ্বে তাল মেলাতে তরুণদের জন্য বিশেষায়িত আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা।
কারিগরি শিক্ষা: সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো।
​স্মার্ট ঢাকা-৪ গড়ার অঙ্গীকার
​সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত একটি ‘আধুনিক স্মার্ট ঢাকা-৪’ গড়ে তোলাই তাঁর মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমি চাই আমাদের তরুণ প্রজন্ম মাদকের অন্ধকার ছেড়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর হোক।”
​মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিক ও স্থানীয় সুধী সমাজ সংসদ সদস্যের এই সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগগুলোকে সাধুবাদ জানান। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা এবং মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

Related Articles

Back to top button