আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পর বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য ভালো খবর নয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আবার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শেখ হাসিনার আমলে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্যেই তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গত মাসে পদত্যাগ করেন। এর ফলে শেখ হাসিনা তার একজন বিশ্বস্ত মিত্রকে হারিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। ওই আন্দোলনের পেছনে স্বৈরশাসন ও সরকারি চাকরিতে বৈষম্যের অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয় কাজ করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার দলকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মির্জা ফখরুলের অবস্থান
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পূর্বের বিভিন্ন বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমস লিখেছে, মির্জা ফখরুল অতীতে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লন্ডনে বিএনপির একটি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মির্জা ফখরুল ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা এবং অন্যান্য বাংলাদেশি মিশনের বাইরে ভারতীয়দের বিক্ষোভ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের বিশ্লেষণে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।