ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিকল্প বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিকল্প বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র


টাইমস ২৪ ডটনেট: ইরানের নেতৃত্বকে উৎখাত করার জন্য প্রচলিত সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশল ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথাও বিবেচনা করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাবেক সন্ত্রাসবাদ দমন উপদেষ্টা জো কেন্ট। তিনি সম্প্রতি এক পডকাস্টে এই ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। পডকাস্টার টাকার কার্লসনের শো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ইস্যুতে পারমাণবিক বিকল্পকে উড়িয়ে দেওয়া বোকামি হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত কোনো ফল পাননি। গত এপ্রিলে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে না নেয়, তাহলে ইরানের “পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে”। পরে তিনি বারবার বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকিও দেন।
কেন্টের মতে, ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করে “সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ” বাধ্য করতে চাইলে ট্রাম্পের কাছে এখন মাত্র দুটি পথ খোলা—একটি পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান অথবা পারমাণবিক হামলা। কিন্তু ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও জনসংখ্যার কারণে প্রথম পথটি “কোনোভাবেই সম্ভব নয়” বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পার্বত্য অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে একটি “সীমিত পারমাণবিক হামলা” চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে ওয়াশিংটন। কেন্ট বলেন, “আপনি যদি পরিস্থিতিটি যথেষ্ট দীর্ঘ সময় ধরে কল্পনা করতে থাকেন, তাহলে দ্রুতই গণবিধ্বংসী অস্ত্রের পর্যায়ে পৌঁছে যাবেন।”
এর আগে গত মাসের শেষ দিকে পেন্টাগনের উচ্চ-নির্ভুল যুদ্ধাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুদ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশ পেলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সর্বশেষ হামলা স্থগিত করে। যদিও ট্রাম্প ও অন্যান্য কর্মকর্তারা সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, পেন্টাগনের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে।সংবাদ পড়ুন
আরও পড়ুন: ৪৬ দেশের নাগরিকদের আগাম ভিসা ছাড়াই আমিরাত ভ্রমণের সুযোগ, তালিকায় নেই বাংলাদেশ
তবে কৌশল পরিবর্তন করে গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে “চূর্ণকারী অর্থনৈতিক অভিযান” শুরু করেছেন, যাকে তিনি “অর্থনৈতিক ডি-ডে” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এর কয়েকদিন পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন, যাতে ২১টি চীনা প্রতিষ্ঠানসহ মোট প্রায় ৬০টি সংস্থা, ব্যক্তি ও জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে না তাদের শাস্তি দেওয়া হবে এবং ইরানের পক্ষে অর্থ পাচারে সহায়তা করা যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ডলার ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া হবে।