টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকালে বাংলাদেশের পশ্চিমের জেলা কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবার ড. ইউনূসের অন্তবর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তাঁদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে, ৭ অক্টোবর দুই পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। মাহবুব-উল আলম হানিফ ছাড়াও আলোচিত এই মামলার আসামিরা হলেন, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামি লিগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর
আলি ও শহর আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। আসামিদের সবাই পলাতক রয়েছেন। গত বছরের ২ নভেম্বর এ মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই আওয়মি লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত থেকে তাঁর (কাদের) উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন করেন আসামি মাহবুব উল আলম হানিফ। এ ছাড়া ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে এক
আলোচনা সভায় আন্দোলনকারীদের জামাত, সন্ত্রাসী, সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা দেন হানিফ। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, হানিফের নির্দেশে ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামি লিগের কার্যালয়ে সদর উদ্দিন খান, আসগর আলি, আতাউর রহমানসহ অন্য আওয়ামি লিগের নেতারা সভা করেন। সে সভায় নিরীহ–নিরস্ত্র ছাত্র–জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সভা থেকে কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের জন্য আওয়ামি লিগ সন্ত্রাসীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। তৃতীয় অভিযোগ হলো, এই মামলার চার আসামির নির্দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামি লিগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা ছাত্র–জনতার ওপর গুলি চালায়। তাদের গুলিতে সেদিন ছয়জন শহীদ হন। তাঁরা হলেন- আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলি, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজি ও ইউসুফ শেখ।
প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৫ মার্চ এই মামলার তদন্ত শুরু হয়েছিল। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। পরে ট্রাইব্যুনালে ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ২ নভেম্বর এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। সেদিনই সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। এ মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয় ১০ জুন। সেদিনই ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রাখেন। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও সাক্ষী ও নথিপত্র হাজির করা হয়। নতুন সাক্ষী, নথিপত্রের ওপর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। ৭ অক্টোবর যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হয়। এরপর আবার মামলাটি রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রাখা হয়। গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল–২ আদেশ দেন, বৃহস্পতিবার (আজ) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যা মামলায় লিগনেতা হানিফের মৃত্যুদণ্ড