topবাংলাদেশ

শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে বহিরাগতদের নিয়ে হট্টগোলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর উত্তরার শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে গভর্নিং বডি পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের মধ্যে এবার সাবেক পরিচালক (প্রশাসন) কে এম গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে বহিরাগতদের নিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি একাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠানো গভর্নিং বডি-সংক্রান্ত চিঠি পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কলেজ-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গত ৪ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনর্গঠিত গভর্নিং বডি-সংক্রান্ত একটি চিঠির অনুলিপি নিয়ে কে এম গোলাম মাওলা অধ্যক্ষের কক্ষে যান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন বহিরাগতও ছিলেন। চিঠি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষের কক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘটিত ভাঙচুরের একটি ঘটনায় দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় কে এম গোলাম মাওলার নাম ১৭ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কলেজ-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে এবং মামলাটি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠির ফটোকপি দেখিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করা হয়। এতে অফিসে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর আগের ঘটনায়ও মামলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কে এম গোলাম মাওলা বলেন, “আমি একাই অধ্যক্ষের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গভর্নিং বডি-সংক্রান্ত চিঠি পৌঁছে দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে পুলিশের তিনজন এসআই উপস্থিত ছিলেন। কোনো হট্টগোল বা চেঁচামেচি হয়নি।”

পূর্বের মামলার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ওই মামলাটি ভিত্তিহীন ছিল এবং তিনি আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি এবং আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী নতুন গভর্নিং বডি বৈধভাবে গঠিত হয়েছে। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টির সত্যতা জানতে তিনি সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান।

কলেজ-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বে দায়িত্বে থাকা অনেক কর্মকর্তা পদত্যাগ বা দায়িত্ব ছেড়ে চলে যান এবং বর্তমানে নতুন প্রশাসনিক টিম দায়িত্ব পালন করছে। তবে গভর্নিং বডির কাঠামো নিয়ে বিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের বক্তব্য জানতে মুঠো ফোনে জানান , দাপ্তরিক কাজে তিনি আদালত পাড়ায় রয়েছেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কলেজ প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়াও জানা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, গভর্নিং বডিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের চলমান বিরোধ, পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং বারবার সৃষ্ট হট্টগোলের কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত এ বিরোধের আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান না হলে শিক্ষা কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবা এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং আদালত ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।

Related Articles

Back to top button