দাবি না মানলে পরিস্থিতি বাংলাদেশ-নেপালের মতো হবে
থ্রি ইডিয়টস ছবির বাস্তব চরিত্র সোনম ওয়াংচুকের সতর্কতা

টাইমস ২৪ ডটনেট: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের জেরে দিল্লির যন্তর মন্তরে অব্যাহত আন্দোলন করে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তারা ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষায় সুষ্ঠুতা আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে নবগঠিত তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)। শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন থ্রি ইডিয়টস ছবির বাস্তব চরিত্র সোনম ওয়াংচুক। তিনি যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন করছেন। লাদাখের এই পরিবেশবিদ সতর্কতা দিয়ে বলেছেন, যদি ভারত সরকার শিক্ষার্থীদের এ দাবি না মানে এবং তাদের ওপর কোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগ করে তাহলে পরিস্থিতি বাংলাদেশ ও নেপালের মতো হতে পারে। এ দুই দেশে শিক্ষার্থীরা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরকারের পতন ঘটিয়েছেন।মঙ্গলবার (৩০ জুন) সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাম ইন্ডিয়াকে যন্তর মন্তর থেকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। এতেই তিনি এ সতর্কতা দেন।ওয়াংচুক জানান, শিক্ষার্থীরা এখন গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করছে। কিন্তু যদি তাদের কথা না শোনা হয় তাহলে তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাবে। তখন তারা কঠোর আন্দোলনের দিকে ধাবিত হতে পারে।
আমরণ অনশনে সোনম ওয়াংচুক তিনি বলেছেন, “আমি যা চাই না তা হলো— তারা যেন গণতন্ত্রের ওপর বিশ্বাস না হারায়, তারা যেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর বিশ্বাস না হারায়। যদি কোনো কিছু না হয় এবং সরকার কোনো (দমনমূলক) কঠোর পদক্ষেপ নেয় এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় না আনা হয়, তখন বাংলাদেশ ও নেপালে যা হয়েছে (বিক্ষোভ) তা দেখতে পাবেন। এটি হলো সর্বশেষ বিষয় যা আমি দেখতে চাই।” দিল্লির যন্তর মন্তরে তেলাপোকা জনতা পার্টির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখনো শান্তিপূর্ণ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবীরা প্রচন্ড গরমের মধ্যেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, খাবার এবং পানির ব্যবস্থা ঠিক রাখছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের সরকারের কাছে ফুল নিয়ে (নমনীয় হয়ে) যেতে বলেছেন। সঙ্গে সতর্কতা দিয়ে বলেছেন তা সত্ত্বেও যদি সরকার কোনো পদক্ষেপ না নেয় তাহলে সরকার বিপজ্জনক খেলা খেলছে। যার পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে। ওয়াংচুক বলেন, “শান্তিপূর্ণ কণ্ঠকে শোনার মাধ্যমে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখা এখন সরকারের ওপর নির্ভর করছে। যদি তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে মূল্য না দেয় তখন তরুণরা বুঝতে পারবে শান্তিপূর্ণ থাকার কোনো পুরস্কার নেই। যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সম্মান ও মূল্য না দেওয়া হয়, অনেকেই আছে বলছেন এমন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কোনোদিন কাজে দেয় না। তখন তাদের এই বলাটাই সত্যি হবে। যা আমি চাই না।”
সূত্র: টেলিগ্রাম ইন্ডিয়া।



