topআন্তর্জাতিক

যুদ্ধ অবসানে চীনের সাহায্য চান না ট্রাম্প

টাইমস ২৪ ডটনেট: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ এক সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ত্যাগ করেছেন তিনি। বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিলে বেইজিংয়ের সহায়তার প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের ফলে বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে চীনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প তা হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে আমাদের কারও সাহায্যের দরকার নেই। আমরা কোনো না কোনোভাবে জিতে যাব—তা আলোচনা বা যুদ্ধ যেভাবেই হোক। ভঙ্গুর অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের বিভিন্ন দাবি নিয়ে এখনও মতবিরোধ রয়েছে।

ওয়াশিংটন তেহরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল এবং প্রণালির ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ, মার্কিন অবরোধের অবসান এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে ইসরায়েল। ট্রাম্প ইরানের এসব দাবিকে ‘‘আবর্জনা’’ হিসেবে অভিহিত করে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিশ্লেষকরা বলেছেন, ওই অঞ্চল থেকে তেল ও তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পাঠানো বিষয়ে ইরাক ও পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি করে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করেছে ইরান।

অন্যান্য দেশও একই ধরনের ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করছে। এই পদক্ষেপের ফলে ওই নৌপথের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের শীর্ষ বৈঠকের আগে এই ইস্যুতে ঐকমত্য প্রদর্শনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, গত মাসে মার্কিন ও চীনা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন, কোনও দেশই এই অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য টোল আদায় করতে পারবে না। ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা এবং তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা চীন এই বক্তব্যের কোনও প্রতিবাদ জানায়নি।

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।

Related Articles

Back to top button