উত্তরা কুশল সেন্টার মার্কেটে অগ্নিনিরাপত্তাহীনতা, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও ফুটপাত দখলের অভিযোগ

ওয়াহিদ শাহ্ শান : রাজধানীর উত্তরা এলাকার কুশল সেন্টার মার্কেটকে ঘিরে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায়, ফুটপাত দখল এবং নিচতলার জুতার মার্কেটের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীর মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, ” মার্কেটে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। অনেক স্থানে ফায়ার এক্সটিংগুইশার থাকলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জরুরী নির্গমন পথ পর্যাপ্ত নয় বলেও দাবী করেন তারা । কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টতা “। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকান মালিক বলেন,প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। কিন্তু অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় আমরা আতঙ্কে থাকি। মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ীর দাবি, তাদের কাছ থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হচ্ছে। বিলের স্বচ্ছ হিসাব প্রদর্শন না করেই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সন্তোষজনক জবাব পাননি বলে জানান কয়েকজন ব্যবসায়ী। মার্কেটের নিচতলার জুতার মার্কেট সম্পূর্ণ অগোছালো ও অপরিচ্ছন্ন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরু পথ, এলোমেলো দোকান বিন্যাস এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবের কারণে পরিবেশবান্ধব তো নয়ই, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন ক্রেতারা। পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কেটের সামনের ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এতে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং যানজট বাড়ছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, এসব দোকান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। যদিও এ বিষয়ে কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী বিষয়টি “ওপেন সিক্রেট” হিসেবে পরিচিত। কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, মার্কেট পরিচালনা কমিটির প্রভাব ও ক্ষমতার বলয়ে এসব কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তবে কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সাড়া মেলেনি। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিদ্যুৎ বিলের স্বচ্ছতা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের নজরদারি জোরদার না হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।



