দক্ষিণখানে ‘মন্ডল অ্যান্ড সন্স’ ও মেসার্স ‘উত্তরা কনস্ট্রাকশন’-এর লাইসেন্স ব্যবহার করে অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে তিতাস

রানা মিয়া, উত্তরা, ঢাকা: রাজধানীর দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ এলাকায় অনুমোদনহীন গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি.-এর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন স্থাপনায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগে ‘চঞ্চল’ নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি ‘মেসার্স মন্ডল অ্যান্ড সন্স’ ও ‘মেসার্স উত্তরা কনস্ট্রাকশন’ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে এসব গ্যাস সংযোগের কাজ পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকট থাকলেও রাতের আঁধারে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নতুন নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, এসব সংযোগের অধিকাংশই অনুমোদনবিহীন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে স্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ মে গভীর রাতে ফায়দাবাদ এলাকার মিজানের গ্যারেজ সংলগ্ন একটি বেকারিতে মূল গ্যাস পাইপলাইনে ছিদ্র করে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ একটি লাইন টেনে বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ধরনের সংযোগ যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে।
এ ছাড়া ফায়দাবাদ চৌরাস্তা থেকে আইডিয়াল স্কুল সড়ক হয়ে পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত একাধিক বহুতল ভবনে অনুমোদন ছাড়াই আবাসিক গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ফায়দাবাদ পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন একটি নয়তলা ভবনে কয়েক বছর আগে স্থাপিত একটি গ্যাস রাইজারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গ্যাস সংযোগ ও এক্সটেনশনের নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ফায়দাবাদ এলাকার বাসিন্দা মিসেস কালাম অভিযোগ করেন, চুলার গ্যাস এক্সটেনশনের কথা বলে চঞ্চল তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন। এ অভিযোগের সমর্থনে ভুক্তভোগীর বক্তব্যের অডিও, অর্থ লেনদেন-সংক্রান্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট আলামত প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বৈধ গ্রাহক বলেন, “আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছি না। অথচ একই এলাকায় রাতের আঁধারে নতুন নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে বৈধ গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ আমাদের নিরাপত্তার জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তিতাস গ্যাসের প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী, নতুন গ্যাস সংযোগ বা লাইন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অনুমোদন ও কারিগরি প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ছাড়া গ্যাস সংযোগ প্রদান আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়টি তিতাস গ্যাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিজিএম জয়নাল আবেদীনকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা তিতাস গ্যাসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চঞ্চলের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরবর্তীতে পুনরায় একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।



