বাংলাদেশ

নগদ ৯ লাখসহ কয়েক লাখ টাকার সোনাদানা নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের হাত ধরে কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী উধাও

সুকুমার সরকার: নোয়াখালীর চাটখিলে তিন সন্তানকে রেখে নগদ টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার এবং মালামাল নিয়ে এক মসজিদের মুয়াজ্জিনের সঙ্গে উধাও হয়েছেন কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী নিশাত আক্তার (৩০)। এ ঘটনায় চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিশাতের মা মোসা. নাজমা আক্তার (৬০)।
অভিযুক্ত মো. রিয়াজ হোসেন (২৬) চাটখিল দক্ষিণ বাজার নোমান হাসপাতাল সংলগ্ন মিজি বাড়ি মসজিদের মুয়াজ্জিন ও লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। মসজিদের মোয়াজজিনের সুবাদে ও স্বামী প্রবাসী থাকায় নিশাত আক্তারের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে নাজমার।
নিশাত আক্তার উপজেলার ৭ নম্বর হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু ইউসুফের মেয়ে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নিশাত আক্তারের স্বামী কানাডা প্রবাসী। স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে তিনি ৩ সন্তানসহ দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। বাবার বাড়িতে থাকাকালীন চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. রিয়াজের সঙ্গে নিশাতের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কের জেরে গত ২৭ জুন দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার ৩ সন্তানকে নিশাতের বাবার বাড়িতে রেখে গেছেন।
নিশাতের মা দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৬টি স্বর্ণের আংটি, ৫টি চেইন, ২টি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়েছেন। এর আগেও স্বামীর বাড়ির কথা বলে নিশাত ঘর থেকে টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং তার নিজের ব্যবহৃত ২ লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যায়।
মেয়ের নিখোঁজের পর শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে রিয়াজ ও নিশাতের বিয়ের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
ওই হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তারা গত ৪ মে আগের কাবিননামা বাতিল করে নতুন কাবিননামা নির্ধারণপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিয়ের পরও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এই অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের আটক করতে এবং নিয়ে যাওয়া নগদ টাকা ও মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান জানান, তিনি সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদটি জেনেছেন। তবে কেউ তার কাছে অভিযোগ করেনি।
এদিকে সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মাওলানা আনসার উদ্দিন। তিনি উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আহমদিয়া বাজার এলাকার মোজাফফর নুরানি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ওই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন বাজারে এ ঘটনা।
কাণ্ডের দিন ভোর থেকেই এলাকায় প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সেদিন মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অন্য দিনের তুলনায় অনেক কম ছিল। দুপুর ১টার দিকে মাদ্রাসা ছুটি হয়ে গেলে অন্য শিক্ষার্থীরা যার যার বাড়ি চলে যায়। তবে ওই ৭ বছরের শিশুটিকে ফুসলিয়ে মাদ্রাসার একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যান সহকারী শিক্ষক আনসার উদ্দিন। সেখানে তিনি শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
শিশুটির চিৎকারে বা কোনোভাবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে তার মাকে বিস্তারিত জানায়।
ঘটনাটি জানার পর শিশুর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি অবহিত করেন। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা দলবেঁধে মাদ্রাসায় চড়াও হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আনসার উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ওই শিক্ষককে ধরে গণধোলাই দেয় এবং তার গলায় জুতারমালা পরিয়ে আহমদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় ঘুরিয়ে জুতোপেটা করে।
মোজাফফর নুরানি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা শামছুদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই আমরা মাদ্রাসা কমিটি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসি। এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক আনসার উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসা থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া শিশুর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সামাল দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Back to top button