বাংলাদেশ

ফ্যাসিস্ট হাসিনা আর সাবেক রাস্ট্রপতি চুপ্পুর মধ্যে গোপন যোগাযোগ রক্ষাকারী কে এই নিশাদ দস্তগীর?

টাইমস ২৪ ডটনেট : সৈয়দ গোলাম দস্তগীর নিশাদ ওরফে নিশাদ দস্তগীর ব্রিটিশ পাসপোর্ট ধারী এক বহুরূপী প্রতারক বাংলাদেশী। এরশাদের জাতীয় ছাত্র সমাজের একসময়ের ক্যাডার নিশাদ ৯০ সালের আগে লন্ডনে পাড়ি জমালেও বিগত ফাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে মন্ত্রী এমপি না হয়েও যার বেশির ভাগ সময় কেটেছে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়, সংসদ ও সচিবালয়ে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার ও বদলি বাণিজ্যর দালালি করে। স্মার্ট চেহারার বর্ণচোরা ধূর্ত নিশাদ নিজেকে শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে সব মহলে অবাদ বিচরন করতো। বঙ্গভবন থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে তার চলাফেরায় কেউ তার আসল পরিচয় জানতে চাইতো না । নিজের কোনও ব্যবসা বা সরকারি পদ না থাকলেও শুধু মাত্র দালালি করে নিশাদ কামিয়েছে কোটি কোটি টাকাএবং উত্তরার ৪ সেক্টরের ১৪/এ রোডের ১/এ নম্বর বাড়িতে করেছে প্রাসাদসম ৬ তলা ভবন।

নিশাদের মামা সাবেক জেলা জজ বোরহান উদ্দিনের সাথে এক সময় চাকুরির সুবাদে চুপ্পু দুদকের কমিশনার থাকাকালীন ধূর্ত নিশাদ চুপ্পুর সাথে মামা ভাগিনা পরিচয়ে একসাথে কোটি কোটি টাকা দুর্নিতি করে। চুপ্পুর সাথে মিলে এস আলমের অবৈধ টাকা বিভিন্ন দেশে পাচার এবং দুবাই, সিঙ্গাপুর ও মালয়শিয়ায় সেকেন্ড হোম করতে তাদের সহযোগিতা করে।

সূত্র আরো জানায়, ২০২৩ সালের ২৩ শে এপ্রিল সাহাবউদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপতি হলে তার ছত্রছায়ায় সহজে অবৈধ কাজ করার সুবিধার্থে নিশাদ নিজের বাসা ছেড়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ৩২৬ নাম্বার ভিআইপি রুমে থাকা শুরু করে। যার প্রায় কয়েক কোটি টাকা বিল তখন পরিশোধ করা হয় বঙ্গভবন থেকে। ২o২৪ এর ৫ই আগস্ট পর ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে ছাত্র জনতার চোখ ফাঁকি দিয়ে নিশাদ বঙ্গভবনে গিয়ে আশ্রয় নেয়। মাস খানেক রাস্ট্রপতির আত্মীয় পরিচয়ে বঙ্গ ভবনে লুকিয়ে থেকে সুযোগমতো আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারত হয়ে লন্ডন চলে যায়। ২০২৩ অক্টোবর থেকে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পর্যন্ত ইন্টারকন্টিনেন্টাল ৩২৬ নাম্বার রুম এবং ২৪ এর ৫ আগস্ট থেকে কয়েক মাস বঙ্গভবনের অতিথি তালিকা চেক করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।

পালিয়ে লন্ডন গিয়েও নিশাদ এখনও দেশ ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। লন্ডন থেকে বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে পালিয়ে থাকা আওয়ামী নেতাদের পাচারকৃত অর্থ পৌঁছে দেয়া এবং দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। গত মে মাসে সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পু চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডন গেলে নিশাদ দস্তগীর তার সাথে দেখা করে এবং ভারতে পালিয়ে থাকা ফাসির দন্ডপ্রাপ্ত হাসিনার সাথে ভিডিও কলে কথা বলিয়ে দেয়। এছাড়া গোপনে ইউরোপে বসবাসরত অনেক পলাতক নেতাকর্মীকে চুপ্পুর সাথে দেখা করার বাবস্থা করে দেয়। যা বাংলাদেশস্থ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা পরবর্তীতে জানতে পারে।

ইতিমধ্যে নিশাদের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার ব‍্যাপারে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

Related Articles

Back to top button