মাদকের থাবায় জিম্মি টেকপাড়া, অভিযুক্তদের দৌরাত্ম্যে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন ৪৩নং ওয়ার্ড ডুমনী টেকপাড়া দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ মাদক কারবারের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ফলে এমন অভিযোগে উদ্বেগ ও ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, রিমা ও তাঁর স্বামী নায়েব আলীর দুই মেয়ে সুপ্তি,স্বর্না,ছেলে রিজন,ভাই আলম ও তার স্ত্রী রুনার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি মাদকের নেটওয়ার্ক টেকপাড়াকে কার্যত মাদক লেনদেনের স্পটে রূপ দিয়েছে। এখান থেকে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা,পূর্বাচল উপশহর, খিলক্ষেত এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, খিলক্ষেত ও পূর্বাচল এলাকার একাধিক খুচরা ও পাইকারি মাদক কারবারির সঙ্গে এই নেটওয়ার্কের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি এই মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসায় সাধারণ মানুষ ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একসময় রিমা নিজেই কক্সবাজার, টেকনাফ ও কুমিল্লা থেকে মাদক সংগ্রহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।রিমার মোবাইল নাম্বার – 01328062639/ 01918838098। বর্তমানে সীমান্তঘেঁষা এলাকার কথিত মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ গড়ে উঠেছে এবং এখন ফোনের নির্দেশেই বড় চালান টেকপাড়ায় পৌঁছে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, রিমার ভাই আলম মিয়া কাঠালদিয়া সংলগ্ন ১০০ ফিট সড়ক, কুমারপাড়া ও আশপাশের এলাকায় মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত। আলমের মোবাইল নাম্বার-01829139041। টঙ্গী থেকে হেরোইন এনে সরবরাহ করা হয় এবং আলমের স্ত্রী রুনার বিরুদ্ধেও হেরোইন বিক্রির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, মাদকের এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন উৎস থেকে পাইকারি ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। বিকেল গড়ালেই টেকপাড়া ও আশপাশে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যায়; বিশেষ করে কিশোরদের মাদকচক্রে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে।
রিমা ও আলম মিয়ার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা রয়েছে। রিমার বিরুদ্ধে ২০২১ ও ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় তাঁকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয় এবং উভয় মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হয়েছে। একইভাবে আলম মিয়ার বিরুদ্ধেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রুজু হয়েছে এবং সেসব মামলায় তিনিও এজাহারভুক্ত আসামি।
রিমার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানার এফআইআর নং-৯ (তারিখ: ১০ অক্টোবর ২০২৩) মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। ওই মামলায় ২৯ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে চার্জশিট (নং-২৫৩) দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া এফআইআর নং-২৪/৩৫৪ (তারিখ: ১৭ নভেম্বর ২০২১) মামলায় ৩৬(১) সারণির ৮(ক) ও ১০(ক) ধারায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই মামলায় ২৫ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে চার্জশিট (নং-৩৩৭) দাখিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আলম মিয়ার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানার এফআইআর নং-৩৬/৩৬ (তারিখ: ২৬ জানুয়ারি ২০২১) মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় মামলা রয়েছে। এছাড়া এফআইআর নং-২৪/৩৫৪ (তারিখ: ১৭ নভেম্বর ২০২১) মামলায় ৩৬(১) সারণির ৮(ক) ও ১০(ক) ধারায় তাঁকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, টেকপাড়ার মাদক ব্যাবসায়ী আলম ও রিমার বিরুদ্ধে মামলা ও চার্জশিট থাকা সত্ত্বেও মাদকের এই নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই চক্রের কারণে টেকপাড়ার সামাজিক পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, কিশোরদের মধ্যে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এলাকাবাসী টেকপাড়ার মাদক নেটওয়ার্কের উৎস ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টেকপাড়াকে মাদকমুক্ত করতে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।



