
যশোর প্রতিনিধি : যশোরের ঝিকরগাছায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের এক নেতাকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি, মারধর ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় আরেক কর্মীকেও মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা জামায়াতের নেতারা।
গত বুধবার প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম ও আল-আমিন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদে যান উপজেলা যুব জামায়াতের টিম সদস্য জহিরুল ইসলাম। কাজ শেষে উপজেলা পরিষদের গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় আরমান হোসেন কাকন, নাফিজ অনিক, নওয়াজিস ইসলাম রিয়েল, রাসেল, সাগর, পিন্টু হোসেন পিনুসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে তার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক অন্য একটি মোটরসাইকেলে তুলে ঝিকরগাছা আবিদ ডায়াবেটিক হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। সেখানে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা জহিরুল ইসলামের এটিএম কার্ড ও পিন নম্বর নিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি ব্যাংকের চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন এবং এটিএম বুথ থেকে আরও ১২ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
একই ঘটনায় আল-আমিনকেও মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। জহিরুল ইসলামের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগে বলা হয়। পরে আহত অবস্থায় তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আহত জহিরুল ইসলাম বর্তমানে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রথমে তাকে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত করতে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া থানায় অভিযোগ দিতে গেলে অভিযুক্তদের কয়েকজন উপস্থিত হয়ে অভিযোগ গ্রহণ না করতে পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগ করে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।



