মা দিবস সবার জন্য নয়

সৈয়দা রাশিদা বারী : একটা জিনিস লক্ষ্য করার বিষয়, জীবনে যারা সর্বোচ্চ শয়তানি করেছে, মানব ধর্ম ভেঙেছে, আল্লাহ রাসূল (সা:)’র নির্দেশ অমান্য করেছে, মা অথবা বাবাকে নির্যাতন করে মেরেছে! ভাই হয়ে ভাইকে অথবা কোন বোনকে, কোন দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে, পথে বসিয়েছে! শেষ করে দিয়েছে! মেরে ফেলেছে! হয়তো বাইরের কেউ সেটা জানে না! আল্লাহ যদি সব দেখেনই তবে আল্লাহ তো সেটা দেখেছেন! মানুষের জীবনের সব কিন্তু লেখা যায় না? সংসারের সব কিন্তু প্রকাশ পায় না? লেখক নিজের জীবনী নিজে লিখলেও, তার জীবনের সব কথা লেখেন না! প্রকাশ করেন না! যাইহোক যা বলছিলাম, ওই সর্বোচ্চ অন্যায়কারী ব্যক্তিই কিন্তু লাস্টে বসে থেকে, ওই অসৎ পথে উপার্জনের সম্পদ খায়, আর আল্লাহর গুণ গান গায়। আল্লাহর ফরমাইজ ফরমাই। মানে এক সময়ের সর্বোচ্চ অন্যায়কারী, সাধু শয়তান বা শয়তান সাধু সেজে, আল্লাহর বাণী ফেসবুকে বড় বড় বুলি ছাড়ে! এটা কিন্তু তার ঘরের ভিতরেই ঘটে এবং করে!! পরবর্তী যখন পাজি হয়ে যায় হাজী, মানে পাজি হাজী সাজে, তখন দূর থেকে দূরের মানুষ তার মনুষ্যত্বহীনতা না জেনে, না বুঝে, মানুষ তার বর্তমান রূপের উপর ঈমানী মহব্বত আনোয়ন করে! ইসলামের মিষ্টি মিষ্টি বুলি ছুটোই। ওই মিষ্টি মিষ্টি বুলি শুনে নতুন মানুষরা নতুন মহব্বতে তাকে নিয়ে উৎলে পরে। উচ্ছাস আনন্দ করে! তাই সবাই না হলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যাকে যত বেশি দেখবেন আল্লাহর কাজ করছে, ফেসবুকে আল্লাহর নিয়ে মাতামাতি করছে! আত্মীয়তার পেজ খুলে আল্লাহর ইসলাম ছুড়ছে! ইসলাম প্রচার করছে! আল্লাহর আদেশ, নবী রাসুলের নির্দেশ, মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালন সম্বন্ধে বলি ছুটছে, ইত্যাদি করছে!! জানবেন যে সে তত বেশি খারাপ অন্যায় কাজ করেছে!! সেইসব করে, তারপর হাজী সেজেছে! সেই সব অন্যায় সংশোধনও করি নাই! তার জন্য যার জীবন বিপন্ন হয়েছে! ধ্বংস হয়েছে! তার কাছে ক্ষমা চাই নাই! তার সম্পত্তি ফিরিয়ে দেই নাই! অথচ আল্লাহ রসূলের বুলি ছুরছে! পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে নিচ্ছে! নতুন নতুন মোহাব্বতে টুটুমবার হচ্ছে! উঠলে উঠলে পড়ছে এবং চলছে আল্লাহর লাইনের মহাসমারোহে! আমি কিন্তু আল্লাহর লাইনে পড়া, ঐ লাইনে পড়ে সার্টিফিকেটধারী হুজুর হাজি, অলি আল্লাহ, যিনারা টাইটেল মৌলানা তিনাদের কথা বলছি না। সাধারণের ভিতরে যারা হাজী সেজেছে পাজি ব্যক্তি, আল্লাহর কিছুই জানেনা!! অথচ আল্লাহর বুলি ছুড়ে, আল্লাহ রাসূলের কথা নিয়ে মেতে আছে!! তাদের কথা বলছি। ওইসব ভন্ডর ভন্ডামি কিছুই না জেনে, উপর নিচে না দেখে, ভিতর বাহির না বুঝে, ওই ভন্ডকে ভাবে, আল্লাহর মহা পন্ডিত! আলিম! আল্লাওয়ালি! ভাবে কি চমৎকার আল্লাহর বান্দা!! ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি। আসলে কি আল্লাহর এই ভুয়া বান্দারা বেহেস্তে যাবে? না দোজখে যাবে? কেউ কি তা জানে?? জানেনা!! আল্লাহ এক অদ্বিতীয় ধরাছোঁয়ার বাইরে, সাত আসমান জমিন উপরে বসে আছেন! আল্লাহ পৃথিবীর সব মানুষের সব দেখেন জানেন ঠিক আছে। কিন্তু হাতেনাতে অন্যায়কারীকে ধরেন না! এই সুযোগ নিয়ে, এই কারণেই আল্লাহ কি করবেন ওই দুষ্টু ব্যক্তির বিচারে, সেটা জানা সম্ভব নয়! যদি আল্লাহর সাথে প্রকাশ্যে সরাসরি কথা বলে, ওই তার ভুয়া বান্দা, ছদ্দবেশীকে, অন্যায়কারীকে ধরিয়ে দিয়ে অথবা ওইসব বেচারা সম্পর্কে জানার এজেন্ডা থাকতো, তবেই মানুষ আসল সত্য জানতো! ফেসবুকে আল্লাহর বড় বড় বুলি ছোরা মানুষগুলোই, মা-বাবার সেবা ভক্তি করে নাই! শ্রদ্ধা সেবা না করেও, মায়ের সেবা ভক্তি করার ফরমায়েশ দেওয়া, ফেসবুকে জাহেরি করা আসলে কি এটা?? উপরে এক ভিতরে আর এক!! করেছে এবং করে এক, দেখাচ্ছে এবং দেখায় আর এক । পাহাড় সমান জুলুমবাজি অন্যায়কারী অত্যাচারী, যার জন্য মা মরেছে, বোনপথে বসেছে! ইত্যাদি সেই সমাধান না করেই, সেটা ধামাচাপা দিয়েই, রুপ পাল্টিয়েছে!! হাজী হয়েছে!! মহান আল্লাহ তার অন্যায়ের সেটা ভালো করেই জানেন। মানুষই শুধু জানে না কিছু…ওই মানুষগুলো সম্পর্কে। মা দিবসে আমি কিছুই লিখতে পারি নাই, এই হতাশা এই বেদনা এই জ্বালা যন্ত্রণা অনুপিড়াই! নো! নো, এটা আমার কোন বিষয় নয়! শিশু থেকেই আমি নারী ভক্ত, নারী প্রেমী, নারী গবেষক, নারীকে নিয়েই কাজ করতে ব্যস্ত থেকেছি। এক পর্যায়ে নারীর নিয়ে কাজ করতে, যেটা আমি ভীষণভাবে উপলব্ধি করি, যেটা আমি হাতেনাতে পেয়েছি এবং দেখেছি এবং জেনেছি, এখনো জানি, সেটাই লিখলাম। মা দিবসে মায়ের প্রেম ভালোবাসা, মায়ের ছবি পোস্ট দেওয়া, মায়ের নিয়ে গাল গল্প করা, মায়ের প্রেমে উন্মুখ, এমন মুখরোচক রুচিসম্পন্ন নিয়ে, ভুনিতা মেরে, দু কলম লেখা, এটা তো যার জন্য, যার নির্যাতনের ফলে, মা নামক পবিত্র মানুষটার মৃত্যু হয়েছে! মারা গেছেন! সেই নিমক হারামিও, বিশ্ব নির্যাতনকারীও বুক ফুলিয়ে মাকে ভনিতার ভালোবাসা বেসে হাইলাইট হয়ে পোস্ট করেছে!!! অবাক কান্ড। আবার দেখা যাচ্ছে নিজের মাকে ভালবাসে কিন্তু শাশুড়িকে, স্বামীর মাকে মেরে ফেলেছে! জুলুম বাজি অত্যাচারী স্বামীর মাকে মেরে, কি সুন্দর সেও তো করছে পোস্ট!! বলছে পৃথিবীর সকল মায়ের মঙ্গল এবং সুস্থ জীবন চাই! ভালো থাকার দোয়া করি!! উফ! সেও তো পোস্ট দিয়ে দু কদম পৃথিবীর সকল মাকে ঘিরে প্রেমের বুলি ছুড়ে!! এসব দেখে আমি অবাক বিমূর্খ! তবে মুরছা যায় নাই চেতনা আছে! এই চেতনাই আমি আর এবার সেই সবার কমন কথা লিখলাম না! শুধু পড়ে পড়ে দেখলাম আর উপলব্ধি করলাম! যখন আমার গবেষণা জীবনের মানুষদের করা ফেসবুক পোস্টও সামনে বাধল! আঙ্গুর ফল খুব বেশি টক নয়, শেয়াল আঙ্গুর ফল না পেলে, নিজেকে সান্তনা দিতে বলেছিল আঙুর ফল টক। আর বিড়াল ধোয়া ওঠা গরম হাতে বেজার হয়। আজ আমি লিখছি নিশ্চয়ই এ ধরনের লেখায় সবাই খুশি হবেন না। কেউ কেউ রেগেও যাবেন। দুর্বলতা যাদের আছে, রাগা তো তাদের স্বাভাবিক। চোরের মন পুলিশ পুলিশ যেমন। তেমন যার কর্মের সঙ্গে এটা মিলে যাবে, যে তার মাকে নির্যাতন করে মেরেছে! যে তার শাশুড়িকে নির্যাতন করে মেরেছে! অনেকে অনেকের জীবন ধ্বংস করেছে, তার তো রাগ হবেই ভাই! যাহোক আমি গতানুগতিক কিছু লিখতে পারলাম না। আমি পৃথিবীর সকল মায়ের সম্মানার্থে আরজি জানাচ্ছি এবং বলতে চাই। ভাইরে উপরে এক ভিতরে আর এক হয়ে, আল্লাহর রাসূলের দোহাই দিয়ে, মাকে ভাঙিয়ে অন্যায় কাজ আর করবেন না। ব্যক্তির কাছে অন্যায় করে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে, হজ করার থেকেও নিজেকে সাবধান করা শ্রেয়। ভুল মন্দ পথ থেকে সরিয়ে আসা শ্রেয়। এর জন্য হাজী হতে হয় না। বড় বড় বুলি ছুরে, আল্লাহ রাসুলের দোহাই দিয়ে, আল্লাহর রাসূলের নির্দেশ ভাঙিয়ে, ফেসবুকে পোস্ট দেয়া লাগে না! বরং নিজেই নিজেকে সংযত করা শ্রেষ্ঠ কাজ! মহান আল্লাহ পাহাড় সমান গুনা খাতা, অন্যায় কাজ, মাফ করে দেবেন বলে, অন্যায়গুলো করে, হজ করবেন না। এবং মাকে নির্যাতন করেও, মায়ের উপর জুলুম অত্যাচার করেও, মায়ের ভালোবাসার পোষ্ট ফেসবুকে দিবেন না। ওটাতে আরও মাকে অপমান করা হয়! আপনার নির্যাতনে আপনার মা মারা গেছেন, আপনার নির্যাতনে আপনার শাশুড়ি মারা গেছেন, কেউ না জানলেও মহান আল্লাহ জানেন, আর আপনার মা জানেন অথবা আপনার শাশুড়ি জানেন, এখন তাদের পরকালের জীবন নিয়েও প্রতারণার খেলা খেলবেন না। আল্লাহ রাসূলের নিয়ে আর মাকে নিয়ে তামাশায় মত্ত থাকবেন না! কোন ব্যবসা করবেন না আল্লাহর রাসূল এবং মাকে ভাঙিয়ে। মায়ের অপর নাম নারী। নারীকে শ্রদ্ধা করতে সম্মান করতে চেষ্টা করবেন। ভিতর এক বাহির আর এক, এই মানুষগুলোকে আল্লাহ চেনেন। আল্লাহর চোখে ধুলো মারবেন না। মা দিবস আপনি নাই বা পালন করুন তবু ভালো। এই দিবস কোন প্রতারক অসভ্য জানোয়ার এবং চরিত্রহীনের জন্য নয়। এটা একটা পবিত্র দিবস পবিত্র মানুষের জন্য। জীবনে বারবার হজ কোরে নাবালক নবজাতক শিশু হওয়ার প্রলোভনে বারবার প্রতারণার খেলা করবেন না। এটা জায়েজ না, ওটা জায়েজ না, সেটা জায়েজ না, নবীজি এটা করেন নাই, ওটা করেন নাই, সেটা করেন নাই, সেরেক বিদআত এত মেনেও, প্রতারণার খেলা করবেন না। এত পোস্ট দিয়ে, সারা বছর মানুষকে এত আল্লাহর দোহাই দিয়ে। নবী রাসুলের পথ চেয়ে নিয়ে। মা দিবসের পোস্ট কেন ভাই! মাকে হনন করে হত্যা করে?! এটা কি নবীজি করতেন!? নবীজি কি মা দিবস পালন করতেন?! মায়ের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা নাই ভক্তি নাই ভালোবাসা নাই, সেই সব মানুষের জন্য এই দিবস নয়। রমজানের ঈদ যেমন রোজা না রাখা ব্যক্তিদের জন্য নয়। মাকে না ভালবাসা, নারীদের প্রতি অশ্রদ্ধা রাখা, ব্যক্তিদের জন্যও মা দিবস নয়। না দিবস নারীর প্রতি সম্মান দেখানো। একজন মা একলা কেবল মা নন। মা তিনি নারী। তিনি কারো কন্যা, তিনি কারো বোন, তিনি কারো স্ত্রী, ভাবি, খালা ফুপু, নানী দাদি। তাদের প্রতি সর্বোচ্চ আদব রাখতে হবে। অশ্লীল পথ বিসর্জন দিতে হবে। রমজানের এক মাসের সংযমতার সেটাই শিক্ষা। আবার ঈদুল আযহার পশু কোরবানি প্রাণ বিসর্জনেরো সেটাই শিক্ষা। ভোগে নয় ত্যাগেই পূণ্য। এবং ধৈর্যে আছে যশ। ঘরে ঘরে পথে পথে রাস্তায় রাস্তায় পুরুষ হোক সব বয়সের নারীর নিরাপদ আশ্রয়। মহান মা দিবসের জন্য ছিল আমার এটাই চাওয়া। এবং আমি নয় সকল পর্যায়ের মানুষ মনে করে, তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের কথা, না বালক শিশু ধর্ষক, বলাতকারী, চরিত্রহীন, এদের জন্যও মা দিবস নয়।।
১১.৫.২০২৬ ইং, সকাল ৮টা, সোমবার।



