এখনো ফ্যাসিবাদি সিন্ডিকেটের কালো ছায়ায় ডুবতে বসেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

টাইমস ২৪ ডটনেট : জাতীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরে জেঁকে বসেছে একটি সুবিধাবাদী সিন্ডিকেট চক্র। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করে নানা অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধা আদায় করছে। চক্রটির কারণে বাংলাদেশ বিমান অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে চলেছে। বাংলাদেশ বিমানকে রক্ষায় দ্রুত চক্রটিকে চিহ্নিত করে পদক্ষেপগ্রহণ জরুরী হয়ে পড়েছে।
অতিসম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে তড়িঘড়ি করে স্বচ্ছতা, যোগ্যতার সঠিক যাচাই-বাছাই ও যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই একটি পদোন্নতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, বাংলাদেশ বিমানের এক ক্যাপ্টেনকে দ্রুত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে বোয়িং ৭৮৭ ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেসরকারি বৈমানিকদের সংগঠন বাপার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরে এখন ওপেন সিক্রেট। বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য ও টাকার মাধ্যমে প্রমোশন বাণিজ্য অবাধেই হয়ে আসছে।
জানা যায়, অভিযুক্ত পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই ক্যাপ্টেনের নাম তাপস। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যোগদানের জন্য ন্যূনতম বয়সসীমা ২১ বছর নির্ধারিত থাকলেও বাবার প্রভাবে নির্ধারিত বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ার আগেই বিমানে যোগদান করেন। যা প্রচলিত নিয়োগবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসরকারি বিমান চলাচল সংস্থার একাধিক সূত্র।
অভিযোগ রয়েছে, ক্যাপ্টেন তাপস তার ঘনিষ্ঠ আরেকজন সহযোগী ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগসাজশে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তার বাবা ক্যাপ্টেন শাহাব বেসামরিক ব্যক্তিত্ব হওয়ার পরও বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধির পাশাপাশি তার ছেলেকে বিমানের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখেন এবং বিমানের অপারেশনস কন্ট্রোল একযুগ ধরে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
প্রাপ্ত অভিযোগে আরো জানা যায়, আওয়ামী সরকারের সময়ে এখানে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদি গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় বিমানের ডেপুটি চিফ অফ সেফটি পদে আসিন হন ক্যাপ্টেন ইন্তেখাব হোসেন। তার শিক্ষাগত সনদে দেখা যায়, তিনি এডভান্সড লেভেল (এ-লেভেল) সম্পন্ন করতে সক্ষম হননি। তার এডভান্সড সাবসিডিয়ারি (এ-স) সার্টিফিকেট থেকে দেখা যায়, তিনি ম্যাথমেটিক্সে ‘ই’, ফিজিক্সে ‘সি’ এবং কেমিস্ট্রিতে ‘সি’ গ্রেড প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে জিইডি (জেনারেল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি বিমানের নিয়োগ পরীক্ষায় সুযোগ প্রাপ্ত হন। জিইডি এর মানদন্ডে তার স্কোর ৬৪। বিমানের বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জিইডি এর ন্যূনতম স্কোর ৮০। এই পাইলটের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জিইডি এর গ্রহণযোগ্যতা না থাকার পরও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে তিনি বিমানে নিয়োগ পান।
অভিযোগ আছে যে, নিজেদের ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের ক্রুদের সুবিধার্থে সেফটি মেনুআল এর বিধি নিষেধ না মেনে ক্যাপ্টেন ইন্তেখাব বিভিন্ন স্ক্রু দের বিপদ এ ফেলার চেষ্টা করেন। ফ্যাসিবাদ গোষ্ঠীর ক্যাপ্টেন আতিয়াব প্রাইভেট এয়ারলাইন্সে ফ্লাইট চেক এ ফেল করেন। পরবর্তী তে বিমান থেকে সিভিল সিভিল এভিয়েশনের পরীক্ষা দিতে যেয়ে নকল করতে গিয়ে ধরা পড়ে বিমান থেকে গ্রাউন্ডেড থাকে এবং শাস্তি স্বরূপ তার বেতনও কেটে নেয়া হয়। সেই টাকা ক্যাপ্টেন শুমেইলার,
ক্যাপ্টেন ইন্তেখাব হোসেনের সাহায্যে ছলচাতুরী করে নিজেরা আত্মসাৎ করেন। ফার্স্ট অফিসার রুবাব সিঙ্গাপুরে মদ খেয়ে হোটেলের গ্লাস ভাঙ্গে, মহিলা কর্মীদের সাথে অশালীন আচরণ করে, হোটেল লবি তে মূত্র ত্যাগ করতে ধরা পরেন। নিজেদের চক্রের সদস্য হাওয়ায় তাকেও ক্যাপ্টেন ইন্তেখাব কোনো তদন্ত ছাড়াই দুই বার ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনরকম তদন্ত ছাড়াই ছেড়ে দেন। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিজি ১২৮ ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন ছিলেন ইন্তেখাব হোসেন। এই ফ্লাইটে তীব্র ঝাকুনিতে কেবিন ক্রু শাবানা আজমী মিথিলা মারাত্মকভাবে আহত হন।
দেখা যায়, এই গ্রুপটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারইলান্সের অভ্যন্তরে বিভিন্ন দুর্নীতির সিন্ডিকেট, নিয়োগ বাণিজ্য, অবৈধ প্রমোশন বাণিজ্যের সাথে জড়িত। তাদের কথার সাথে অন্য কোন ক্যাপ্টেনের মতের অমিল হলে কিংবা কেউ মুখ খোলার চেষ্টা করলেই পদাধিকার বলে তারা বিভিন্ন তদন্তের নামে ওইসব সাধারণ ক্যাপ্টেনদের নানাভাবে হয়রানি করেন। অথচ তাদের নিজেদের নিয়োগ ও চাকরির প্রমোশনই প্রশ্নবৃদ্ধ।
এই ব্যাপারে ক্যাপ্টেন তাপস ও ক্যাপ্টেন ইন্তেখাবের সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে তারা ফোন ধরেননি।
দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও জাতীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরে রয়ে গেছে এখনো তার কালো ছায়া। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই দুষ্ট চক্রকে বিচারের মুখোমুখি না করতে পারলে হয়তো বিমান বাংলাদেশ এয়ারইলান্সে ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা কিংবা রাষ্ট্রীয় মারাত্তক ক্ষতি।


