ভারত

মিতভাষের স্রষ্টা ড০ নগেন শইকীয়া ৮৮ বছরে পা রাখলেন

ডিব্রুগড় প্রতিনিধি : প্রথিতযশা সাহিত্যিক, মিতভাষের স্রষ্টা ও সাহিত্য অকাদেমি ফেলো ড॰ নগেন শইকীয়া ৮৮ বছরে পদার্পণ করলেন। এই উপলক্ষে আজ (১১-০২-২০২৬) সকাল থেকেই জীবন ফুকন নগরস্থিত তাঁর বাসভবন ‘বর্ণমালা’-য় অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী ও গুণমুগ্ধ মানুষের ভিড় জমে। সকলেই তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য কামনা করে গামছা, ফুলের তোড়া, স্মৃতিবিজড়িত ছবি প্রভৃতি অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। বিকেলে সাহিত্যিকের বাসভবন ‘আশ্রয়’-এ সারস্বত ন্যাসের উদ্যোগে ‘মিতভাষ দিবস’ উদ্‌যাপন করা হয়। সাহিত্যিকের শারীরিক অসুবিধার কথা বিবেচনা করে এ বছর থেকে জনসমাগমস্থলে মিতভাষ দিবস আয়োজন করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতি বছর অনুষ্ঠিত বক্তৃতানুষ্ঠানটি বাতিল করে এ বছর একটি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ন্যাসের কার্যক্রম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন ন্যাসের সম্পাদক বীরেন বরুয়া। অপরদিকে, ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেজবরুয়া আসনের প্রাক্তন অধ্যাপক ও সাহিত্যাচার্য ড॰ করবী ডেকা হাজৰিকা নগেন শইকীয়ার জীবনকৃতি ও মিতভাষ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং কয়েকটি মিতভাষ পাঠ করেন। ন্যাসের প্রচার সম্পাদক রতন হাজৰিকা ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানের সূচনায় ৮৮টি প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়।এরপর শ্রীভারতী কলেজের অধ্যাপক ড॰ চুমি ফুকনের পরিচালনায় গুরু-শিক্ষার্থীবৃন্দ—কৃষ্ণা পঙ্কজা দত্ত, প্রণতি বৰা, লিপিকা শইকীয়া, মনীষা মাউট এবং রাজকৃষ্ণ গগৈ—বড়গীত, সরস্বতী বন্দনা, রামভজন, খেয়াল ও খোলবাদন পরিবেশন করেন। এছাড়াও মিতালী কুর্মীর ছাদরি ভাষার গান উপস্থিত সকলকে আপ্লুত করে।অনুষ্ঠানে সারস্বত ন্যাস পরিষদ, প্রহরী, বৃহত্তর ডিব্রুগড় প্রেস ক্লাব, ডিব্রুগড় প্রেস ক্লাব, ডিব্রুগড় সাহিত্য সভা, শ্রীভারতী কলেজ, ডিব্রুগড় সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ, ডিব্রুগড় জেলা মইনা পারিজাতসহ বিভিন্ন সংস্থা-সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী ফুলাম গামছা, ফুলের তোড়া ও অঙ্কিত ছবি প্রদান করে সাহিত্যিককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান।অনুষ্ঠানে ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অসমীয়া বিভাগের পক্ষ থেকে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড॰ জয়ন্ত কুমার বরুয়া পত্রযোগে জানান যে আগামী বছর থেকে বিভাগটির যৌথ উদ্যোগে আরও বিস্তৃত পরিসরে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মিতভাষ দিবস’ আয়োজন করা হবে।অনুষ্ঠানে ন্যাসের সভাপতি তথা ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শঙ্করদেব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড॰ কন্দর্প কুমার ডেকা, সহকারী সম্পাদক ড॰ সত্যকাম বৰঠাকুর, অসম জাতীয় পরিষদের সভাপতি লুরিন জ্যোতি গগৈ, কোষাধ্যক্ষ গৌতম শইকীয়া, সংযোজক ড॰ মন্দিরা বৰঠাকুর শইকীয়া, দিলীপ তামুলী, গায়ত্রী বরুয়া, দেবীপ্রসাদ বাগড়োদিয়া প্রমুখসহ ন্যাসের সদস্যবৃন্দ, পরিবারবর্গ এবং দুই শতাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান পরিবেশনকারী শিল্পীবৃন্দ, ন্যাসের কর্মী ও অনুরাগীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আপ্লুত হয়ে ড॰ নগেন শইকীয়া তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন—“আমার ভেতরে সবসময় আরেকজন মানুষকে বয়ে বেড়াই; সেই মানুষটি হয়তো আমার নিজের থেকে আলাদা কোথাও অবস্থান করে। তার মূল্য কত, তা আমি জানি না। কিন্তু আমি মানুষকে অনুপ্রেরণা দিতে চাই। আমরা যদি এইটুকুর মাধ্যমে মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারি এবং তাঁদের আমাদের মাঝে নিয়ে আসতে পারি, সেটাই বড় কথা। আমার বয়স হয়েছে। আর কতদিন টিকে থাকতে পারব বলতে পারি না। তাই আমি ভাবছি, এই অনুষ্ঠানটি ন্যাসকে রক্ষা করতে হবে। রক্ষা করতে হবে এই অর্থে যে, এটি যেন হারিয়ে না যায়। আমাদের সকলে মিলে এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা যদি এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন, তবে এই অনুষ্ঠান টিকে থাকবে। এটি নগেন শইকীয়ার নামে না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। একটি অনুষ্ঠান হিসেবে যদি এটি টিকে থাকে, তবে তার মূল্য বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।”

 

Related Articles

Back to top button