মায়ানগরী মুম্বাইয়ে ঐতিহ্যবাহীভাবে মে-ডাম-মে-ফী উদযাপন

এম হাশিম আলি, ডিব্রুগড় থেকে : মায়ানগরী মুম্বাইয়ে অসমীয়া সমাজের ঐতিহ্যবাহী উৎসব মে-ডাম-মে-ফী বিস্তৃত কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। মহানগরীতে বসবাসকারী টাই আহোম জনগোষ্ঠীর মানুষজন ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে তাঁদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করেন। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মুম্বাইয়ের সকল অসমীয়া একত্রিত হয়ে নবী মুম্বাইয়ের খারঘরে তাই আহোম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব মে-ডাম-মে-ফী সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করেন।
অনুষ্ঠানে অসম গৌরব সম্মানে ভূষিত শব্দযন্ত্রী দেবজিৎ চাংমাই, ডা. শৈলেন কুমার সন্দিকৈ, ডা. জ্যোতির্ময় দাস, সমাজসেবী রিমজিম মহন্ত, লেখক ও সমাজকর্মী ত্রিনয়ন সন্দিকৈসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সকালে উদযাপন সমিতির সভাপতি প্রফুল্ল বরগোহাঁই তাই আহোম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। উদযাপন সমিতির সাধারণ সম্পাদক রজনীকান্ত বরগোহাঁইয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তাই আহোমের জাতীয় সংগীত ‘ম’ খাম ফান ত্তাই মীঙ’ পরিবেশন করা হয়।ঐতিহ্যবাহী বিধি অনুযায়ী স্থানীয় ম’ লুঙ মান লক্ষেশ্বর মহন, করুণা কান্ত গগৈ ও রজনীকান্ত বরগোহাঁই পর্যায়ক্রমে ‘খাও-খাম’, ‘আই-লেঙ-দিন’, ‘জান-ছাই-হুঙ’, ‘লেঙ-ডন’, ‘চিত লাম ছাম’, ‘মুট-কুম টাই-কুম’, ‘জা-ছিঙ-ফা’, ‘ডাম-ফী’, ‘রা-খিন’ ও ‘বা-খিন’ স্থাপন করে তर्पণ সম্পন্ন করেন। তर्पণ শেষে লুক-লাও ও সাজ প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হয়।সমিতির কার্যকরী সভাপতি প্রফুল্ল বরগোহাঁইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত সভায় জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী অনন্ত বরগোহাঁই ও প্রদীপ কলিতা মে-ডাম-মে-ফীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। ঘনশ্যাম পেগু তাঁর ভাষণে দদগাং, দুবর পূজা ও মে-ডাম-মে-ফীর তুলনামূলক আলোচনা উপস্থাপন করেন। সভায় অঞ্জলি সন্দিকৈয়ের নেতৃত্বে খারঘরের মহিলারা সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন এবং নিবেদিতা হাজরিকা ও ডা. গৌতম কলিতা গান পরিবেশন করেন। কনিষ্ঠ শিল্পী ভাস্বতী গগৈ তাই আহোম নৃত্য পরিবেশন করে অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেন।অতিথিদের মধ্যে মতবিনিময় ও ‘মে- ডাম- মে- ফীর তাৎপর্য’ শীর্ষক একটি রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় যোরহাটের বিশিষ্ট লেখিকা জয়শ্রী শইকিয়া তৃতীয় স্থান, মুম্বাইয়ের ‘চুনা ভাটি’-এর বাদল বুড়াগোহাঁই দ্বিতীয় স্থান এবং চরাইদেউয়ের পদ্মজা বরুয়া মহন প্রথম স্থান অধিকার করেন। উল্লেখযোগ্য যে নবী মুম্বাইয়ের অসমীয়া জনগণ প্রতি বছর পূর্বপুরুষদের তर्पণের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়ে ঐতিহ্যবাহীভাবে মে-ডাম-মে-ফী উদযাপন করে আসছেন।



