বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার: থানায় জিডি, আইনি ব্যবস্থার পদক্ষেপ

টাইমস ২৪ ডটনেট : বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি অনলাইন পোর্টালে তাকে নিয়ে ‘ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক’ সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে তিনি রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ২৭৭১) করেছেন। একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক (বন্দর), জনাব এ, কে, এম আরিফ উদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন যে, মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী নদী উদ্ধারে নিরবিচ্ছিন্ন ও নিয়মতান্ত্রিক অভিযান এবং কর্তৃপক্ষের উন্নয়ন ও রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমার আপোষহীন ভূমিকার বিষয়টি সর্বজনবিদিত । কিন্তু এ সকল কারণে আমাদের দেশের বৈরী কালচার অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের স্বার্থন্বেসী মহল দীর্ঘদিন ধরেই আমার পিছে লেগে আছে । তারা আমার পিছে একশ্রেণীর অসাধু মিডিয়া পার্সোনেলদেরকে অর্থ লগ্নির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই অসত্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে সরকার ও কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন স্তরে নিজেরাই পাঠাচ্ছে । এ প্রতিবেদনটিও সেই অপচক্রেরই প্রতিফলন।
প্রতিবেদনটিতে আমার ধনসম্পত্তি ও ব্যক্তিগত / পারিবারিক বিষয়ে কাল্পনিক অসত্য ছবি/ তথ্য বলা/ দেখানো হয়েছে, তার সাথে বাস্তবতা ও প্রকৃত তথ্যের মিল নেই ।
আমার স্থাবর/ অস্থাবর সম্পত্তি যা আছে তা আমার আয়কর নথিতে বিধি মোতাবেক প্রদর্শিত আছে । এর বাইরে আমার বা আমার পরিবারের কোন সম্পদ নেই।
গ্রাম বা পাবনা শহরে আমার নামে সম্পত্তি আছে, তা পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত। ১৯৯৪ সালে আমার বাবা মারা গেছেন এবং ১৯৯৬ সালে তত্বাবধায়ক সরকারে সময় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে আমি বিআইডব্লিউটিএ’তে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছি। বাবার মৃত্যূর পর ও আমার চাকুরী পর থেকে অদ্যাবধি গ্রামে বা পাবনা শহরে আমি এক শতাংশ জমিও কিনিনি বা কোন বাড়ি/স্থাবর সম্পত্তি অর্জন করিনি। বরং পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত কিছু জমি বিক্রি করেছি। পাবনা শহরে আমাদের পৈতৃক সূত্রে একতলা একটা বাড়ি ছিল, যা বাটোয়ারায় আমার বড় ভাই পেয়েছেন। ঢাকায় এলিফ্যান্ট রোডে আমার সাবেক পরিচালক জনাব সাঈদ হাসান বদরুদ্দোজার যৌথ অংশীদারিত্বে পৈতৃক বাড়ি আছে। তিনি ১৯৯৯ সালে অবসরে যাওয়ার পরই আমেরিকা প্রবাসী তাঁর দুই ছেলের নিকট পরিবারসহ স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার সময় ঐ বাড়ির তাঁর অংশ সার্বিকভাবে দেখাশোনার জন্য আমাকে ঐ বাসায় তাঁর ফ্ল্যাটে বিনা ভাড়ায় পারিবারিকভাবে থাকার জন্য রেখে যান। দীর্ঘ ২১ বছর আমি ঐ বাসাটি খুব দায়িত্বশীলতার সাথে টেক কেয়ার করি। এতে উনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে নামমাত্র মূল্যে ভবনটির উনার অংশ আমাদের নিকট হস্তান্তর করেন। যার বিশদ বিবরণ দলিলে উল্লেখ আছে এবং এটি আয়কর নথিতেও প্রদর্শিত আছে। উল্লেখ্য, ঐ ভবনে স্যারের অন্যান্য অংশীদারগণ তাঁদের অংশে বসবাস করেন।বর্তমানে বসুন্ধরায় আমি একটি ফ্ল্যাটে আমার শালিকার সাথে যৌথভাবে ভাড়া থাকি( আয়কর নথিতে প্রদর্শিত) ।
২০০৩ সাল থেকে ৫২ কিস্তিতে স্বল্প মূল্যে কেনা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আমার স্ত্রীর নামে প্লটে ( আয়কর নথিতে প্রদর্শিত) বর্তমানে একটি ডেভেলপার কোম্পানি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাড়ি নির্মাণ করছে। এছাড়া বসুন্ধরায় বা অন্য কোথাও আমার বা স্ত্রীর কোন বাড়ি বা ফ্ল্যাট নেই। প্রতিবেদনে হীন উদ্দেশ্যে অনৈতিকভাবে অন্যের বাড়ি বা ফ্ল্যাট আমার বাড়ি বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। আমার একজনই স্ত্রী। অন্য জায়গায় দ্বিতীয় স্ত্রী বা তথাকথিত বাড়ির কোন অস্তিত্ব নেই। এক্ষেত্রেও প্রতিবেদনে অন্যের বাড়ি দেখানো হয়েছে। আমার বাবা পাবনার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং একজন নামী সমাজসেবক ছিলেন। এলাকায় বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তাঁর চারটি রাইচ মিল ছিল। প্রায় ৫০০ বিঘা জমির অধিকারী ছিলেন। আমরা চার ভাই তিন বোন । চার ভাইয়ের মধ্যে তিন ভাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সসহ মাস্টার্স করেছি। ছোটভাই হাফেজ ও হাটহাজারী থেকে মুফতি পাশ করেছেন। বড়ভাই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, মেঝভাই ঔষধের ব্যবসা করেন এবং তাঁর এক বন্ধুর কার্টন ফ্যাক্টরীর একটি ক্ষুদ্র অংশের সাথে যুক্ত আছেন। বাবার হঠাৎ মৃত্যুর পর গ্রামে মাকে দেখাশোনা ও বিপুল পরিমাণ জমিজমা তদারকির জন্য ছোট ভাই স্বল্প পরিসরে পারিবারিক কিছু ব্যবসার পরিচালনা ও বাবার রেখে যাওয়া কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।
আমি বিআইডব্লিউটিএ’র সাধারণপুলের বন্দর বিভাগের একজন কর্মকর্তা । আমার কাজের সাথে টেন্ডার, ড্রেজিং, প্রকল্প, নিয়োগ ইত্যাদির নূন্যতম কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই এবং আমি এ সকল বিষয়ে কখনোই কোনো প্রভাব বিস্তার বা তদবির করিনি। এটি হাস্যকর এবং এ বিষয়টিও সবারই জানা। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় উচ্চ পর্যায়ের কারো সাথে ছবি থাকা একটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দর্শন (ছাত্র সংসদে নির্বাচিত দালিলিক অবস্থান) সম্পর্কে বিগত সরকার , বর্তমান সংশ্লিষ্টগণ ও বিআইডব্লিউটিএ’র সর্বজন বিদিত। বিগত সরকারের সময় ঢাকার চারপাশের নদীগুলো উদ্ধার অভিযানের সময় বুড়িগঙ্গার পাড়ে যখন তৎকালীন সাংসদ হাজী সেলিম, আসলামুল হক বা বিদ্যূৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, দুদক আইনজীবি মোশাররফ হোসেন কাজলের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলো, তখন আমাকে বিএনপি’র লোক বলে প্রমান করলেও এখন তারাই আমাকে আওয়ামী দোসর আখ্যা দিচ্ছেন। ঐ সময় সরকার দলীয় প্রভাবশালী লোকদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেও আমার চাকুরিটা বেঁচেছে শুধুমাত্র মেইন স্ট্রিমের সকল মিডিয়ার সময়োপযোগী ও সঠিক অবস্থান এবং এ উচ্ছেদ অভিযানের পক্ষে বিপুল জনসমর্থনের কারণে। শারিরীকভাবেও বেঁচেছি মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে।
বিআইডব্লিউটিএ’তে যে কর্মস্থলেই কাজ করেছি, আপোষহীনভাবে নিষ্ঠার সাথে কর্তৃপক্ষের স্বার্থকে সমন্নুত রেখে কাজ করেছি। রাজস্ব বাড়িয়েছি উল্লেখযোগ্য পরিমানে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চিত্র পাল্টে দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, চাঁদপুর, মাদারীপুর, পটুয়াখালী চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ প্রধান কার্যালয়ে অদ্যাবধি কর্মকালীন সার্বিক কাজের বিষয়ে সর্বস্তরে আমার এ বক্তব্যের সপক্ষে প্রমান পাওয়া যাবে। প্রসঙ্গত, বিআইডব্লিউটিএ’র কালার মনোগ্রাম তৈরিকরণসহ মোটো “ প্রবহমান নদীর সাথে “ , থিম সং “ শিরায় শিরায় রক্ত ধারায় যেমনি বাঁচে প্রাণ, বাংলাদেশের জীবন তেমন হাজার নদীর দান। বাঁচলে নদী বাঁচাবে দেশ, বাঁচবে সবুজ পরিবেশ। “ এ গুলো আমার লেখা।
আমার সামান্য অবস্থান থেকে আধুনিক, আরো গতিশীল, সুশাসনময় বিআইডব্লিউটিএ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে এবং বিআইডব্লিউটিএ’র চ্যালেঞ্জিং কাজগুলো সুচারুরুপে সম্পাদনে আমি সবসময়ই সর্বোচ্চটুকু দেয়ার বা চেষ্টা করে থাকি এবং যতদিন আছি করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
হয়তো আমার কাছে অবৈধ সুবিধা চেয়ে বঞ্চিত হয়ে এবং কোনো কোনো নেতিবাচক ও পরশ্রীকাতর সহকর্মীদের প্ররোচনায় পড়ে সম্ভবত অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন সময় তথাকথিত হলুদ সাংবাদকর্মী দিয়ে অসত্য কাল্পনিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন তৈরী করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে এবং কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন স্তরে হোয়াটসআপে প্রেরণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। কর্মব্যস্ততার কারণে এবং এক ধরণের উটকো ঝামেলা এড়ানোর জন্য এ সব উদ্ভট রিপোর্ট আমি আমলে নিয়ে এতদিন যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারিনি। তবে এখন দেখছি এ ধরনের কার্যকলাপ ক্রমে বেড়েই চলছে। তাই এবারই প্রথম আমি যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনের আশ্রয় নিচ্ছি।
পাশে দাঁড়িয়েছেন সহকর্মীরাঃ
বিআইডব্লিউটিএ’র ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ কে এম আরিফ উদ্দিন একজন অত্যন্ত সৎ, দক্ষ, পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান, সাহসী ও ক্রিয়েটিভ সজ্জন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তার জনপ্রিয়তার কারণেই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অফিসার্স এসোসিয়েশন নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং বর্তমানে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচারকে তার ও সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার স্বার্থান্বেষী মহলের অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন তারা। এ ধরণের অপপ্রচার থেকে সজাগ থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তারা আহ্বান জানান।



