বেবিচকে “Growth, Achievements, Future Needs and ICAO NGAP–Bangladesh Perspective” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

টাইমস ২৪ ডটনেট : বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের আকাশপথকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO)-এর সদস্যপদ প্রাপ্তির ৫৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বেবিচকের উদ্যোগে সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে “Growth, Achievements, Future Needs and ICAO NGAP–Bangladesh Perspective” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সেমিনারে বেবিচকের দীর্ঘ পথচলা, অর্জন, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
সেমিনারের প্রধান বক্তা বেবিচক এর মেম্বার (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান, বিএসপি, বিইউপি, এনডিসি, পিএসসি, বলেন, বেবিচক এর ৫৩ বছরের যাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যাত্রীসেবা, অপারেশনাল দক্ষতা ও নিরাপত্তার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প দেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি মাইলফলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে এবং বাংলাদেশ একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বিমানবন্দরের রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, এপ্রন ও টার্মিনাল সুবিধা উন্নয়নের কাজও চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন “The Legacy of Safe Sky” শুধু একটি স্লোগান নয়; এটি বেবিচক এর প্রতিটি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মূল দর্শন। ভবিষ্যতে গ্রিন এভিয়েশন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং দুর্যোগ-সহনশীল বিমানবন্দর উন্নয়নেও জোর দেওয়া হবে বলে তিনি জানান ।
সেমিনারে মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব পায় Next Generation of Aviation Professionals (NGAP) উদ্যোগ। সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ জনবলই এভিয়েশন খাতের মূল শক্তি।এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, Training Need Assesment (TNA) ছাড়া কার্যকর প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, আইকাও অডিটের সুপারিশ এবং ভবিষ্যৎ অপারেশনাল চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সাজাতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন একাডেমির ICAO Trainair Plus গোল্ড মেম্বারশিপ দেশের প্রশিক্ষণ সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে।
বেসরকারি এয়ারলাইন্স খাতের প্রতিনিধি হিসেবে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ড. ইমরান আসিফ, সিইও, এয়ার অ্যাস্ট্রা। তিনি বলেন, দেশের এয়ারলাইন্স শিল্প এখন একটি পরিবর্তনশীল সময় পার করছে। যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চাপ—সবকিছু মিলিয়ে দক্ষ জনবল ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর চিফ অব ট্রেনিং, ফ্লাইট অপারেশন ডিরেক্টর ,ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুল হক বলেন, NGAP উদ্যোগের মাধ্যমে পাইলট, কেবিন ক্রু ও ফ্লাইট অপারেশন সংশ্লিষ্ট জনবলকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও এয়ারলাইন্সগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই টেকসই এভিয়েশন শিল্প গড়ে তুলতে পারে।
উক্ত সেমিনারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স,ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার, এয়ার এস্ট্রা এর প্রতিনিধিবৃন্দ, হশাআবির নির্বাহী পরিচালকসহ বেবিচকের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।



