জায়গার স্বল্পতা সময়ের মিতব্যয়ী এবং ব্যস্তদের জন্য শরীরচর্চার ইজিলি একটা পাঠ বা ধাপ

সৈয়দা রাশিদা বারী: উন্নত বিশ্বে বলে কথা নয়। বাংলাদেশেও বর্তমান জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপটে সীমিত আয় সীমিত সময় স্বল্প সীমিত জায়গার পরিসরে, উন্নত সমাজ ব্যবস্থা, উন্নত মানবিক মানসিক পরিস্থিতি মোকাবেলায়, মানুষকে সুস্থ স্বাভাবিকও থাকা জরুরী। বহুদিন যাবত গবেষণার দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের মানুষের জন্য ভালো একটা অর্জন সম্ভব হয়েছে। নিঃসন্দেহে শরীর চর্চারও বহু ধরণ। মোটকথা যাকে বলে শুদ্ধ ভাষায় ব্যায়াম। ব্যায়ামের বহুৎ ধরণ তবে যোগব্যায়াম এবং ঘরেই জগিং করা সর্বোত্তম পদ্ধতি, বর্তমান বিশ্বের ব্যস্ত মানুষের জন্য। আমরা যেহেতু বাংলাদেশী, বাংলাদেশীদের জন্য ব্যায়ামের আলাদা কোন কোড, প্লান ফর্মুলা বা যুক্তি নয়। এই একটাই বন্দোবস্ত স্বাভাবিক। গবেষণার একটা জায়গায় মেলে, লোক দেখানো নামাজ পড়া আর বাইরের জগিং সাবমিট করা পার্থক্য নয়। তবে গাছের খোলামেলা অঞ্চলে সময় কাটানো এইটা একটা আলাদা কথা। গাছের সাথে মানুষের সম্পর্ক সর্বোত্তম শান্তির এবং প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যসম্মত বিষয়। সেটা ছাড়া রাস্তায় দৌড় ঝাপ ঝুলুম স্লিপিং ইত্যাদি করা একই অর্থ। ঘরে করা আর বাইরে করা পার্থক্য নাই। যেহেতু এটা ঘরেই খুব ইজিলি স্বল্প সীমিত জায়গায়ও করা যায়। শরীর চর্চার যে ধাপ, যে অর্থ, যে বিশ্লেষণ, আয়োজন, প্রয়োজন, সংযোজন, বিয়োজন রাস্তায় যে জন্য করতে যাওয়া হয়, ঘরেও এমন কি শুয়ে বসে দাঁড়িয়েও সেই একই কাজ একই গুণ একই সার্কেলেসন উপকার উপকরণ ১০০ ভাগ মিলা সম্ভব। তারপর সময়ের স্পেসের কথা? ব্যস্ততার জন্য এটাই তো বড় বিষয়। আল্লাহর ডাকা তার মানে ইবাদত বন্দেগী করা দৈনন্দিন জীবনের সময়ের স্পেসের মধ্যে সংঘটিত হওয়ানো, এটাও বড় বিষয়। ঈশ্বরের প্রার্থনা ঈশ্বরের দয়া আশীর্বাদ কামনায়। এটা সব ধর্মের জন্য হতে পারে যেহেতু সৃষ্টিকর্তার প্রতি উপাসনা প্রত্যেক মানুষের মূল শিকড়, সর্ব প্রধান এবং প্রথম দায়িত্বের কাজ। ব্যায়ামের মধ্যে যদি সেই সাবজেক্টও সংশ্লিষ্ট থাকে, কাজ উদ্ধাদের সাথে সাথে ব্যায়ামও হবে। তাহলে তো আর সময় নষ্ট করার প্রশ্ন, সময় অপচয়ের লস ক্ষতি বা কষ্টটা, থাকে না। তাই জন্য আমরা কিন্তু সব কাজের মধ্যেই আল্লাহর স্রষ্টার ঈশ্বরের ভগবানের ডাকার কৌশল জানার অর্থাৎ ইবাদতের সংশ্লিষ্টতা রাখতে পারি। একমাত্র লেখকরা লিখতে গেলে এটা হয় না। কেননা মন অন্তর তথ্য কালেকশন ইত্যাদি মিলিয়ে লেখার মধ্যেই কোমরে পয়সা গুঁজে রাখার মত গুজে রাখা লাগে মেধা মননের বিষয়টা! সংসারের বা কোন বিষয়ের কাজ তো হাতেই করতে হয় একমাত্র লেখালেখিতে সংশ্লিষ্ট থাকা বাদে। তাই সব কাজের সাথে ব্যায়ামও করা যায়। লেখতে যেমন হাতেও কাজ থাকে, মনে মনে ধ্যান করাও লাগে। মনের সাথে মেধার সাথে হাতের সম্পর্ক মিলিয়ে লিখতে হয়। লেখার কাজ উদ্ধার করতে হয়। তাই লিখতে লিখতে আল্লাহর ডাকা যায় না। লিখতে লিখতে গল্প গুজবও করা যায় না। কোন বিনোদনই করা যায় না। মানুষ তো খেতে খেতে প্লান প্রোগ্রাম সাজাতে পারে। গল্প করতে করতে তরকারি কাটতে পারে বা সব কাজই করতে পারে। হাতে কাজ করতে করতে মুখে গল্প করে।তাছাড়া সৃজনশীল সব কাজ সব কিছু আল্লাহর ডাকতে ডাকতে করা সম্ভব। যেহেতু লিখতে লিখতে সেটা করা যায় না তাই লেখকরা কি করতে হয়? কলম হাতে নিয়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে, ভিক্ষা চেয়ে নিতে হয় আল্লাহর ডাকার ঐ সময়টা। কিন্তু ফাঁকে ফাঁকে তো অবশ্যই কলম বন্ধ করে, কলমের ক্যাপ আটকে, আল্লাহর ধ্যানে, গুণ জ্ঞানে লিপ্ত থাকা লাগে! ঈশ্বর ভগবান আল্লাহর ডাকায় লিপ্ত না থাকলে লেখাও হয় না। তাই ওটা করতে হয়। ওটা করা অজান্তে এবং নিজের শরীর ও মনের প্রয়োজনেই যেমন ভাত পানি খেতে হয়, চা কফি বিস্কুট খেতে হয়, তেমনি দৈনন্দিন চাহিদায় করা হয়ে যায়! অর্থাৎ হাতের জোর মেধার সার্ভিস এর প্রয়োজনে ওটা করা অটোমেটিক হয়ে যায়। ওটা না করলে লেখাও হয় না। লেখার মানসিক স্প্রিং হারিয়ে যায়। সব অকেজো নিতম্ব নিথম অচল বিচল হয়ে যায়। যার ফলে ওইটা দৈনন্দিন চাহিদা খাওয়া ঘুমানো টয়লেটে যাওয়া ইত্যাদির মত অটোমেটিক হয়ে যায়। দৈনন্দিন চাহিদা যাপিত জীবনের প্রথম শর্ত, প্রধান দায়িত্বের কাজ। না মিটিয়ে অবশিষ্ট রাখলে জীবনের সব থেমে যায়। দৈনন্দিন কাজ গুলো কেউ কারো শাসন বারণ জুলুম অত্যাচার করে করাতে হয় না। ওটা ব্যক্তির আপন গরজে তার নিজস্ব ক্ষুধা নিবারণ, চাহিদা, জল খাওয়া তৃষ্ণার মত, বেঁচে থাকার শর্তে, ভালো থাকার প্রয়োজনে, সবকিছুর উন্নয়ন উন্নতির স্বার্থে করা হয়ে যায়। যদি ব্যক্তি পাগল ভারসাম্য হারা হয় তবে তার কথা আলাদা। সুস্থ ধারার মানুষের দৈনন্দিন চাহিদাগুলো মিটাবার জন্য মোটেই চাপ সৃষ্টির প্রয়োজন পড়ে না। কেউ যদি এই বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করে তবে সেই ব্যক্তি ভারসামহীন পাগল!!! অনেক আধ্যাত্মিক অলি সুফি সাধক পন্ডিত বিশেষজ্ঞ জ্ঞানী গুণীর মতো আমারও তো সেটাই মনে হয়। তবে আমার আজকের সাবজেক্ট শরীর মন সুস্থ রাখার পদ্ধতি জগিং নয়। ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, নারীদের জন্য নির্বাচনী ইশতেহার এমন প্রয়োজনীয় বিষয় তুলে ধরে লেখার চিন্তাভাবনা। যদিও যুগ উপযোগী সময়সম্মত ব্যায়াম বিষয়টাও গুরুত্বপূর্ণ এবং এখনই লিখতে মন চাচ্ছে। খুব বলতে ইচ্ছা হচ্ছে। তারপরও আজ ফাইনালি সেটা বর্ণনা করতে পারছিনা। এই বিষয়ে আমি বলবো লিখবো জানাবো তবে আমার হাতের পত্রিকার কাজটা ছেড়ে নেই। যেহেতু পত্রিকা ছাড়া এটা একটা লিমিট টাইমের জিনিস, নির্ধারিত একটা তারিখের মধ্যে প্রকাশিত করতে হয় মাসিক হইলে। পাক্ষিক সাপ্তাহিক হইলেও অনুরূপ একটি তারিখই কাছে। দৈনিক দৈনন্দিন তো তারিখ নয়, সময়ের সাথেই হিসাব। তাই আমি আজ এটা লিখতে বসলে ওইটা উদ্ধার মিসটেক হবে। জীবনে একটা পেতে চাইলে তো অপর আর একটা হারাতেই হয়। সবগুলো একসাথে অর্জন লাভ সম্ভব নয়। পাওয়া নিশ্চিত হয় না নিশ্চয়তা নাই। তাই আপাতত মাথার ভিতরে শরীর চর্চার এই বিষয়টা ঘুর পাক খাইলেও, কাজ করলেও, দৌড় ঝাঁপ দিয়ে মাথার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলেও, এ বিষয়ে লেখার কলমের ক্যাপ বন্ধ করছি! ইচ্ছাটাকে ধামা চাপা দিয়ে আটকিয়ে বন্দী রাখার মতো বন্দী করে রাখছি।
এর ভিতরে আবার আমার রান্না করে তো খেতেও হবে। এর নামই দৈনন্দিন চাহিদা, যাপিত জীবনের মূলধন, মূল্যবান মৌলিক কাজ। বিদায় আজকের সময়ের হিসাব। তোমাকে বিদায়। আবার আগামীকাল আজকের মতই সময়ের কাছ থেকে সময় চুরি করে নিয়ে, একজন লেখক এর যা আর কি মৌলিক কর্ম, পেটের ভাত, মনের খোরাক, চোখের দৃষ্টির আলো, অর্জনের জন্য প্রয়োজন হয় তাই করবো। তোমাকে নিয়েই আমি তাই আবার বসবো তখন। সাবজেক্ট হবে গত ১৪ই জানুয়ারি শিশু একাডেমীর আয়োজন ও আজ ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ওসমানী মিলয়েতনের আয়োজন শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুর জায়গা থেকে- ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর ভূমিকা প্রত্যয় ও নৈতিকতা এবং নির্বাচনের ইসুর জায়গা থেকে নারীসহ সার্বিক নিরাপত্তায় সরকারের করণীয়।’ মানে মহিলাদের জন্য মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কি ভূমিকা? আসলে মূলত ক্ষমতায়নের জায়গা থেকে দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা! রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দেশের নাগরিক হিসেবে একজন নাগরিকের কি দায়িত্ব কর্তৃত্ব? এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী পুরুষ ও নারীর কি দায়িত্ব কর্তৃত্ব? সরকারের জায়গা থেকে সরকারের করণীয় শীর্ষক কি কি সুবিধা দেওয়া আছে? দেওয়া যেতে পারে? নিরাপত্তার জায়গা থেকে, এটাই তো আলোচনা পর্যালোচনা। এই যে সার্বিক পর্যায়ের মানুষের মঙ্গল কামনাই গঠনমূলক লেখা ও আলোচনা একজন লেখকের দায়িত্ব কর্তব্য। জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের প্রতি এটাই তো লেখক এর জায়গা থেকে লেখক এর অবদান রাখা। লেখক এর সেবা দেওয়া রাষ্ট্রের প্রতি। এভাবেই তো যার যার জায়গা থেকে প্রত্যেকেই দেশ এবং দশের প্রতি ভালো অবদান রেখে মানবিক প্রেমিক হতে পারে। এমন হলে দেশে কিন্তু বৈষম্য এবং কোন অন্যায়ও থাকে না। দেশ ও দেশের নারী পুরুষ প্রত্যেকে ভালো থাকবে। মহান আল্লাহ আমার দেশ এবং আমার দেশের সকল মানুষকে ভালো রাখুন। আমিন।
১৭. ০১.২০২৬ ইং, দুপুর ২টা, শনিবার।



