বাংলাদেশ

কুরআনে নারীদের পর্দার নির্দেশ এবং বেপর্দার শাস্তি

কাওসার আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার: ইসলামে নারীর পর্দা (হিজাব) হলো শারীরিক ও মানসিক শুদ্ধতা, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষার একটি আবরণ, যা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য হলেও নারীদের ক্ষেত্রে এর বিধান বেশি বিস্তারিত। কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী, এটি চেহারা ও সৌন্দর্য ঢেকে রাখা এবং দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দেয়, যা মুসলিম নারীদের সামাজিক জীবনে শালীনতা ও আত্মমর্যাদা বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিভিন্ন ধরনের পোশাক (যেমন: ইসলামমে হিজাব, নিকাব, এবং বোরকা) এর মাধ্যমে এই পর্দা পালন করা হয় ।

পর্দার মূল উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য
শুদ্ধতা ও নিরাপত্তা: এটি নারী ও পুরুষের মধ্যে সম্মান প্রতিষ্ঠা করে এবং নারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টি ও হয়রানি থেকে রক্ষা করে।
মর্যাদা ও আত্মমর্যাদা: পর্দা নারীর সম্মান ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
সামাজিক ভূমিকা: পর্দা নারীর শিক্ষা, কর্ম, সমাজসেবা, চিকিৎসা ও অন্যান্য দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা দেয় না, বরং আত্মবিশ্বাসের সাথে অংশগ্রহণে সহায়তা করে।

পর্দার বিধান (শরীয়তের আলোকে)
কোরআনের নির্দেশ: মুমিন নারীদের দৃষ্টি সংযত রাখতে এবং তাদের সৌন্দর্য (সতর) ঢেকে রাখতে বলা হয়েছে, অন্য পুরুষের সামনে প্রকাশ করা যাবে না। ইসলাম ধর্মে চুল, বুক, এবং চেহারা ও হাত এবং শরীরের অন্যান্য অংশ ঢেকে রাখা প্রয়োজন, তা অন্য পুরুষের সামনে প্রকাশ করা যাবে না।
পোশাক: হিজাব, নিকাব, বোরকা, চাদর ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের পোশাকের মাধ্যমে পর্দা করা হয়, যা নারীর সৌন্দর্য ও বাহ্যিক রূপ আবৃত রাখে।

পর্দা এবং জীবন যাপন
পর্দা কেবল পোশাক নয়, এটি একটি সামগ্রিক জীবনযাপন পদ্ধতি, যা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।
নারীরা পর্দার বিধান মেনেও সমাজের সকল ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।

ইসলামে পর্দা নারীর শারীরিক এবং মানসিক শুদ্ধতা, নিরাপত্তা, এবং মর্যাদা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত করে। ইসলামী পর্দার মূল উদ্দেশ্য হল, নারী এবং পুরুষের মধ্যে পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা এবং সম্মান প্রতিষ্ঠা করা, যাতে সামাজিক ও পারিবারিক জীবন সুষ্ঠু এবং শালীনভাবে পরিচালিত হয়।
কুরআনে পর্দার নির্দেশ দেয়া হয়েছে,
“মু’মিন নারীকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত করবে এবং তাদের লজ্জাস্থান আড়াল করবে, যা প্রকাশ করা উচিত নয়, কিন্তু তারা তা পর্দার মধ্যে রাখবে।
এক আয়াতে নারীদেরকে তাদের শরীরের বিশেষ অংশগুলো লজ্জাস্থান আড়াল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পর পুরুষের কাছ থেকে, এবং তাদের শালীনতার সাথে চলার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলাম পর্দার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

মূল আয়াত ও নির্দেশনা:
সূরা আন-নূর (২৪:৩১): এই আয়াত অনুযায়ী, নারীদের দৃষ্টি অবনমিত রাখতে, লজ্জাস্থান হেফাযত করতে এবং তাদের সৌন্দর্য (যা সাধারণত প্রকাশ পায়) ছাড়া অন্য কিছু প্রকাশ না করতে বলা হয়েছে; তাদের বক্ষদেশ যেন ওড়না বা চাদর দিয়ে ঢেকে রাখে।
সূরা আল-আহযাব (৩৩:৫৯): এই আয়াতে মুমিন নারীদেরকে তাদের চাদর বা বড় পোশাক নিজেদের উপর টেনে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা পরিচিত হতে পারে এবং তাদের উত্ত্যক্ত করা না হয়, যা তাদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করে।
পর্দার উদ্দেশ্য:
মর্যাদা ও সম্মান: পর্দা নারীর সম্ভ্রম, ইজ্জত ও মর্যাদার প্রতীক, যা তাদের সতীত্ব রক্ষা করে।
শারীরিক ও মানসিক শুদ্ধতা: এটি নারী-পুরুষ উভয়ের অন্তরকে অশ্লীলতা ও মানসিক প্রলোভন থেকে পবিত্র রাখতে সাহায্য করে।
নিরাপত্তা ও শান্তি: পর্দাহীনতা থেকে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধ করে সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি – এটি আল্লাহ্‌র আনুগত্য এবং তাঁর নির্দেশ পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

পর্দার পরিধি:
নারীদের মুখমণ্ডল ও হাতের কব্জি পর্যন্ত অংশ ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশ (যা সাধারণত প্রকাশ পায় না) ঢেকে রাখা প্রয়োজন।

বেপর্দার শাস্তি:
ইসলামে বেপর্দা নারীর শাস্তি এটি একটি গুরুতর গুনাহ হিসেবে গণ্য। কিয়ামতের দিনে এর জন্য কঠোর জবাবদিহি করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- মানুষ জাহান্নামের অধিবাসী হবে বেশি- তাদের মধ্যে একদল হলো সেই নারী, যারা পোশাক পরা সত্ত্বেও উলঙ্গ।” (সহিহ মুসলিম: ২১২৮)
এটি ইঙ্গিত দেয় যে, বেপর্দা বা অশালীন পোশাক পরা নারীদের জন্য আখিরাতে কঠিন শাস্তি নির্ধারিত।

Related Articles

Back to top button