আওয়ামী লীগ নেতার গাড়ি চালাচ্ছেন বিএনপি নেতা সাঈদ

টাইমস ২৪ ডটনেট :ভোলার আওয়ামী লীগ নেতা হেমায়েত উদ্দিনের ব্যক্তিগত একটি গাড়ি এখন চালাচ্ছেন ঢাকার কলাবাগানের বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান সাঈদ। ২০২৪ এর পট পরিবর্তনের পর গাড়িটি দখলে নেন তিনি। তার সঙ্গে আছেন আরো এক বিএনপি নেতা খালেদ কিবরিয়া লাকী। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ নানা অভিযোগ। তাদের এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরীর কলাবাগান থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাঈদ তার চাচা আব্দুল লতিফ কমিশনারের ছত্রচ্ছায়ায় রাজনীতি করছেন। বিএনপি নেতা লতিফ কমিশনারের ছিলো ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এই সুবাদে সাঈদও তাপসের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলেন। তার আপন দুই ভাই শামসুর রহমান মিলন ও দোলন ওয়ার্ড যুবলীগের পদধারী নেতা ছিলেন। একারণে এলাকায় আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতেন না সাঈদ। বিএনপির দলীয় কোনো কর্মসূচি থাকলে মহানগের গিয়ে মিলিত হতেন।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা ভোলার হেমায়েত উদ্দিনের সঙ্গে আগে থেকেই গভীর সম্পর্ক ছিলো সাঈদের। ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর তার ব্যবহৃত লেক্সাস কালো রঙের গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪-০৮৯২) জিম্মায় নিয়ে নেন সাঈদ। এমনকি হেমায়েতের ঠিকাদারি কাজও নিয়ে নেন তিনি। এই গাড়িটি সাঈদ এখন নিজে ব্যবহার করছেন। গাড়িটি সাঈদের শুক্রবাদের বাড়িতে দেখা গেছে। এছাড়া শুক্রবাদের এরাম মদের বার, আকাক্সক্ষা ডেভেলপার, এইচডিএল ডেভেলপার দখলে নেয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এমনিক ধানমন্ডি ক্লাবের বারে মদ ও খাদ্যদ্রব্য সরবরাহের ঠিকাদারী নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন তিনি। কলাবাগান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ কিবরিয়া লাকীর সঙ্গে সমঝোতা করে ক্লাবের টাকা ভাগাভাগি করছেন সাঈদ। বারে ব্যবসা ভালোই বোঝেন সাঈদ। লন্ডনে পড়তে গিয়ে একটি বারে কাজ করেছেন, মদ খেয়ে মাতলামি করে এবং মারামারি করে ৩ বার জেল খেটেছেন। পরে তার চাচা লতিফ কমিশনার তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ২০০৮ সালে তার সঙ্গে রাজনীতিতে নামান। গ্রীনরোডের কনসেপ্ট টাওয়ারে ছাত্রলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন বাবুর দোকান দখলে নিয়ে তা জাসাসের অফিস বানিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর কলাবাগান ও শেরেবাংলা থানার ওসিদের দিয়ে নিরীহ মানুষদের আওয়ামী লীগ বানিয়ে ও আওয়ামী লীগ নেতাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে গ্রেপ্তার বাণিজ্য চালিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নেপথ্যে থেকে তিনি এই কাজ করাচ্ছেন গোল্ড জয়নাল, বিপ্লব ফর্মা, শিপন, হান্নান, সেন্টু, মিরাজ, কালা রাসেল এবং সুইডেন আসলামের শিষ্য বরিশাইল্যা মোটা মাসুদকে দিয়ে। এলাকার শুক্রবাদের ডিশ লাইনের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন সাঈদ। এই ডিশ লাইনের ব্যবসা মদ খাওয়া সেলিমের কাছ থেকে দখলে নিয়েছিলেন সাঈদের ভাই শামসুর রহমান মিলন। ভুতের গলির চাঁদাবাজ রিপন সম্প্রতি গ্রেপ্তার হলে সেনাক্যাম্প থেকে ছাড়িয়ে আনেন সাঈদ।
সাঈদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দুই নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম ও শেখ রবিউল আলম রবির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন। তবে তিনি মনে-প্রাণে ব্যারিস্টার অসীমের স্নেহধন্য বলে জানিয়েছেন সাঈদের ঘনিষ্টজনরা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সাইদুর রহমান সাঈদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে হোমায়েত উদ্দিন তার বন্ধু হিসেবে তার গাড়ি ব্যবহার করছেন বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
এদিকে বিএনপির আরেক নেতা কলাবাগন থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ কিবরিয়া লাকীর বিরুদ্ধেও রয়েছে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই লাকীও ঢাকা-১০ আসনের এমপি ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি করে ব্যালেন্স করে চলতেন। লাকীও লেক সার্কাস রোডে ডিশ লাইনের ব্যবসা করছেন। এক সময় তার এই ব্যবসা আওয়ামী লীগ নেতারা দখল করে নিলে ব্যারিস্টার তাপসের মাধ্যমে তা ফেরত পান। এজন্য লাকী আর রাজনীতি করবেন না বলে তাপসের কাছে মুচলেকাও দেন। আলোচিত ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল হাসানের পান্থপথে লাইফ স্টাইল নামে ফার্নিচারের দোকান দখল করে নিয়েছিলেন। পরে ২৫ লাখ টাকায় দফারফা হয়। জুলাই হত্যা মামলায় আসামী করা ও লেক সার্কাস রোডের বাড়ি দখলের ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগের এক নেতার কাছ থেকে ক্লাবের নামে ইতিমধ্যে ৫ লাখ টাকা ডোনেশন নিয়েছেন। লতিফ কমিশনারের সহযোগিতায় কলাবাগান ক্লাব দখল করে নিজেই কমিটি করে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন লাকী। নবম শ্রেণি পাস লাকী গাড়ি চুরি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী। অভিযোগ আছে, তিনি ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম মইনু ও সিনিয়র সহসভাপতি মান্নানের মাধ্যমে মামলা বাণিজ্য করেছেন। এই চাঁদাবাজির কারণে কলাবাগান থানার ওসি বরখাস্ত হয়েছেন। এমনকি ব্যারিস্টার তাপসের অফিস দখলে নিয়েছে তার আশীর্বাদপুষ্ট মইনু।
সূত্র জানায়, সাইধ ও লাকী মিলে স্কয়ার হাসপাতালের উল্টোদিকে একটি গেস্ট হাউজ এবং অন্যান্য আবাসিক হোটলে অনৈতিক কাজ শেল্টার দিয়ে মাসোয়াারা আদায় করেন। এই কাজের ক্যাশিয়ার জয়নালসহ আরো কয়েকজন। এছাড়া স্কয়ার হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল বর্জ্য অপসারণেষর কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন তারা। এখান থেকে মাসে অন্তত সাড়ে ৩ লাখ টাকা বাটায়োরা করেন। এই কাজ দেখাশুনা করেন মেজবাহ উদ্দিন মনির।