বাংলাদেশ

ওসির কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় মিথ্যা চার্জসিট

মীর সাজু ভোলা চরফ্যাশন থেকে: ওসির কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় মিথ্যা চার্জসিট। ১৭ ধারায় প্রসিকিউসন ভোলার শশীভূষণের পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ডিসি-এসপিকে একাধিক অভিযোগ।। সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে রীট পিটিশন। দাবী ওসিকে দ্রুত অপসারণ- স্থানীয়দের।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, জেলার শশীভূষণ থানার অসাধু স্বভাবের ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তারেক হাসান রাসেল- এর কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় মিথ্যা চার্জশীটসহ পুলিশী ক্ষমতার দাপটে বাদীনির বিরুদ্ধে উল্টো 17 ধারায় প্রসিকিউশন দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে বাদীনিকে থানায় ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারসহ হেনস্তার চাঞ্চল্যকর ঘটনা সংঘটিত হওয়ায় ডিসি-এসপিকে একাধিক অভিযোগ দিয়েও কোন সাড়া না পেয়ে নির্যাতিতা গৃহবধু কর্তৃক লম্পট চরিত্রের ওসিসহ ০৭ জনের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে 12037/25 নং একটি রীট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। রিটে যারা আসামী রয়েছেন তারা হলেন, স্ব-রাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সচিব, পুলিশের মহা-পরিদর্শক, ভোলার জেলা প্রশাসক, চরফ্যাশনের নির্বাহী অফিসার, শশীভূষণের ওসি মোঃ তারেক হাসান রাসেল এবং মামলায়

এজাহারভুক্ত আসামী মোঃ জসিম ও শহিজল ইসলাম গংরা। গত ১১ আগস্ট, 2025খ্রিঃ তারিখে বাদীনির দায়েরকৃত রীট পিটিশনটি হাইকোর্টের বিচারপতি মিঃ মোঃ হাবিবুল গনি ও বিচারপতি মিঃ এস কে তাসীন আলীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বেঞ্চে 126নং আইটেম-এ শুনানীর জন্য রয়েছে। শশীভূষণের পুলিশ প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতির এবং অনৈতিক কর্মকান্ডের এহেন ঘটনায় নির্যাতিতা গৃহবধুর রীট পিটিশনে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে ওসি তারেক হাসান রাসেল এখন বিপাকে পড়েছে বলে স্থানীয় জনমনে গুঞ্জন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে এবং ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, দ্বীপ জেলা ভোলার শশীভূষণ থানা এলাকায় হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের অন্তর্গত 3নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ বাখের হোসেন নামের ব্যক্তি বড় মিস্ত্র্রির কাজ করেন এবং বেশীরভাগ সময় ঢাকায় থাকেন। এই সুবাদে উক্ত বাখের হোসেনের স্ত্রী 2নং সন্তানের গৃহবধুকে একই সাকিনের লম্পট চরিত্রের ও সন্ত্রাসী স্বভাবের জনৈক মোঃ জসিম ও শহিজল নামের ব্যক্তিদ্বয় ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় গৃহবধু (ভিকটিম) বাদী হয়ে বিগত 29 এপ্রিল, 2025খ্রিঃ তারিখে মোঃ জসিম ও শহিজলের বিরুদ্ধে মোকাম ভোলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন 2000 সংশোধিত 2003 এর 9(4)(খ)/30 এবং তৎসহ 323/324 ও 506 (খ) দাঃ বিঃ আইনে কমপ্লেইন পিটিশন নং- 212/25 (শশী) দায়ের করিলে বিজ্ঞ আদালতে উহার শুনানী শেষে মামলাটি এজাহার গ্রহণের জন্য ওসি শশীভূষণ থানাকে নির্দেশ দেন। তৎপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশ প্রাপ্ত হয়ে গত 07-05-2025ইং তারিখে মামলাটি শশীভূষণ থানার জিআর-49/2025ইং (শশী) হিসেবে এজাহার নেন। আসামীদ্বয়কে গ্রেফতার করাতে 30 (ত্রিশ) হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। তাহাতে বাদীনি তাঁর জ্যা এর মোকাবেলায় ওসির হাতে নগদ 10(দশ) হাজার টাকা বুঝিয়ে দেন।


অতঃপর ওসি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা (এস, আই) মোঃ হাফিজুর রহমানকে তাঁর কক্ষে ডেকে নিয়ে বলেন, বাদীনির কাছ থেকে খরচের টাকা পয়সা নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখ পরিস্থিতি কি? পরে বিষয়টি আমাকে জানাবে।
তখন ওসি (তদন্ত) মোঃ জিয়াউদ্দিন ও মামলার তদন্তকারী অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমানদ্বয় পরদিন ঘটনাস্থল বাদীনির বাড়ীতে পরিদর্শনে যাবেন বলে খরচা পাতির জন্য 5,000/- (পাঁচ হাজার) টাকা দাবী করেন। ইহাতে বাদীনির সাথে থাকা 3,000/- (তিন হাজার) টাকা ওসি (তদন্ত) ও এস আই মোঃ হাফিজুর রহমানকে দিয়ে চলে যান। পরদিন তদন্তকারী এস আই মোঃ হাফিজুর রহমান গংরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তদন্তকারী এস আই মোঃ হাফিজুর রহমানের কথিত মতে পরদিন বাদীনি থানায় গেলে ওসি তারেক হাসান রাসেল বাদীনিকে তাঁর কক্ষে ডেকে নেন এবং মামলার সঠিক চার্জসিট পেতে বাদীনিকে কু-প্রস্তাব দেন। ইহাতে ওসির প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওসি বাদীনিকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারসহ হেনস্তা করেন। সেই সঙ্গে ওসি আরো ঘোষণা দেন যে, শালি দেখবি তোর মামলা দিয়েই তোকে জেল খাটিয়ে ছাড়বো। এক পর্যায়ে ওসির কারসাজিতে এবং ওসি (তদন্ত) মোঃ জিয়াউদ্দিন ও তদন্তকারী এস আই মোঃ হাফিজুর রহমানের যোগ সাজসে মামলার এজাহারভুক্ত আসামীদ্বয়ের কাছ থেকে লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের বিনিময়ে বাদীনির ধর্ষণ চেষ্টা মামলার সত্য ঘটনাটি ধামা-চাপার মাধ্যমে সরেজমিনের বিপরীতে উদ্দেশ্যপ্রণোধিত ভাবে ডাহা মিথ্যা চার্জশীট দেন। সেই সঙ্গে উল্টো বাদীনির বিরুদ্ধে 17 ধারায় প্রসিকিউশন দাখিল করেন।
তখন বাদীনি বিষয়টি নিয়ে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে কোন সাড়া না পেয়ে ওসি গংদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবীতে জেলা প্রশাসক ভোলার বরাবরে অভিযোগ দেন। সেখানেও কোন প্রতিকার না পেয়ে গত 11-08-2025ইং তারিখে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশনটি দায়ের করেন।
উল্লেখ্য যে, শশীভূষণ থানার দুর্নীতিবাজ ওসির বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁর পুলিশী হুমকিতে ও ক্ষমতা অপব্যবহারে আইন-শৃঙ্খলারক্ষার বিপরীতে সাধারণ মানুষকে আতংক গ্রস্থ করে বেশ কয়েকটি পরিবারকে বাড়ী ছাড়া করে রেখেছেন। তন্মধ্যে, থানার রসুলপুর 6নং ওয়ার্ডের আঃ জলিল ডাকুয়ার স্ত্রীসহ তাঁর 2 মেয়েকে নিয়া চরম নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দীর্ঘ দেড় মাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ ব্যাপারে জলিল ডাকুয়ার মেয়ে খালেদা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ওসি গংদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপারের বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়া ধর্ষণ চেষ্টা মামলার বাদীনির পরিবারটিসহ তাদের 4টি পরিবার এখন ছন্নছাড়া অবস্থায় রয়েছেন। এ বিষয়ে ওসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ব্যবহৃত ফোনটি রিসিভ না হওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
প্রকাশ করা আবশ্যক যে, শশীভূষণ থানার ওসির এহেন জনহয়রানীমূলক কর্মকান্ডে ভূক্তভূগি পরিবারগুলি ও স্থানীয়দের দাবী ওসিকে অন্যত্র বদলীর জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Related Articles

Back to top button