আন্তর্জাতিকলীড

সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: নজিরবিহীর অর্থনৈতিক সংকট এবং সরকারবিরোধী তীব্র আন্দোলনের মুখে জারি করা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নিয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকার। জরুরি অবস্থা জারির দুই সপ্তাহ পর শনিবার থেকে দেশটির সরকার তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে গত ৬ মে মধ্যরাত থেকে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেন। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশজুড়ে শুরু হওয়া ক্রমবর্ধমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাঝে এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন তিনি।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়বিষয়ক সচিবালয়ের বরাত দিয়ে হিরু নিউজ বলেছে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে দেশটির পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটকের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। অর্থনৈতিক সঙ্কটে ভেঙে পড়া শ্রীলঙ্কার বর্তমান প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানী কলম্বো এবং অন্যান্য শহরে টানা আন্দোলন করে আসছেন দেশটির ক্ষুব্ধ জনগণ।

গত ৯ মে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের হাজার হাজার সদস্য কলম্বোর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সহিংস হামলা চালায়। এতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সাধারণ জনতার সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত ও আরও দুই শতাধিক আহত হন।

পরে হামলার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ জনতা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনসহ বিভিন্ন অফিস-আদালতে অগ্নিসংযোগ করে। সেই সময় শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অন্তত ৭০ জন নেতার বাড়িঘরও পুড়িয়ে দেয় দেশটির সাধারণ জনগণ। এই সহিংসতার পরপরই দেশটির প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের বড় ভাই ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের দ্বীপ দেশ শ্রীলঙ্কা। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ তলানিতে নেমে যাওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ।

করোনাভাইরাস মহামারি, উচ্চাভিলাষী ও অলাভজনক বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারের বিনিয়োগ, ত্রুটিপূর্ণ করনীতি ও সরকারি অব্যবস্থাপনার কারণে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

এর ফলে অনেকদিন ধরে জ্বালানি তেল, খাদ্য, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি করতে পারছে না দেশটি। ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শ্রীলঙ্কার গণপরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা।

সূত্র: পিটিআই, রয়টার্স।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button