আইন-অপরাধজাতীয়

প্রতিবেশী দেশগুলো ভারত থেকে গম নিতে পারবে: ভারতীয় হাইকমিশন

টাইমস ২৪ ডটনেট, ঢাকা: গমের বাণিজ্যিক রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও প্রতিবেশী দেশগুলো ভারত থেকে গম আনতে পারবে। এছাড়া রপ্তানির জন্য ইতিমধ্যে চুক্তিবদ্ধ গমের চালানের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম আমদানি বন্ধ আছে। এখন ভারতও গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে, যা ভোগ্যপণ্যের বাজারে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। সাধারণত ইউক্রেন ও রাশিয়া বাংলাদেশের গম আমদানির শীর্ষ দেশ হলেও যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চ থেকে সেই জায়গায় উঠে এসেছে ভারত। কিন্তু এখন প্রতিবেশী দেশটি থেকেও গম না পেলে পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিবে বাংলাদেশ সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
বলা হয়েছে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে ভারত থেকে গম রপ্তানির ওপর ‘নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ খাদ্যের প্রাপ্যতা রক্ষা, খাদ্য-মূল্যের সাথে সম্পর্কিত মুদ্রাস্ফীতি প্রশমিত করতে এবং ভারতের প্রতিবেশী এবং খাদ্য নিরাপত্তার উদ্বেগসহ অন্যান্য দেশের প্রকৃত চাহিদাগুলোর সমর্থনে এই ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হয়েছে। এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভারত থেকে গমের বাণিজ্যিক রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এই নির্দেশাবলিতে রপ্তানির জন্য ইতিমধ্যে চুক্তিবদ্ধ গমের চালানের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। এই নির্দেশাবলী ভারতের প্রতিবেশী এবং অন্যান্য দেশগুলো যারা তাদের সরকারের অনুরোধে অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা নীতির পরিপূরক হিসাবে এই পণ্য সংগ্রহ করতে আগ্রহী তাদের জন্য গম রপ্তানি সরবরাহ বন্ধ হবে না। চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে দ্রুত বিকল্প বাজার খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন বেসরকারি খাতের গম আমদানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা। কিন্তু সমস্যা হলো ভারতের তুলনায় কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অষ্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশে গমের দাম বেশি। তাই সেখান থেকে গম আনলে দাম অনেক বেশি পড়বে। বাংলাদেশে বেসরকারি পর্যায়ে যারা গম আমদানি করে তাদের মধ্যে টিকে গ্রুপ অন্যতম। এই গ্রুপের ঊর্ধ্বতন পরিচালক তারিক আহমদে বলেন, ‘গমের বিকল্প উৎস আছে কিন্তু দাম অনেক বেশি। ভারতে যেমন এখন প্রতিটন ৪০০ ইউএস ডলার। কিন্তু কানাডায় ৫৪০ ইউএস ডলার। অষ্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানির গমের দামও বেশি। দামের তুলনা করলে এই সময়ে ভারতের কোনো বিকল্প দেখা যাচ্ছে না। আমরা যা শুনেছি তাতে ভারতের গম সরকার টু সরকার হয়তো আমদানি করা যাবে।’ভারত গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করলেও এখন পর্যন্ত যে এলসি খোলা হয়েছে সেই গম সরবরাহ করা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া কোনো দেশ খাদ্য সংকটে পড়লে ভারত সরকার চাইলে সেই দেশে গম রপ্তানির আদেশ দিতে পারে। প্রতিবেশি দেশগুলোর জন্য তারা সরকারি পর্যায়ে গম রপ্তানির একটা ব্যবস্থাপনাও রেখেছে। বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ভারত থেকে তিন লাখ টন গম আনার জন্য এরইমধ্যে চুক্তি করা হয়েছে। যার মধ্যে এক লাখ টন মঙ্গলবার আসার কথা। বাংলাদেশে এখন বছরে গমের চাহিদা ৭৫ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় ১১ লাখ টন। সাধারণত রাশিয়া, ইউক্রেন, ক্যানাডা ও ভারত থেকে আমদানি করে বাকি ঘাটতি মেটানো হয়। গত অর্থবছরে মোট আমদানি করা গমের মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে শতকরা ৪৫ ভাগ, কানাডা থেকে ২৩ ভাগ এবং ভারত থেকে ১৭ ভাগ গম আমদানি করা হয়েছে। বাকি ১৫ ভাগ গম আমদানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা ও অষ্ট্রেলিয়াসহ আটটি দেশ থেকে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আমদানিচিত্র পাল্টে যায়। ১ মার্চ থেকে ১২ মে পর্যন্ত গম আমদানির যে হিসাব তাতে ভারত শীর্ষে আছে। এই সময়ে ছয় লাখ ৮৭ হাজার টন গম আমদানি করা হয়। যার মধ্যে ভারত থেকে শতকরা ৬৩ ভাগ, কানাডা থেকে ১৪ ভাগ আর অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা হয় ২৩ ভাগ। খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আমদানি হয়েছিল ৫৩ লাখ ৪২ হাজার টন। বাংলাদেশে বেসরকারি খাত ছাড়াও সরকার তার বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্পের জন্যও গম আমদানি করে। গত অর্থ বছরে সরকার সরাসরি গম আমদানি করেছে প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার টন। চলতি অর্থ বছরে এপর্যন্ত আমদানি করেছে চার লাখ ৭৮ হাজার টন। বর্তমানে সরকারের কাছে মজুত আছে এক দশমিক এক-আট লাখ টন গম। বাংলাদেশে গমের পর্যাপ্ত মজুত থকলেও এরই মধ্যে আটা ও ময়দার দাম বেড়ে গেছে। প্যাকেটজাত আটার দাম প্রতি কেজি ৪৭ টাকা এবং ময়দা ৬৫ টাকা। কিন্তু গত বছরের শেষ দিকে আটা ছিলো ৩৫ টাকা এবং ময়দা ৪৫ টাকা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button