মতামত

কিছু সময় থাকে : কষ্টের

সৈয়দ মাহামুদ তসলিম: দুঃখ ও কষ্ট কে সহ্য করে পরিস্হিতি মোকাবিলা করার ক্ষমতা ছিল । সাগর দা’র । সজন বন্ধু বা শুভকাংঙ্খিদের কাছে সহসাই দুঃখের কষ্টটা প্রকাশ করতেন না । চট্টগ্রামের খুব বনেদী হিন্দু সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি । তাঁহার বড় (চাচাত) ভাই শ্যামল বিশ্বাস চুয়েট এর ভিসি ছিলেন । ১৯৯৭ সালে সাগর দা সাথে আমার পরিচয় চট্টগ্রামে । তখন আমি বাংলাদেশ নিউজ সার্ভিস (বিএনএস) চট্টগ্রাম প্রতিনিধি । সাগর দা বয়সে ৫/৭ বছরের সিনিয়র । তিনি থাকেন ঢাকায় । কাজ করেন শাহ এম এস কিবরিয়ার সাপ্তাহিক “মৃদু ভাষণ” ম্যাগাজিনে । পরিচয়ের পর জে এম সেন হলের সামনে নাস্তা করেছি , অনেক কথা হল । এর পর আর দেখা হয় নি ।
‘ ৯৯ সালে আমি ঢাকা চলে চলে যায় । শান্তি নগরে মোডে সায়েম টিপু’র নিউজ নেট এ বসতাম । থাকতাম ফকিরাপুল পানির টাঙ্গির অপজিটে। আমি ঢাকায় নতুন , যাব কই । শান্তি নগর থেকে প্রকাশিত সোনালী বার্তা নামে একটি দৈনিকে কাজ করি । ওর মালিক ছিল চট্টগ্রামের । সে সময় আমি পরিচয় হয় সাংবাদিক প্রফুল্ল কুমার ভক্ত (সংবাদ) , প্রবীর দাশ গুপ্ত (জনকণ্ঠ) । সাংবাদিক শওকত রেজা । বর্তমানে তিন জনেই প্রয়াত । এখানে না বললে নই সাংবাদিক প্রফুল্ল কুমার ভক্ত সংবাদে ২৮ বছর কাজ করার পর গুতাগুতি ও কোন্দলে চাকুরী ছাড়তে বাধ্য হন । পরে মামলা করেছিল ।ঐ সব দুঃখের কথা বলেছে । তিনি পরিচিত অনেক সাংবাদিকের কাছে ধর্ণা দিয়েছে তাকে কেউ একটা চাকুরী দেয় নি । পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে তাকাতেন শান্তি নগর মোডের রাজার বাগের দিকে । দুঃখের ঐ সময়ে আমি প্রফুল্ল দা কে শান্তি নগর মোডের অখ্যাত একটা দৈনিকের মালিক ও সম্পাদক কে বলে ৫ হাজার টাকা বেতনের একটা কাজ দিয়েছিলাম । অনেক বছর পরে সম্ভবত ভোরের কাগজে কাজ করেছেন বলে শুনেছি । পরে তো তিনি নিরবে চলে গেলেন। আমাকে খুব স্নেহ করতেন । অবসরে চা খেতে খেতে অনেক গল্প করতাম ।
যাক , দু হাজার সালের শেষের দিকে । আমি আমার এক বন্ধুকে ট্রেনে তুলে দেয়ার জন্য কমলাপুর রেল স্টেশনে যাই ।তখন আমি সালেম সুলেরী ভাই সাদা কালো ম্যাগাজিন ও নিউজ ব্যাংন্কে কাজ করি। রাত ১১ টায় বন্ধুকে তুলে দিয়ে আসার সময় দেখি স্টেশন লবিতে বসে সাগর দা বিডি ফুকাই। যাক দেখা হওয়ার পর দুজনেই নাস্তা করলাম । পারস্পরিক কথা হল। বলল, ম্যাগাজিনের কাজটা ছেড়ে দিচ্ছে । এ বলে বিদায় নিলাম । তার একদিন পর আমি রাত আড়াইটার দিকে দিকে আমি মুগদাপাড থেকে অসতেছি । দেখি কমলাপুর রেল স্টেশনে সিঁড়ির (স্টেপে) বসে তিনি ঝিমাচ্ছে, ডান হাতে জলন্ত সিগারেট আপনা আপনি জ্বলছে । আমি কিছুক্ষন দৃশ্যপট দেখে তাকিয়ে রইলাম । কাছে গিয়ে বললাম “ ও সাগর দা ! এখানে কী গরর। তিনি ডাক শুনে হতচকিত হয়ে উঠলেন । ইতস্ত হয়ে বলল, তসলিম তুমি/ বললাম হ্যা , তারপর লুকোচুরির কিছু নেই । সাগর দা চাকুরী ও নেই বাসা ও নেই । বললাম চলেন, এজিবি কলোনীর সাইড ওয়ার্ক ধরে হাঁটা শুরু করলাম । হাঁটতে হাঁটতে আমার বেচালার বাসায় নিয়ে আসলাম । ফ্লোরিং করে তাকতে দিলাম । খাওয়াটাও আমার ভাগ থেকে । রুম মেট যারা ছিল তারা কেউ ফ্রিজের দোকানে কাজ করে , কেউ মেকানিক শফে । এভাবে তাকে ১৫ দিন রেখে দিলাম । তখন তিনি খুব ঘুম প্রিয় ছিলেন । বেশীক্ষণ ঘুমাতেন । বয়সে সিনিয়র হলে ও ভাল মন্দ আলোচনা করতাম । এক সময় বন্ধুর মত হয়ে গেলাম । ইংরেজী ভাষা জ্ঞানে তাঁহার দক্ষতা ছিল ভালই । পরে পাশের রুমে ভাতে বালিশে ঠিক করে দিলাম । কিনেতু তাঁহার কাছে টাকা পয়সা তেমন নেই । প্রথম মাসের আগাম টুকু আমার থেকে দিলাম । এর মধ্যে। আমি আজকালের খবর নামে একটা পত্রিকায় কাজ করি। অনেকেই করে । দুঃখ হয় অনেকেই এখন বড় বড় হাউজে কাজ করে । ফেইস বুক আই ডি তে তা তুলে ধরে । এক সময় ঐ যে আঁতুড় ঘরে অখ্যাত একটা পত্রিকায় কাজ করেছে তা পরিচয় দেয় না, লজ্জা লাগে। যাক পরে সাগর দা কে বললাম , প্রবীর দা লিডার ইকবাল সোবহান সাহেবের সাথে আলাপ করেছে । আপনাকে অবজার ভাবে গিয়ে দেখা করতে বলেছে । পরে সে সময়ে অনেক বছর অবজার ভোরে ক্রাইম বিটে কাজ করেন ।দেখা হলেই কথা হতো গল্প হতো । আমি আমেরিকা আসার পর ও যোগাযোগটা ছিল ।
হয়ত ম্যাসিন্জারে আর বলবে না, ওবা, তছলিম বদ্দা আর খতা মনত আছে নে••• তো আমি বলতাম , সব খতাই তো মনত আছে! গম থাইক্কো ওবা । এখন আর কথা হবে না । পর পারে ভাল থাকেন সাগর দা ।

লেখক: সৈয়দ মাহামুদ তসলিম, ওয়েস্ট নিউ ইয়র্ক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button