আইন-অপরাধ

বাণিজ্য মেলাকে ‘টার্গেট’ করে জাল টাকা বানাচ্ছিল চক্রটি

টাইমস ২৪ ডটনেট: রাজধানী ঢাকায় বাণিজ্য মেলা এবং শীতকালীন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন উৎসব ও মেলাকে টার্গেট করে জাল টাকা বানাচ্ছিল ছগির হোসেন (৪৭) ও তার চক্র। মেলা ও উৎসবে জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। গত সোমবার রাতে রাজধানীর পল্লবী থেকে এক কোটি ২০ লাখ জাল টাকার নোটসহ চক্রের মূল হোতা ছগির এবং তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার অপর দুজন হলেন, সেলিনা আক্তার পাখি (২০) ও রুহুল আমিন (৩৩)।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আল মঈন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিপুল পরিমাণ জাল টাকা তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ছগির জাল নোট প্রিন্টিংয়ের সময় কাগজের অব্যবহৃত ও নষ্ট অংশগুলো পুড়িয়ে ফেলত। এছাড়া সে সন্দেহ এড়াতে ঘন ঘন বাসা পরিবর্তন করত।

ছগিরকে পল্লবীর বাসা থেকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। জাল নোট ও এসব তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যায় সেখানে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৮ নভেম্বর র‌্যাব-৪ মিরপুরে অভিযান চালিয়ে ২৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকার জাল নোটসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যে ছগির ও তার সহযোগীদের তথ্য পাওয়া যায়।

ছগিরের গ্রামের বাড়ি বরগুনায়। সেলিনার বাড়ি বরিশাল এবং রুহুলের বাড়ি ঝালকাঠি। ছগির পুরান ঢাকা থেকে জাল নোট তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ, যেমন টিস্যু পেপার, প্রিন্টার, ল্যাপটপ ও প্রিন্টারের কালি কিনে করে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে রাখত। সেখানে গোপনে বিশেষ কৌশলে এ-৪ সাইজের ২টি টিস্যু পেপার একসঙ্গে আঠা দিয়ে লাগিয়ে রঙ্গিন প্রিন্টারে ডিজাইনকৃত টাকা তৈরি করা হত। সে দিনে এক লাখ জাল নোট বানাতে পারে।

জাল নোট তৈরির পর সে তার সহযোগীদের মোবাইলে কল করে নিয়ে যেতে বলত। এক লাখ টাকা মূল্যের জাল নোট বানাতে খরচ হয় চার হাজার টাকা। এই এক লাখ জাল নোট পাইকার ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হত ১০-১৫ হাজার টাকায়।

বিভিন্ন উৎসব মৌসুমে ২০-২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হত লাখ টাকা মূল্যের জাল নোট।

খুচরা বিক্রেতারা উৎসবে গিয়ে সেসব কৌশলে সরবরাহ করত। তারা ঢাকা ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই জাল নোট ছড়িয়ে দেয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন জানান, চক্রটিতে ১৫-২০ জন সদস্য রয়েছে। কখনও কখনও ছগির নিজেই বাজারে জাল নোট ব্যবহার করত। কয়েকবার সাধারণ জনগণের হাতে ধরাও পরেছিল।

র‌্যাব জানিয়েছে, ছগির হোসেন ১৯৮৭ সালে বরগুনা থেকে ঢাকায় এসে একটি হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিল। পরে ভ্যানে ফেরি করে গার্মেন্টস পণ্য বিক্রির সময় জাল নোট তৈরি চক্রের সদস্য ইদ্রিসের সঙ্গে পরিচয় হয়। তার মাধ্যমে ছগির জাল নোট তৈরিতে নামে।

২০১৭ সালে জাল নোটসহ ইদ্রিস ও ছগির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর জেল খাটে। ছগির ২০১৮ সালে জামিনে বেরিয়ে ফের একই কাজ শুরু করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button